মো. আফজাল হোসেন, ফুলবাড়ি (দিনাজপুর): দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার ছোট্ট যমুনা নদীর উপর পুরাতন ব্রীজটি সংস্কার না করায় উপরের অংশ ভেঙ্গে পড়ছে। ঝুঁকির মধ্যে চলাচল করছে শতশত ভারি যানবাহন। দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ ১৯৫২ সালের নির্মিত পুরাতন ব্রীজটি সংস্কারের জন্য কোন ব্যবস্তা নেননি। গত ১০ বছর আগে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ নির্মিত এই লোহার ব্রীজটির পাশের্^ একটি নতুন ব্রীজ নির্মান করেন। নতুন ব্রীজটি নির্মান করার আগে এই ব্রীজটি চলাচলের অযোগ্য হিসাবে পরিত্যাক্ত ঘোষনা করেন। ফুলবাড়ীতে বাইপাস সড়ক না থাকায় এই ব্রীজটি ভেঁঙ্গে না ফেলে এই পুরাতন ব্রীজটিকে রেখে বাইপাস সড়ক হিসাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এই ব্রীজটির বর্তমান বয়স ৬৫ বছর ৪ মাস ৯ দিন। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা যুদ্ধো চলাকালীন পাক হানাদার বাহিনীর পুঁতে রাখা ডিনামাইন্ড বিশফরনে এই ব্রীজের পূর্ব দিকের একটি অংশ বিধ্ব্যস্থ হয়। এরপর ব্রীজটির ঐ অংশে সিমেন্ট বালু ঢালাইয়ে একটি অংশ ব্রীজ করেন। বর্তমান ব্রীজের পশ্চিম অংশের দুটি পাট যা মধ্য অংশ দিয়ে যানবাহন চলাচল করে ও অপর দুই অংশের মধ্য দিয়ে সাধারন মানুষ চলাচল করে। কিন্তু এঙ্গেলের উপর খোয়া, বালু , সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করা অংশ ভারি যানবাহন ও মানুষ চলাচলের কারনে ক্ষয় হয়ে গেছে । সেকারনে অনেক অংশে ঢালাই খুলে পড়ছে। ফলে মানুষ দুই দিকের অংশ দিয়ে যাতায়াত করতে পারছেনা। উপরের অংশে নতুন করে ঢালাই দিলে ব্রীজটির জীবন ফিরে আসবে ও সকল প্রকার যানবাহন,সাধারন মানুষ চলাচল করতে পারবে। সড়ক ও জনপথ বিভাগ গত ১৫ বছর ধরে সাংস্কার করার ব্যাপারে কোন পদক্ষেপ না নেয়ায় ব্রীজটির উপর দিয়ে চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। এমন কি নতুন নির্মান কৃত ব্রীজটির পূর্বাঅংশের বেহাল অবস্থা। রাতের আধারে বিচানো ইট গুলি চুরি হয়ে যাওয়ার ফলে সেখানে মাটি বের হয়ে গেছে। সাধারন জনগন দাঁড়িয়ে থেকে দুর পাল্লার যানবাহনে উঠতে পারছেনা। ফলে চরম সংখটে পড়ছে সাধারন যাত্রীরা। এ ছাড়া পুরাতন ব্রীজটির উপরে পানি জমে থাকছে। পানি নিঃস্কাশনের সংযোগ গুলি ধুলোবালিতে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্রীজটি জরুরী ভিত্তিতে দিনাজপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগ সংস্কারের পদক্ষেপ না নিলে যেকোন মুহুর্তে দুর্ঘটনা হওয়ার আশংখা রয়েছে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বিভিন্ন মহল যোগাযোগ মন্ত্রনালয়ের আশুহস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।