জলঢাকা (নীলফামারী) প্রতিনিধি: নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলার খেরকেটি দ্বীমুখী উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান ও বর্তমান সভাপতির বিরুদ্ধে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করার অভিযোগের তদন্ত করেছে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল ভৌমিক।
গতকাল বুধবার (৫ জুলাই) বিকালে বিদ্যালয়ের হলরুমে অভিযোগকারী, কমিটি, অভিভাবক ও সাংবাদিকদের সামনে এই তদন্ত করেন শিক্ষা অফিসার।
এসময় চাকুরী প্রত্যাশী আপেল মামুদ জানান, বিএনপি সমর্থক বর্তমান ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান তার আপন ছোটভাই, উপজেলা বিএনপির সাংগাঠনিক সম্পাদক ও দলের অর্থ যোগানদাতা জাহেনুর রহমানকে প্রধান শিক্ষক হিসেবে এবং সহকারী গ্রন্থাগারিক পদে তার আত্বীয় আমজাদ হোসেনকে নিয়োগ দিয়ে গোপনে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা জানতে পেরে আমরা চাকুরী প্রত্যাশীরা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সাথে বারবার যোগাযোগ করলে তারা অস্বীকার করেন। এমতাবস্থায় উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারকে অভিযোগ করলে তিনি তাৎক্ষনিক প্রধান শিক্ষককে ফোন দেন। প্রধান শিক্ষক মাধ্যমিক অফিসারকে চলতি বছরের গত ৪ জুন তারিখে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের কথা বলেন। আমি সেই সুত্র ধরে পত্রিকা অফিসে খোঁজ নিয়ে জানতে পারি এই তারিখে উল্লেখিত দুই পত্রিকায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হয়নি। আপেল মামুদ পুনরায় নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এলাকার যোগ্য ও মেধাবীদের আবেদন করার সুযোগ দেওয়ার জন্য তদন্তকারী কর্মকর্তা সহ উপস্থিত সকলের কাছে দাবী জানান।
অন্যদিকে প্রধান শিক্ষক পদে চাকুরী প্রত্যাশী শাহ আব্দুল আজিজ মাষ্টার বলেন, গোপনে নয় প্রকাশ্যভাবে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে যোগ্য ব্যাক্তিদের আবেদন করার সুযোগ দিতে হবে। অভিভাবক মান্নান মেম্বার সভাপতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করে বলেন, ওনার ছোট মেয়ে যদি কলেজে পড়ে তাহলে বড় মেয়ে কি করে স্কুলে পড়ে। সভাপতি হওয়ার জন্যে তিনি এই কাজ করেছেন। এটাও তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী জানান।
এবিষয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মিজানুর রহমান বলেন, আমি কোনকিছু গোপন করিনি। গোপন করলে দুই পদে ৬ জন করে ১২ জন দরখাস্ত করল কিভাবে।
তদন্তকারী কর্মকর্তা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার চঞ্চল ভৌমিক বলেন, আমি উভয়ের বক্তব্য শুনেছি কাগজ পত্র দেখে ব্যবস্থা নেব।