• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৩ অপরাহ্ন |

গাজীপুরে বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯

গাজীপুর : গাজীপুরে সোমবার সন্ধ্যায় একটি পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯-এ দাঁড়িয়েছে।  জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ, গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক আখতারুজ্জামান ও ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির এসআই বাচ্চু মিয়া এ তথ্য জানান।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ-পরিচালক আক্তারুজ্জামান জানান, ‘রাত ৯টা পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে ৮ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এসআই বাচ্চু মিয়া জানান, ‘ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সালমান শাহ (৩০) নামের একজন মারা যান। রাত ৯টা ৫০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।   নিহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
গাজীপুর সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা প্রণয় ভূষণ দাশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মাল্টিফ্যাবস নামের ওই পোশাক কারখানায় বয়লার বিস্ফোরণের ঘটনায় ৯জন নিহত হয়েছেন। প্রথমে পাঁচজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরে গুরুতর আহত ব্যক্তিদের মধ্যে আরও চারজনের মৃত্যু হয়।
জয়দেবপুর থানার চক্রবর্তী পুলিশ ফাঁড়ির উপ পরিদর্শক হারুন অর রশীদ জানান, সোমবার গাজীপুর সিটি করপোরেশনের কাশিমপুর নয়াপাড়া এলাকার মাল্টিফ্যাবস লিমিটেড নামের একটি পোশাক কারখানার ডায়িং সেকশনে কাজ চলছিল। ঈদের ছুটির কারণে এদিন কারখানার অন্য সেকশনের উৎপাদন বন্ধ ছিল। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে চার তলা বিশিষ্ট ওই কারখানা ভবনের নিচ তলার বয়লার হঠাৎ বিস্ফোরিত হয়। এসময় পুরো ভবন কেঁপে ওঠে এবং ভবনের নিচ তলা ও দ্বিতীয় তলার বেশ কিছু অংশ ধসে পড়ে। এঘটনায় বেশ কয়েক শ্রমিক হতাহত হয়। বিস্ফোরণের শব্দ শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকে পাঠাতে থাকে। খবর পেয়ে জয়দেবপুর, কালিয়াকৈর ও টঙ্গী ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
এদিকে, বয়লার বিষ্ফোরণের ঘটনায় গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট রাহেনুল ইসলামকে প্রধান করে ৬ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।  আগামী ৭ কার্য দিবসের মধ্যে এ কমিটিকে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। এ কমিটিতে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস, শিল্প পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট দফতরের কর্মকর্তাদের সদস্য করা হয়েছে। তিনি আরো জানান, নিহত প্রতিটি পরিবারকে তাৎক্ষণিক ভাবে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০ হাজার টাকা করে সহায়তার প্রদান করা হবে।
গাজীপুর ফায়ার সার্ভিসের উপ সহকারী পরিচালক আক্তারুজ্জামান লিটন জানান, বিষ্ফোরণের ফলে নিহতদের চেহারা বিকৃত হয়ে পড়েছে। তাদেরকে কোনভাবেই চেনার উপায় নেই।
উল্লেখ্য, ১৯৯২-৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত এ কারখানায় সুইডেন, ডেনমার্ক, জার্মানি, জাপান, রাশিয়া, স্পেন, নেদারল্যান্ডস ও ইউকেসহ বিভিন্ন দেশের কাজ করে থাকে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ