• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৪৭ অপরাহ্ন |

চিরিরবন্দরে এতিমখানার লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুরের চিরিরবন্দর নওখৈর দারুল হাদিস সালাফিয়া ও এতিমখানায় লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। পরিচালক পকেট কমিটি করে বছরকে বছর দায়িত্বে থেকে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়েছে। ১২জন এতিম থাকলেও ৫২ জনের বরাদ্ধ পাচ্ছে সমাজসেবা অফিস থেকে। সিরাজুল হক একই সাথে ৬টি প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন বলে এলাকায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে এবং বর্তমান কমিটির মেয়াদ ২০১৫ সালে শেষ হলেও কোন সাধারন সভা আহবান বা নতুন কমিটি গঠন করেননি। কিন্ডার গার্ডেন স্কুলের ভবন নির্মানের জন্য দিনাজপুর জেলা পরিষদ ২লাখ টাকা বরাদ্ধ দেন। এই কিন্ডার গার্ডেন নিজস্ব জমিতে নির্মান করতে হবে মর্মে শর্তে উল্লেখ থাকলেও নির্মান করা হয়েছে মাদ্রাসার জমিতে। পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম ৪টি প্রতিষ্ঠানে একক কর্তৃত্ব খাটিয়ে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করেছে।
অভিযোগে প্রকাশ, উপজেলা সমজসেবা অফিসার স্বাক্ষরিত তালিকা মোতাবেক ২০১৫ সালে এতিমখানায় এতিমের সংখ্যা ৫৪ জন। বাস্তবে এতিমখানায় অবস্থান করছেন ১২জন এতিম। ১২জন এতিমের স্থালে ৫৪ জনের বরাদ্ধ পেয়ে প্রতিমাসে প্রায় ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করছেন প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক। বিষয়টি উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মাঈনুল ইসলাম জেনেও নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন। একই ভাবে প্রধান শিক্ষক ও পরিচালক বিভিন্ন দাতা ব্যাক্তির কাছ থেকে মোটা অংকের চাঁদা আদায় করে লাখ লাখ টাকা আত্মসাত করছেন বলে এলাকাবাসীর সমাবেশে অভিযোগ। ৮ হাজার টাকা বেতন পেয়ে সিরাজুল হক প্রতি বছর ২/৩ বিঘা করে জমি ক্রয় করেছেন। পচিালক ও প্রধান শিক্ষক এর বাড়ী ১২নং ইউনিয়নে। পরিচালক ইচ্ছামত কমিটি গঠন করেন এবং ইচ্ছামত কমিটি থেকে বাদ দেন। মাদ্রাসার সভাপতি আজিজুল হক চৌধুরী নিজেও জানেনা এতিমখানায় কতজন এতিম আছে এবং মাদ্রাসায় কখন কি হয়। মাদ্রাসায় এতিমদের কোন তালিকা নাই। মাদ্রাসার চাঁদা আদায়ের বই নিজ পকেটে রাখেন। আদায়কৃত চাঁদা মাদ্রাসার হিসাবে জমা হয়না। কোন দিনই কাউকে কোন হিসাব দেন না। কতটাকা প্রতিমাসে চাঁদা আদায় করা হয় তারও সঠিক হিসাব নাই। পরিচালক সিরাজুলের ভাই বাংলায় লেখাপড়া করে হাফেজ হিসাবে শিক্ষকতা করে বেতন ভোগ করছেন। পরিচালক টাকা ও সম্পদের বিনিময়ে এক এতিমখানার ৩ বার নাম পরিবর্তন করেন। সিরাজুল হক একই সাথে একই স্থানে ৪টি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করছেন। মাদ্রাসা পরিচালনা কমিটির মেয়াদ ৩১/০৩/২০১৫ সালে উক্তির্ন হলেও অদ্যাবদি কোন মিটিং আহবান করেননি এবং কমিটি গঠন করেননি। তার খেয়ালখুশি মত পকেট কমিটি গঠন করেন। মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাপক দুর্নীতি হয়ে আসায় এলাকাবাসী ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিবাদ সমাবেশ করলে কিছু ব্যাক্তি ও সমাজসেবা অফিসারকে মোটা অংকের টাকা দিয়ে মুখ বন্ধ করেন। পরিচালক ও কমিটির কিছু সদস্যকে টাকা দিয়ে হাত করেন। মাদ্রাসার পাশে ব্যক্তি মালিকানার জমিতে ৩৫০টি অপ্রাপ্ত মেহগীনি গাছ সিরাজুল ইসলাম নিধন করেছে দেখা যায়। গাছ নিধনের অভিযোগে শাহ আবু হাসনাত আদালতে মামলা দায়ের করেছে। মামলা নং-সিআর-১৩৬,তাং-২৪/০৫/১৭ইং।
কয়েক জন সাংবাদিক নওখৈর ইসলামী দারুল হাদিস সালাফিয়া মাদ্রাসায় সরেজমিনে মাদ্রাসার পরিচালক ও প্রধান শিক্ষকের দুর্নীতির অভিযোগ যাচাই করতে গেলে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক ও কমিটির সদস্যরা উধাও হয়ে যায়। শুধু মাত্র একজন নতুন শিক্ষক রবিউল ইসলামকে পাওয়া যায়। তিনি সাংবাদিকদের কোন প্রশ্নের জবাব দিতে অপরাগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন আমি ২/৩ মাস হলো যোগদান করেছি আমি এসব কিছু জানিনা। মোবাইলে তিনি এবং সাংবাদিকরা পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলামের ০১৭৩৫-৩১৮৫৬৩ নম্বরে যোগাযোগ করার কয়েক বার চেষ্টা করেও তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। বহু চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায়নি। অবশেষে কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলামের সাথে ০১৭১২-৯৭২৫৮৮ নম্বরে মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, এখনতো মাদ্রাসায় কেউ নেই অন্য সময় আসার অনুরোধ জানান। তিনি নিজেও পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সিরাজুলের সাথে মোবাইলে যোগাযোগ করে পায়নি বলে জানান। মাদ্রাসার অনিয়ম ও দুর্নীতি সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠান চালাতে গেলে কিছু অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়। এসব সংশোধন করেই এগিয়ে যেতে হয়। এসব ছোটখাটো বিষয় নিয়ে বেশি না ঘাটাই ভালো। আপনারা অন্য সময় আসেন বা আমরা এবং পরিচালক যোগাযোগ করবেন। বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দেড়টা পর্যন্ত মাদ্রাসায় অপেক্ষা কওে পরিচালকের দেখা না পেয়ে সাংবাদিকরা চলে আসেন। মাদ্রাসা প্রাঙ্গনে অবস্থান কালে সাংবাদিকরা দেখতে পায় জেলা পরিষদের দেয়া ২ লাখ টাকার কিন্ডার গার্টেন ভবন মাদ্রাসার জমিতে অর্ধ নির্মিত হয়েছে। অথচ এই ভবন কিন্ডার গার্টেন এর নিজস্ব জমিতে নির্মান করার কথা। শতাধিক আবাষিক ছাত্র ও শতাধিক এতিমের হিসাব দিলেও ২৫ থেকে ৩০ জন আবাসিক ছাত্র ও এতিম দেখা যায়। শিক্ষক রবিউল জানান, ছাত্ররা ছটিতে গেছে কেউ ঘুমিয়ে আছে। ক্লাশ কখন হলো জানতে চাইলে জানান, সকালেই ক্লাশ শেষ হয়ে গেছে আবার রাতে হবে। ৪টি প্রতিষ্ঠান সেখানে দেখালেও কোন টারই সচ্ছতা দেখা যায়নি। আর সাংবাদিকদেও আগমন টের পেয়ে সবাই উধাও হয়ে যায়। তবে পরিচালক ও প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম জামায়াতে ইসলামীর ঘনিষ্ট সদস্য এবং এলাকাটি জামায়াত অধুসিত। প্রতিষ্ঠান গুলো জামায়াত নিয়ন্ত্রন করছে বলে অনেকে অভিমত ব্যক্ত করেন।
মাদ্রাসার অনিয়ম ও দুর্নীতির প্রতিবাদে এলাকাবাসীর সমাবেশে দাবী করা হয় মাদ্রাসার দুর্নীতি তদন্তে দুদক, জেলা প্রশাসক, শিক্ষা অফিসার, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের আশু হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতিবাজ পরিচালকের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা হোক। মাদ্রাসার প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব দাতা জমি দান করেছেন তারা মাদ্রাসার ব্যাপক দুর্নীতি তদন্তের জন্য দুর্নীতি কমিশনের সরেজমিনে তদন্তে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করার দাবী জানান। নওখৈর দারুল হাদিস সালাফিয়া মাদ্রাসা ও এতিমখানাকে দুর্নীতির অক্টোপাশ থেকে রক্ষার জন্য প্রধানমন্ত্রী,শিক্ষামন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী,জেলা প্রশাসক ও দুদকের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ