এম আর মহসিন।। দারিদ্রতা আর অভিভাবকহীন জীবনে কখনই তার ঈদ আনন্দ জুটেনি। এমনকি সামর্থবানরা কোনদিন এগিয়ে আসে নি। তাই সংসার হারা শাহানাজ(২৪) কাছে এ দিনটি বিশেষত্য বড়ই কষ্টের। এ উৎসবকে কেন্দ্র করে আবার ৩ থেকে ৪দিন বন্ধ কচুপাতের ব্যাবসায় উপোষ কাটে। তারপরেও শত বঞ্চনায় কোন অভিযোগ নেই। আমরন সংগ্রামি জীবনে সন্তানদের নিয়ে শুধু বাচার আকুতিতে ভবিষ্যতের সুখ-কল্পনার ছবি একে তাই জীবন কাটছে এ নারির।
জানা যায়, সৈয়দপুর শহরের পাশ্ববর্তী সোনাপুকুর এলাকার হত দরিদ্র মকবুলের বড় মেয়ে শাহনাজ। পিতার শরীরে রোগ-ব্যাধি বাসা বাধায় ভিক্ষে করে ৮ সদস্যর সংসারের জীবিকা নির্বাহ করতেন। এতে দিনে একবারো পেট পুড়ে আহার জুটতনা। তাই বাধ্য তার পিতা সৈয়দপুর শহরের একটি বাড়িতে ঝিঁ এর কাজ করার জন্য রেখে দেন শাহনাজকে। এ বাড়িতেই বড় হয়ে তারাই বিয়ে দেন উত্তরা ইপিজেড এলাকার বেলাল হোসেনের সাথে। চার বছরের দাম্পত্য জীবন বড় সুখেই কাটছিল। এর মধ্য কোল জুরে আসে শাহানাজের দুটি সন্তান। এরপরেই স্বামি পরকীয়া প্রেমে মত্ত হয়ে ঘর ছাড়েন। উপায় না পেয়ে শাহনাজ কোলের সন্তানদের নিয়ে কোন প্রতিবাদ না করেই ঘর ছেড়ে সৈয়দপুর শহরের কাজিহাট পানি ট্যাংকি এলাকায় একটি জির্ণ কুটিরে ভাড়ায় আশ্রয় নেন। কর্ম হিসেবে বেছে নেন সবজি বাজারের পচা ও পড়ে থাকা সবজি স্বল্প দরে কিনে সড়কের ধারে খুচরো ব্যবসা। তবে সে ব্যাবসাও পুজির অভাবে হারিয়ে যায়। এরপর শুরু করেন পতিত ক্ষেত কিংবা সড়কের ধারে কচুপাতা কুড়িয়ে বাজারে বিক্রি করা। এভাবে প্রতিদিন দেড় হতে দুই শত টাকা আয় হয়। আর এ দিয়েই চলে তার ঘর ভাড়া,খাবার যোগান ও বাচ্চাদের লেখা পড়া। এভাবে বড় ছেলে শাহেনুর(৭) ও সাজু(৫) আজ প্রাইমারি স্কুলের চতুর্থ ও দ্বিতীয় শ্রেণীতে লেখাপড়া করছে।
তবে এ সন্তান দুটির জন্য কখনোই ঈদেও নতুন জামা কিনতে পারেন নি। এ নিয়ে কষ্ট থাকলেও বেচে আছেন এটিই তার কাছে যেন বড় সান্তনা।
শাহনাজ বেগম বলেন, স্বামি এ শহরেই পিক আপ চালান। তবে খবর রাখেন না। তাই আর সংসারি হওয়ার খথা ভাবি না। এখন শুধু সন্তান দুটো বড় হলেই হলো। স্বস্তির নিশ্বাস ছেড়ে ঈদ আনন্দ নিয়ে এ সংগ্রামি নারি আরো বলেন, দুটো বাচ্চার জামা কেনার সামর্থ আমার নেই। কেউ দেয় না। আর কাছে এ নিয়ে আবদার করি না। শুধু বেচে থাকলেই হলো। তবে ঈদের পরের দুই দিন খুব কষ্টে কেটেছে। আর বর্ষা বন্যায় প্রায় এভাবে অর্ধাহারে কাটে। এনিয়ে আফসোস বা ক্ষোভ নেই। ঈদের আগের দিন সৈয়দপুর শহরের খুচরো সব্জি বাজারের আহলে হাদিস মসজিদের দড়জা সংলগ্ন বাজারে গিয়ে দেখা যায় শমহনাজকে সবুজ কচুপাতার মুঠো বাধা খোলা রেখে বিক্রি করছেন। দেহের কঙ্কালসার চেহারা মনে করিয়ে দিচ্ছে পল্লী কবির আসমানিকে। মনে হয় সারাদিন কিছুই খায়নি সে। আলোচনায় জানা যায় অনাহারি জীবনের বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। তার পাশ্বে অন্যন্য সব্জি বিক্রেতারা জানান, মেয়েটি খুবই পরিশ্রমি। কারো কাছে হাত পাতেন না। অনেক নারী পিপাসুরা তার গতি বিধি লক্ষ্য করে খারাপ প্রস্তাব দিলেও সে পাত্তা দেয় না। নিজেই এর প্রতিবাদ করে। তবে চাওয়া একটাই বেচে আছি এটাই বড়। এরওপর কি চাইব কার কাছে। কে তাকে ফিরেয়ে দেবে সংসার কিংবা নিরাপদ জিবনের নিশ্য়তা। এমন প্রশ্নে সংগ্রামি এ নারির পাশে তাই কোন সমাজপতি কিংবা রাজনিতিকের কাছে কোন উত্তর নেই সমাধানের। শধু তার কষ্টে সমবেদনা প্রকাশ ছাড়া।
কিংবা রাজনিতিকের কাছে কোন উত্তর নেই সমাধানের। শধু তার কষ্টে সমবেদনা প্রকাশ ছাড়া।