• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৯ অপরাহ্ন |

ধর্ষন চেষ্টার মামলা করায় পালিয়ে বেড়াচ্ছে বাদীর পরিবার

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম : কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর বকসী পাড়ায় প্রতিবেশী এক প্রভাবশালী ব্যাংক কর্মকর্তা ইমতিয়াজ মোনায়েম (পারভেজের) বিরুদ্ধে আদালতে ধর্ষন চেষ্টার মামলা করার অপরাধে প্রায় ৮ মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছে আনোয়ার হোসেনের পরিবার।
কুড়িগ্রাম নারী ও শিশু নির্যাতন আদালতে আনোয়ার হোসেনের স্ত্রী মোছাঃ রোজিনা বেগম মামলা দায়ের করার পর থেকেই আসামী পারভেজ ও তার আত্মীয় স্বজনেরা আনোয়ার হোসেনের পরিবারকে নানা ভাবে প্রাননাশের হুমকীর পাশাপাশি শারীরিক ভাবে নির্যাতন চালাতে থাকে। শুধু তাই নয় ঐ ব্যাংক কর্মকর্তার নামে ধর্ষন চেষ্টার মামলা দায়েরের পরপর বাদী আনোয়ার হোসেন ও তার স্ত্রীর নামেও দুইটি মামলা দায়ের করে আসামীরা। এ অবস্থায় জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ঘর-বাড়ি চেড়ে স্ত্রী সন্তানকে নিয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে পালিয়ে বেড়াচ্ছেন আনোয়ার হোসেন।
অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, সদর উপজেলার কৃষ্ণপুর বকসীপাড়া গ্রামের মৃত আসাদ আলী সরকারের পুত্র ইমতিয়াজ মোনায়েম পারভেজ বর্তমানে সোনালী ব্যাংক রাজারহাট শাখায় কর্মরত আছেন। ইমতিয়াজ মোনায়েম তার প্রতিবেশি দিনমজুর আনোয়ার হোসেন কাজের সন্ধানে বাড়ির বাইরে থাকার সুবাদে তার সুন্দরী স্ত্রী মোছাঃ রোজিনা বেগমকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে দৈহিক মেলামেশার কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। এতে রোজিনা বেগম রাজি না হলে গত ৩০/০৯/২০১৬ইং রাতে ইমতিয়াজ কৌশলে রোজিনা বেগমের ঘরে প্রবেশ করে জোড় পুর্বক ধর্ষনের চেষ্টা করে। এসময় রোজিনা বেগমের চিৎকারে পরিবারের অন্যান্য সদস্য ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে ইমতিয়াজ মোনায়েমকে ধরে ফেলে। পরে এলাকার কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি ইমতিয়াজের বিচারের কথা বলে তাকে ছাড়িয়ে নিয়ে যায় এবং বিচার শালিস বসাতে টালবাহানা করতে থাকে।
আনোয়ার হোসেন গ্রামের মাতব্বরদের নিকট দীর্ঘ সময় ন্যায় বিচারের আশায় ঘুরেও বিচার না পেয়ে গত ২০/১০/২০১৬ইং কুড়িগ্রাম বিজ্ঞ নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনালে ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(৪)(খ) ধারায় একটি পিটিশন মামলা দায়ের করে।
এব্যাপারে রোজিনা বেগমের স্বামী অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেন বলেন, আমি জীবন নাশের আশংকায় প্রভাবশালীদের ভয়ে দীর্ঘ ৮ মাস ধরে বৌ-বাচ্চা নিয়ে নিজের বাড়ি-ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছি। বাড়িতে যেতে পারছি না। আমার নামে ২টা মিথ্যা মামলা দিয়েছে। তারা বিভিন্ন ভাবে এখনও আমাকে হুমকী, ধামকী দিয়ে আসিতেছে। তারা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাকে টাকা দিয়ে তাদের পক্ষে রায় নেয়ারও হুমকী দিয়ে আসিতেছিল। এ অবস্থায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই গোলাম মওলা আমার নিকট ২০ হাজার টাকা দাবী করে। আমি মাত্র ৪ হাজার টাকা দেওয়ায় আসামীদের পক্ষে তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়। আমি ন্যায় বিচার চাই। আমার বাড়ি ঘরে ফিরে যেতে চাই।
অভিযুক্ত ইমতিয়াজ মোনায়েম পারভেজের সাতে কথা হলে তিনি জানান, আপনারা সাংবাদিক অভিযোগ দিয়েছে নিউজ করেন। আমার কিছুই করতে পারবেন না। আমি টেনশনে আছি প্লিজ আমাকে আর বিরক্ত করবেন না। কখনই ফোন দিবেন না।
এব্যাপারে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের এসআই গোলাম মওলা অভিযোগকারী আনোয়ার হোসেনের নিকট ২০ হাজার টাকা চাওয়া বা টাকা নেওয়ার কথা অস্বীকার করে বলেন, ভাই আমি বর্তমানে দিনাজপুরে আছি। কুড়িগ্রামে থাকা অবস্থায় মামলাটার তদন্ত করেছি। তদন্তে যা পেয়েছি তাই রিপোর্ট দিয়েছি। আনোয়ার হোসেন আমাকে কোন টাকা দেয় নাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ