• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৩৬ অপরাহ্ন |

হাসপাতালে বান্ধবীকে দেখে এসে আরেক বান্ধবীর আত্মহত্যা

ঝিনাইদহ প্রতিনিধি : হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে কাতরাছে বান্ধবী প্রিয়া খাতুন। হাসপাতালে অসুস্থ্য বান্ধবীকে দেখে এসে বাবা-মায়ের বকুনী শুনে মনের দুঃখে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে অসুস্থ্য প্রিয়া খাতুনের বান্ধবী সুমাইয়া খাতুন (১৪) নামের ৮ম শ্রেণীর এক ছাত্রী। এঘটনাটি ঘটেছে গত শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ঝিনাইদহের মহেশপুর পৌর এলাকার কাজিপাড়া গ্রামে।

কয়েক জন বান্ধবী জানান, গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মহেশপুর পৌর এলাকার জলিলপুর গ্রামের খাইরুল ইসলামের মেয়ে মহেশপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৭ম শ্রেণীর ছাত্রী প্রিয়া খাতুন মা-বাবার উপর অভিমান করে কীটনাশক পান করে। পরে ঐ রাতেই গুরুতর অসুস্থ্য অবস্থায় মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে তার পরিবারের সদস্যরা।

এ খবর শুনে প্রিয়া খাতুনের বান্ধবী পৌর এলাকা কাজিপাড়া গ্রামের মনিরুল ইসলামের মেয়ে মহেশপুর পাইলট মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের ৮ম শ্রেণীর ছাত্রী সুমাইয়া খাতুন গত শনিবার দুপুরে পরীক্ষা শেষে কয়েকজন বান্ধবী মিলে হাসপাতালে অসুস্থ্য প্রিয়া খাতুনকে দেখতে যায়। পরে বাড়ী ফিরতে দেরি হওয়ায় সুমাইয়া খাতুনের বাবা-মা বকুনী দিলে রাতে নিজ ঘরে গলাই ফাঁস দেয়। পরে তাকে গুরুতর অবস্থায় মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত ডাক্তার মাহাবুব আলম তাকে মৃত ঘোষনা করে।

সুমাইয়া খাতুনের বান্ধবী অসুস্থ্য প্রিয়া খাতুন জানান, দুপুর ১টার দিকে বান্ধবী সুমাইয়াসহ কয়েকজন বান্ধবী আমাকে হাসপাতালে দেখতে আসে। কিছু সময় আমার সাথে থাকে। পরে তারা সবাই বাড়ী ফিরে যায়। রাত ১০টার দিকে জানতে পারি আমার বান্ধবী সুমাইয়া খাতুন আমার সাথে দেখা করতে আসার কারণে তাকে গলাই ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে হয়েছে। ডাঃ মাহাবুব আলম জানান, হাসপাতালের নিয়ে আসার পূর্বেই সুমাইয়া খাতুনের মৃত্যু হয়েছে। এঘটনায় মহেশপুর থানায় শনিবার রাতে একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছে।

একই স্কুলের ৮ শিক্ষার্থী গনহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত
ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলার এলাঙ্গী ইউনিয়নের কুল্লাগাছা-আসাননগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮ শিক্ষার্থী গনহিস্টিরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়েছে। রোববার সকালে স্কুলে আসার পর তারা অসুস্থ হয়ে পড়ে। হঠাৎ করে একের পর এক মেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ায় অন্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অসুস্থদের প্রাথমিক ভাবে চিকিৎসা প্রদান করা হয়েছে। ওই বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা সানজিদা জামান জানান, রোববার যথারীতি ক্লাস চলছিল। হঠাৎ করেই পঞ্চম শ্রেণীর একজন ছাত্রী অজ্ঞান হয়ে যায়। এর পর সুমাইয়া, লিজা, লিমা, রোজিনাসহ আরো ৭ জন মেয়ে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। এর পর স্কুলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। ছাত্রীদের অসুস্থ হবার পর মাথায় পানি দিয়ে জ্ঞান ফেরার পর তাদের পরিবারের সদস্যদের কাছে পাঠানো হয়েছে। তিনি আরো জানান, গত বছরও তাদের পাশের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে হঠাৎ করেই বেশ কিছু মেয়ে শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ে। ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষিকা জানান, ধারণা করা হচ্ছে সবাই গণহিসিটরিয়ায় আক্রান্ত হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ