চিরিরবন্দর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: দিনাজপুর রেলওয়ে থানায় কর্তৃব্যরত পুলিশ সদস্য অশোক রায়ের স্ত্রী মনি রায় (২২) আত্মহত্যার ঘটনায় এলাকায় গুঞ্জন সৃষ্টি হয়েছে। স্বামীর অবৈধ সম্পর্কের বাধা দেওয়ায় তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে মর্মে অভিযোগ তুলেছে বাবা ললিত রায়। এক সন্তানের জননী মনি জেলার চিরিরবন্দরের আলোকডিহি ইউনিয়নের কেষ্টহরি গ্রামের সাবেক ইউপি সদস্য ললিত রায়ের কন্যা।
সূত্র জানায়, জেলার খানসামা উপজেলার ভাবকী ইউনিয়নের কাচিনিয়া গ্রামে মুক্তিযোদ্ধা প্রফুল্ল রায়ের ছেলে অশোক রায়ের সাথে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে পুলিশ সদস্য অশোক রায় অন্য মেয়ের সাথে পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে কিছুদিন ধরে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে মনোমালিন্য হয়। বিষয়টি নিষ্পত্তির কৌশলে অশোকের এক নিকটাত্মীয় সৈয়দপুরের বাসায় দুজনকে ডেকে নেয়। কিন্তু সেখানেও দুজনের মধ্যে কথাকাটাকাটির সূত্রপাত ঘটলে গতকাল বুধবার অশোক স্ত্রীকে নিয়ে বাড়িতে ফিরছিল। রাণীরবন্দর নামক স্থানে এসে পৌঁছলে মনি রায় পানি পান করার কথা বলে হোটেলে যায় এবং ফিরে এসে বিষ পান করার কথা স্বামীকে জানায়। ঘটনা শুনে অশোক অসুস্থ মনিকে নিয়ে প্রথমে তাকে সৈয়দপুর ১০০ শয্যা হাসপাতালে নিয়ে যায়। পরে রোগীর অবস্থা খারাপ হলে সে উন্নত চিকিৎসার জন্য দিনাজপুর এম এ রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাত প্রায় সাড়ে ১২ টার দিকে সে মারা যায়।
মেয়ের বাবা ললিত চন্দ্র রায়ের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, অশোক অন্য মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল। অবৈধ সম্পর্কের বাধা দেয়ায় সে আমার মেয়েকে পরিকল্পিত ভাবে হত্যা করেছে। তিনি বলেন, আমার মেয়ের ঘটনাটি তারা রাতেই মিটমাট করার জন্য আমাকে এবং মাইক্রো ড্রাইভারকে হাসপাতালে আটকে রেখে একটা কাগজে স্বাক্ষর দিতে বলে। এতে আমি রাজি হইনি। এ অবস্থায় আমি বাড়িতে খবর দিলে রাত প্রায় ৩টায় আমার বাড়ির লোকজন এসে আমাকে নিয়ে যায়। আজ বৃহস্পতিবার ময়না তদন্ত করতে লাশ মর্গে পাঠানো হয় এবং মেয়ে হত্যার বিচার করতে আইনি প্রক্রিয়া করছে বলেও ললিত চন্দ্র রায় জানান।
খানসামা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মতিন প্রধান জানান, এটি চিরিরবন্দর থানা পুলিশ দেখছে। পরে চিরিরবন্দর থানার ওসি হারেসুল ইসলামের সাথে কথা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি শুনেছি। লাশের ময়না তদন্ত হওয়ার পরে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।