রংপুর প্রতিনিধি: খাদ্য মন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেছেন, দেশে কোন খাদ্য সংকট নেই, খাদ্য সংকটের সম্ভাবনা নেই, বর্তমানেএক শ্রেণির ব্যবসায়ী সরকারকে বেকায়দা ফেলতে কৃত্তিমভাবে খাদ্য সংকটের চেষ্টা করছে। এই চেষ্টা সফল হবে না। মঙ্গলবার বিকেলে রংপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলারদের সাথে চলমান গম ও বোরো সপ্তাহ ২০১৭ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিয়ম সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
খাদ্যমন্ত্রী আরো বলেন, এবারের লক্ষমাত্রা অনুযায়ী ১ কোটি ৯১ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হওয়ার কথা, সেখানে হাওরের উৎপাদনের ৩% নষ্ট ও এদিক সেদিক কিছু নষ্ট হওয়ার পরও ১ কোটি ৮০ লক্ষ মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হবে। সেই অনুযায়ী দেশে খাদ্য সংকটের কোন সম্ভাবনা নেই, অথচ হাওরের অবস্থা দেখে অনেকেই বাহিরে গুজব ও মিথ্যে রটিয়ে সরকারের বিরোধী এক শ্রেণির ব্যবসায়ী মজুদদারের মাধ্যমে দেশে খাদ্য সংকটের পায়তারা চলছে, যা সহ্য করা হবে না। বাজারের চালের উর্ধ্বমুল্য বিষয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নে উত্তরে তিনি জানান, হাওরের চাল আগাম বাজারে আসে, যেহেতু সেই চাল আগাম আসেনি এবং এখনও মোটা ধান কৃষকরা কাটেনি তাই বাজারে মোটা চালের একটু দাম বেশি। এই দাম অচিরেই কমে আসবে। মিলাররা খাদ্যমন্ত্রনালয়ের সাথে চুক্তিবদ্ধ হচ্ছে না এই বিষয়ে জানতে চাইলে মন্ত্রী জানান, প্রতিদিনই মিলারদের সাথে চুক্তি হচ্ছে। রংপুর বিভাগে এবারে প্রায় ৮০০ মিলারের মাধ্যমে ২ লক্ষ ৮ হাজার ৫শ ৫৯ মেট্রিক টন চাল সংগ্রহের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী গত তিনদিনে ইতিমধ্যেই ১৩০ জন মিলারের মাধ্যমে ৯ হাজার মেট্রিক টন চাল ক্রয়ের চুক্তিবদ্ধ হয়েছে। মন্ত্রী এই পরিসংখ্যান জানিয়ে বলেন, কোন মিলার চুক্তিবদ্ধের বাহিরে থাকবে না, লক্ষমাত্রা পূরণ হবে ইনশাআল্লাহ। তিনি আরো বলেন, দেশে চালের কোন সংকট থাকবে না, যদি মনে হয় সংকটের পথে তাহলে বিদেশ থেকে চাল দরপত্র আহবান করে চাল আমদানী করা হবে। মন্ত্রী মিলারদের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রতিবছর মিলাররা অনেক লাভ করে, এবার কম লাভ করে দেশ প্রেমে উদ্বুদ্ধ থেকে মিলারদের চাল দেয়ার জন্য উদাত্ত আহবান জানান। রংপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মিলারদের সাথে চলমান গম ও বোরো সপ্তাহ ২০১৭ বিষয়ে মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাথে মতবিনিয়ম সভায় রংপুরের জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ওয়াহিদুজ্জামান এর সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বদরুল হাসান, রংপুর বিভাগের আঞ্চলিক খাদ্য নিয়ন্ত্রক রায়হানুল কবীর।
এ সময় রংপুর বিভাগের খাদ্য অধিদপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রংপুর বিভাগের মিলারমালিকগণ উপস্থিত ছিলেন।