• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন |

ব্লগার রাজীব হত্যা মামলার পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশ

সিসি ডেস্ক: গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দার হত্যা মামলায় ২ জনের মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। রোববার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে ১৬৩ পৃষ্ঠার এই রায় প্রকাশিত হয়। ওই রায়ে দুজনের মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও বিচারিক আদালতে অন্যদের দেওয়া দণ্ডও বহাল রয়েছে। গত ২ এপ্রিল বিচারপতি জাহাঙ্গীর হোসেন ও বিচারপতি মো. জাহাঙ্গীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মামলার রায় দেন।

এই মামলায় মৃত্যুদণ্ড প্রাপ্ত দুই আসামি হলেন- রেদওয়ানুল আজাদ রানা ও ফয়সাল বিন নাইম দীপ।

বিচারিক আদালতে মাকসুর হাসান অনিককে দেওয়া যাবজ্জীবন কারাদণ্ডসহ অন্যদের দণ্ডও বহাল রয়েছে। অন্য আসামিদের মধ্যে এহসান রেজা রুম্মান, নাঈম ইরাদ ও নাফিজ ইমতিয়াজকে ১০ বছর করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এছাড়া তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়।

এই মামলায় আনসারুল্লা বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রাহমানীকে ৫ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও পাঁচ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

আর আসামি সাদমান ইয়াছির মাহমুদকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও দুই হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের কারাদণ্ড দেন আদালত।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের প্রধান মুফতি জসীমউদ্দিন রহমানীসহ বাকিরা নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র।

এই মামলায় ২০১৬ সালের ৭ নভেম্বর হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স ও আসামিদের করা আপিল শুনানি শুরু হয়। চলতি বছর ৯ জানুয়ারি সেই শুনানি শেষে মামলাটি রায়ের জন্য অপেক্ষমাণ (সিএভি) রাখা হয়। গত ২৭ মার্চ হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য ২ এপ্রিল দিন নির্ধারণ করেছিলেন।

যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির দাবিতে গড়ে ওঠা শাহবাগের গণজাগরণ মঞ্চের কর্মী ও ব্লগার আহমেদ রাজীব হায়দারকে রাজধানীর পল্লবীতে তার বাসার সামনে ২০১৩ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি রাতে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওই ঘটনায় রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিনের করা মামলায় ২০১৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর ঢাকার ৩ নম্বর দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন। এছাড়া রায়ে একজনকে যাবজ্জীবন, তিনজনকে ১০ বছর, একজনকে ৫ বছর ও একজনকে ৩ বছরের কারাদণ্ড দেন।

এ রায়ের পর মামলার নথিপত্র ২০১৬ সালের ১৭ জানুয়ারি হাইকোর্টে আসে। পরে প্রধান বিচারপতির নির্দেশনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এই মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। বিচারিক আদালতের সেই রায়ের বিরুদ্ধে আসামিরাও আপিল করেন। অপরদিকে লঘু দণ্ডপ্রাপতদের সাজা বৃদ্ধির জন্য রাজীবের বাবা ডা. নাজিম উদ্দিন হাইকোর্টে আবেদন করেন।

সেসব আবেদনের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রাজিবের বাবার সাজা বৃদ্ধির আবেদন ও সাজার বিরুদ্ধে করা আসামিদের আবেদন উভয়ই খারিজ করে বিচারিক আদালদের দেওয়া দণ্ড বহাল রাখেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ