রফিকুল ইসলাম, রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলাধীন নাজিমখান বাজারে অবস্থিত মেহের উল্লা শিশু সদন (এতিমখানা) যার গভঃ রেজিঃ নং-কুড়ি/রাজা/৭৩৭/২০১৭ ইং নিবন্ধন হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই প্রতিষ্ঠানটি সরকারি কোন ধরণের অনুদান ছাড়াই চলছে। মানুষের সাহায্য ও হাট-বাজারের দোকানদের সাপ্তাহিক অনুদানের টাকায় খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলছে ওই শিশু সদনটি। অর্থের অভাবে এতিম নিবাসীগণের আবাসিক ভবনের বেষ্টনির কাজ অসমাপ্ত হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। প্রতিষ্ঠানটিতে ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি কারিগরি শিক্ষা-বৈদ্যুতিক সরমাঞ্জাদির কাজ, কম্পিউটার, সবজির চাষাবাদ, মৎস্য চাষ, পশু পালন, বিনোদনসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষণের মাধ্যমে আত্মকর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করার পরিল্পনা শিশু সদনের দাতা ও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মো. নুর ইসলামের। প্রত্যন্ত পল্লীর এই প্রতিষ্ঠান হতে অনেক শিক্ষার্থী বর্তমানে কর্মজীবনে সাফল্য অর্জন করেছে। দাতারা আজীবন সদস্য স্থায়ী না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির নির্দিষ্ট কোন আয়ের উৎস নেই। অর্থের অভাবে আবাসিক শিক্ষার্থীদের আধুনিক পরিবেশ থাকার ব্যবস্থা, মেন্যু ভিত্তিক স্বাস্থ্য সম্মত খাবার সরবরাহ করা কর্তৃপক্ষের দুঃসাধ্য হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় মেহের উল্লা শিশু সদনটি সার্বিকভাবে পরিচালনার জন্য সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও সমাজের বিত্তবানদের সহযোগিতা কামনা করছেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. নুর ইসলাম। কথা হয় এতিম শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান (৬), মাসুদুর রহমান (১৪) তারা বলেন, আমাদের এতিম খানায় খুব কষ্টে আমরা বসবাস করছি। সরকার যেন আমাদের এতিম খানার দিকে একটু নজর দেন। প্রতিষ্ঠানের প্রধান হাফেজ মাও. মো. রোস্তম আলী বলেন, প্রতিষ্ঠানটিতে বর্তমান মাত্র ৬ জন শিক্ষক দিয়ে দুই শিফটে ২৮০ জন শিক্ষার্থীকে নূরানী ও হাফেজিয়া শিক্ষার পাঠদান করানো হচ্ছে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ পানির সংকট, টয়লেট, আবাসিক শিক্ষার্থীদের আবাস স্থানের সংকট রয়েছে। সবমিলিয়ে সরকারি অনুদানসহ বিত্তবানরা এগিয়ে এলে এই শিক্ষার্থীরা ইসলামী শিক্ষার পাশাপাশি রাষ্ট্রের বিভিন্ন কর্মকান্ডে তারা নিজেদেরকে আত্মনিয়োগ করবে বলে আশা প্রকাশ করছি। প্রতিষ্ঠানটির সহ সম্পাদক ও বিশিষ্ট ওষুধ ব্যবসায়ী আনোয়ার পারভেজ রিপন বলেন, অত্র প্রতিষ্ঠানটির প্রতিষ্ঠাতা আমার দাদা মেহের উল্লাহ্। তাঁর স্মৃতি ধরে রাখতে আমরা পরিচালনা পর্ষদ নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। পাশাপাশি সরকারি অনুদান এলে আরও ভালভাবে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হবে আশা করছি। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়েছিলাম। ওই হাফেজিয়া ও নূরানী মাদ্রাসাটিতে বিভিন্ন সংকট রয়েছে। তা নিরসনকল্পে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নিকট পত্র প্রেরণ করা হয়েছে, পাশাপাশি উপজেলা পরিষদ থেকে দু’টি টয়লেটের বরাদ্দ দিয়েছি। প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মো. নুর ইসলাম দেশ ও বিদেশের বিত্তবান ও দানশীল ব্যক্তিদ্বয়ের নিকট এতিম শিক্ষার্থীদের পাঠদান ও খাবার সরবরাহের জন্য সাহায্য পাঠানোর জন্য সঞ্চয়ী হিসাব নং-১২৪০৭, অগ্রণী ব্যাংক, নাজিমখান শাখা, রাজারহাট, কুড়িগ্রাম এ বিনীত আহ্বান জানিয়েছেন।