সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুরে শিরিন আক্তার নামে এক গৃহবধুকে তালাকের নোটিশ দেয়ায় ওই গৃহবধু তার স্বামীর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলায় জড়ানোর অভিযোগ মিলেছে। থানায় নারী নির্যাতনের এ মামলার ভয়ে বাড়ী ছাড়া হয়েছে ওই পরিবারটি।
অভিযোগে জানা যায়, শহরের মিস্ত্রীপাড়া মন্দির রোড এলাকার বাসিন্দা নুরুল হোসেন খানের মেয়ে শিরিন আক্তারের সাথে ৬ বছর পূর্বে ইসলামবাগ চিনি মসজিদ (গোলাহাট পুলিশ ফাড়ি সংলগ্ন) এলাকার বাসিন্দা শামীম আহমেদের ছেলে সাহিদ শামীমের বিয়ে সম্পন্ন হয়। বিয়ের পর থেকে শিরিন আক্তার সংসারে মনোযোগী না হয়ে বিলাসি জীবনযাপন করার চেষ্টা করে। স্বামীর অবাধ্য হয়ে শ্বশুড়-শাশুড়ীর সাথে প্রতিনিয়ত ঝগড়া বিবাদ করতে থাকে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ করলে শিরিন বিভিন্ন মামলায় ফাঁসাবে বলে হুমকি দিয়ে আসছিল। এর মধ্যে গত মে মাসের ৩ তারিখে সাহিদের বাসা থেকে স্বর্ণালংকার ও কাপড় চোপড় নিয়ে পিত্রালয়ে চলে যায় শিরিন। যাওয়ার পর তাকে ফিরে আনার অনেক চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন স্বামী সাহিদ। পরে বিষয়টি ওই মাসের ১৩ তারিখে লিখিত ভাবে সৈয়দপুর থানাকে অবহিত করে এবং পরেরদিন শিরিনকে তালাকের নোটিশ প্রদান করে সাহিদ। নোটিশ প্রাপ্তির পর শিরিন ও তার ভাই সৈয়দপুর জিআরপি থানায় কর্মরর্ত পুলিশ সদস্য আশরাফ নানা ধরনের হুমকি দিতে থাকে সাহিদের পরিবারকে। নিরুপায় হয়ে সাহিদ ওই মাসের ১৬ তারিখে নীলফামারী ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে শিরিন, আশরাফ ও রিপনের নামে ফৌজদারি কার্যবিধির ১০৭ ও ১১৭ ধারায় একটি মামলা দায়ের করেন। অবশেষে শিরিনকে সরকারী বিধিমতে তালাক দেন সাহিদ।
এদিকে পূর্ব থেকে দিয়ে আসা হুমকির ধারাবাহিকতার আলোকে শিরিন মে মাসের ২০ তারিখে সৈয়দপুর থানায় একটি মিথ্যা নারী নির্যাতন মামলা দায়ের করেন। মামলায় আসামী করা হয়েছে সাহিদ, তার বোন সানাম আক্তার, পিতা শামীম আহমেদ ও মা শাহানাজ বানুকে। সাহিদ অভিযোগ করেন যে, প্রেমের সম্পর্কের কারণে উভয়ে বিয়ে করি। বিয়েতে আমার স্ত্রীর পরিবার কোন কিছু দেয়নি। বরং শিরিন সংসারে অশান্তি সৃষ্টি করে। অথচ সৈয়দপুর থানায় মিথ্যা মামলায় যৌতুক দাবিসহ অনেক জিনিসপত্র দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। মামলায় উল্লেখিত সব তথ্য মিথ্যা ও বানোয়াট। ওই মামলায় ইতিমধ্যে সাহিদের বাড়ীতে পুলিশ তাদেরকে গ্রেফতার করতে পুলিশ কয়েকবার হানা দেয়। বর্তমানে মিথ্যা মামলায় আসামী হয়ে পুলিশের ভয়ে ঘর ছেড়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে সাহিদের পুরো পরিবার। অভিযুক্তরা মামলাটির সুষ্ঠ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন এবং তারা প্রশাসনের কাছে ন্যায় বিচার দাবি করেছেন।
এ ব্যপারে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আমিরুল ইসলাম সিসি নিউজকে জানান, গৃহবধু শিরিন প্রায় এক মাস আগেই থানাকে মৌখিকভাবে স্বামী সাহিদ কর্তৃক বারবার নির্যাতনের শিকার হচ্ছিল তা অবহিত করে । যার প্রেক্ষিতে উভয় পরিবারের কাছ থেকে বিষয়টি জানার জন্য থানায় ডাকা হয়েছিল। এতে সাহিদ বা তার পরিবার থানায় আসেনি। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিরিনের দেয়া অভিযোগটি তদন্ত করার পাশাপাশি মূল আসামীকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। তবে সাহিদ কর্তৃক শিরিনকে তালাক দেয়ার বিষয়টি অবগত নন বলে তিনি জানান।