অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম।।
কুড়িগ্রামের ফুলবাড়িতে নাজমা (৪০) নামের এক গৃহবধূকে নির্মম নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্যাতনের শিকার নাজমা এখন সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছে।
জানা গেছে, জেলার ফুলবাড়ি উপজেলার প্রাণকৃষ্ণ গ্রামে মৃত এরফান আলী সল্লু মেম্বারের পুত্র একরামুল হক (৪২) এর সাথে ২২ বছর পূর্বে বিয়ে হয় সদর উপজেলার হলোখানার মদাজালপাড়া গ্রামের নুরল ব্যাপারীর মেয়ে নাজমার। বিয়ের পর নাজমার বাবার বিশাল সম্পত্তির উপর দৃষ্টি পড়ে স্বামী একরামুলের। সন্তানের মা হতে না হতেই নাজমার উপর যৌতুকের দাবিতে শুরু হয় নির্যাতন। ধীরে ধীরে নাজমার উপর নির্যাতনের মাত্রা বৃদ্ধি পেতে থাকে। এভাবেই ৩ সন্তানের মা হয় নাজমা। সম্প্রতি পিতার সম্পত্তির অংশ থেকে নাজমা ১লক্ষ ১৫ হাজার টাকা স্বামীকে এনে দেন। কিন্তু এতে দাবি পূরণ হয় না স্বামী একরামূলের। তবুও কথায় কথায় চলে শারীরিক নির্যাতন। স্বামীর প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধা ও ভক্তির দুর্বলতায় দিনের পর দিন নির্যাতন সহ্য করে গৃহবধূ নাজমা। নির্যাতনকে কেন্দ্র করে সংসার ভাঙার ভয়ে এলাকার মাতব্বরদের দিয়ে সালিশ বৈঠক করে স্বামীর সংসারের জীবন কাটাতে চায় অসহায় গৃহবধূ নাজমা। কিন্তু এতে বাঁধ সাধে স্বামী একরামুল। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৩শে মে’১৭ইং সকাল ৮টায় ঘুম থেকে উঠে স্বামী একরামুল স্ত্রীর নাজমার সাথে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে আবারো ১ লক্ষ টাকা যৌতুক আনতে বলে বাবার বাড়ি থেকে। এতে অপরাগতা প্রকাশ করায় চূড়ান্ত নির্যাতন চালায় পাষন্ড স্বামী একরামুল। শুরু হয় সিঁড়িতে বেঁধে বেধড়ক মারপিট, কান ও চোখে আঘাতে রক্তাক্ত জখম, চুল ধরে টেনে হেঁচড়ে চোয়ালিতে কামড়া দিয়ে মাংসা ছিড়ে ফেলা এবং সর্বশেষ নিজের শরীর থেকে বেড়োনো রক্ত জিব্বা দিয়ে চাঁটানো। এতে এক পর্যায়ে সংজ্ঞাহীন হয়ে পড়ে গৃহবধূ নাজমা। এলাকাবাসী বাবার বাড়িতে খবর দিলে নাজমার ভাই ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
সরেজমিনে গেলে এমন বীভস্য নির্যাতনের বর্ণনা দেন-গৃহবধূর নাজমার কন্যা সন্তান ইয়াছমিন (১৭)।
এ ব্যাপারে এলাকার স্থানীয় ৯নং ইউপি সদস্য এমদাদুল হক (নির্যাতনকারী একরামুলের ভাই) এর সাথে কথা হলে তিনি জানান, আমার ভাই প্রায়শই এমন নির্যাতন করে আসছিল। আমি চাই অপরাধীর শাস্তি হউক।
এ ব্যাপারে ফুলবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান হারুন উর রশিদ জানান, লোকমুখে শুনেছি নির্যাতনকারী একরামুল মাদকসেবনকারী এবং বাজে প্রকৃতির লোক। তার ভাই মেম্বার এমদাদুল হকের নিকট অভিযোগ পেয়েছি। নির্যাতিত গৃহবধূ সুস্থ হলে বিষয়টি মিমাংসার চেষ্টা করা হবে।
এ ব্যাপারে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফুলবাড়ি থানার এএসআই শ্রী তপন গোপাল জানান, ওসি স্যারের নির্দেশে হাসপাতালে তদন্ত করে নির্যাতনের সত্যতা পেয়েছি। শীঘ্রই আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।