• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪২ অপরাহ্ন |

ডিমলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অভিযোগ

নীলফামারী প্রতিনিধি: নীলফামারীর ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে হয়রানি অনিয়ম ও দূর্নীতীর নানা অভিযোগ উঠেছে। হয়রানির শিকার ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়ন পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক ফেরদৌসী বেগম পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বরাবরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

দায়ের করা অভিযোগে জানা যায়, পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের মহা-পরিচালকের চলতি বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারী এক পত্রে ডিমলা উপজেলার খগাখড়িবাড়ি ইউনিয়নের পরিবার কল্যান সহকারী ফেরদৌসী বেগমকে বালাপাড়া ইউনিয়নের পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক পদে স্ব-বেতনে পদায়নের আদেশ দেন। এ নিয়ে গত ৪ এপ্রিল উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কার্যালয়ে উপজেলার মাসিক সভায় পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগম উর্ধতন কতৃপক্ষের সেই আদেশ পাঠ করে হাসি ঠাট্রা করেন এবং আদেশটিকে ভুয়া আখ্যায়িত করেন। তারা সেই বৈঠকে আরো জানান, বালাপাড়া ইউনিয়নে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে ফেরদৌসী বেগম সেখানে এফপিআই (পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক) থাকতে পারবেন না। পরে গত ১১ মে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন ফেরদৌসী বেগমকে তার কার্যালয়ে ডেকে স্ব-পদে ফিরে যাওয়ার জন্য জোরপুর্বক স্বাক্ষর নেন। এ ব্যাপারে ফেরদৌসী বেগম সাংবাদিকদের জানান, আমার পদায়নকে ভুয়া আখ্যায়িত করে আমাকে স্ব-পদে ফিরে যাওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন। আমি তার কথায় রাজি না হলে আমাকে তার কার্যালয়ে ডেকে চাকরী হারানোর ভয় ভীতি প্রদর্শণ করে তার লিখে রাখা আবেদনে জোরপুর্বক স্বাক্ষর নেন। এ বিষয়ে আমি মহা-পরিচালক বরাবরে আবেদন করেছি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কার্যালয়ের একাধিক কর্মচারী জানান, উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মকবুল হোসেন অধীনস্থদের লাম্প গ্রান্ড বিল, গৃহ নির্মাণ লোন, পেনসন ও আনুতোষিক, জিপিএফ, শ্রান্তিবিনোদন ও গৃহ
নির্মান অগ্রীম লোন ফাইল আটকিয়ে তাদের বেকায়দায় ফেলে উৎকোচ আদায় করেন।
উল্লেখ্য যে, মকবুল হোসেন নীলফামারী সদর থেকে গত ২০১১ সালের ৩ আগষ্ট ডিমলা উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন। সংশ্লিষ্ট বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক আফরোজা বেগমের আশীর্বাদ পুষ্ট হওয়ায় এই কর্মকর্তা ডিমলায় যোগদানের পর থেকে ব্যাপক অনিয়ম, স্বেচ্ছাচারিতা, হয়রানি ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠে। এমনকি মহাপরিচালকের স্বাক্ষরিত পদায়নকে ভুয়া আখ্যা দিয়ে মাঠ কর্মীকে জোরপূর্বক স্বাক্ষর গ্রহন করিয়েছে।

এ ব্যাপারে মকবুল হোসেন জানান, মহাপরিচালকের আদেশটি সঠিক ছিল। তিনি কেন স্ব-পদে ফিরে যাওয়ার আবেদন করেছেন সেটি তার ব্যাপার। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়। এ ব্যাপারে নীলফামারী পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের ভারপ্রাপ্ত উপ পরিচালক আফরোজা বেগম জানান, আমার জেলায় কিশোরগঞ্জ উপজেলার বড়ভিটা, জলঢাকা উপজেলার গোলমুন্ডা ও ডিমলা উপজেলার বালাপাড়া ইউনিয়নের তিনটি পরিবার কল্যান পরিদর্শক (এফপিআই) পদ খালি আছে। তার পদায়নের শর্ত ছিল সেখানে এফপিআই পদের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হলে তাকে স্বপদে ফিরে যেতে হবে। এ কারনে তিনি স্ব-ইচ্ছায় স্ব-পদে ফিরে যাওয়ার আবেদন করেছেন, ওই আবেদনের কপি মহা-পরিচালকের বরাবরে পাঠানো হয়েছে। এখন তিনি যে অভিযোগ করছেন সেটি
সঠিক না। তিনি আবারও পদায়নের আবেদন করলে আমরা সেটি মহা-পরিচালকের দপ্তরে পাঠাবো।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ