• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২০ অপরাহ্ন |

মমতার ভাতিজার বিরুদ্ধে আর্থিক কেলেঙ্কারির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জমি কেলেঙ্কারির ঘটনায় অভিযুক্ত এক ব্যাক্তির সাথে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস প্রধান মমতা ব্যানার্জির ভাতিজা ও দলের সাংসদ অভিষেক ব্যানার্জির নাম জড়িয়েছে। এ ঘটনায় মমতাকেও আইনি জেরার মুখে পড়তে হতে পারে বলে জানা যায়।

সর্বভারতীয় টিভি চ্যানেল টাইমস নাও তাদের প্রতিবেদনে অভিষেকের বিরুদ্ধে একাধিক তথ্যপ্রমাণ তুলে ধরেছে। সেখানে বলা হয়, অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস প্রাইভেট লিমিটেড’ রাজ কিশোর মোদি নামে এক জমি দালালের কাছ থেকে কয়েক দফায় বিশাল অঙ্কের রুপি নিয়েছে। এই রাজ কিশোরের বিরুদ্ধেই জোর করে জমি দখল ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে তদন্ত চলছে।

টাইমস নাও’র প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিষেকের সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’এ দেড় কোটিরও বেশি রুপি বিনিয়োগ করেছে রাজ কিশোর মোদি। সেসময় অভিষেককে একটি বিরাট পরিমাণ কমিশনও দেয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তখন ওই সংস্থার পরিচালক ছিলেন অভিষেক।

জমি দখল ও খুনের চেষ্টার অভিযোগে ২০০৯ সালে এই রাজ কিশোরের বিরুদ্ধেই বিক্ষোভ দেখিয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা ব্যানার্জি। এমনকি রাজ কিশোরের গ্রেফতারেরও দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। আর সেই রাজই কিনা অভিষেকের সংস্থায় রুপি ঢেলেছেন।

টিভি চ্যানেলটিতে তুলে ধরা তথ্যপ্রমাণে দেখানো হয়, ২০১২ ও ২০১৩ সালে অভিষেক ও রাজ কিশোর- দুই জনের সঙ্গেই সম্পর্ক ছিল চার্টার্ড অ্যাকাউট্যান্ট অশোক তুলসিয়ানের। তিনি একদিকে যেমন রাজ কিশোর মোদির সংস্থা ‘গ্রীণ টেক সিটি প্রাইভেট লিমিডেট’র ডিরেক্টটর ছিলেন, তেমনি অভিষেক ব্যানার্জির সংস্থা সংস্থা ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’র অডিটর হিসেবে দায়িত্ব সামলেছিলেন।

কিন্তু মমতার দুর্ভাগ্য যে ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’ সংস্থার তৎকালীন ডিরেক্টর অভিষেক ও তার স্ত্রীর বাড়ির ঠিকানা দেয়া রয়েছে মমতার দক্ষিণ কলকাতার ৩০বি হরিশ চ্যার্টার্জি রোডের বাসার। স্বাভাবিকভাবেই বেশ অস্বস্তিতে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

২০১৪ সালে দক্ষিণ চব্বিশ পরগনা জেলার ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্র থেকে তৃণমূল সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে মমতার কালীঘাটের বাড়িতেই বসবাস করছেন অভিষেক ব্যানার্জি। যদিও সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর ‘লিপস অ্যান্ড বাউন্ডস’র ডিরেক্টর পদ থেকে ইস্তফা দেন তিনি।

এ ঘটনায় তৃণমূলের সিনিয়র সাংসদ সৌগত রায় জানান, ‘আমি এ ঘটনার কিছুই জানি না। আমার মনে হয় এটি পুরোপুরি ভুয়া অভিযোগ। ’

কিন্তু বিরোধী দল সিপিআইএম ও কংগ্রেস তা মানতে নারাজ। বিরোধীরা প্রশ্ন তুলছে, জমি কেলেঙ্কারিতে বিহারের সাবেক উপমুখ্যমন্ত্রী ও রাষ্ট্রীয় জনতা দল (আরজেডি) নেতা তেজস্বী যাদবের নাম জড়িয়ে যাওয়ায় যদি তার বাবা লালু প্রসাদ যাদবকে টানা হয়, তবে অভিষেকের ঘটনায় মমতাকে ছাড় দেয়া হবে কেন? দেশটির সংসদে এ বিষয়টি উত্থাপন করা হবে বলে জানায় তারা।

কংগ্রেস সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী জানান, ‘আমি আশা করব যে সাংবাদিক ঘটনাটি সামনে এনেছেন তার নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা হোক। ’

সিপিআইএম সাংসদ মোহাম্মদ সেলিম জানান, ‘আমার মনে হয় না এ ঘটনায় কারো বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নেয়া হবে। বরং ওই টিভি চ্যানেলটির বিরুদ্ধেই হয়তো মামলা হবে। আমরা বিষয়টি এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটকে  (ইডি) দিয়ে তদন্ত করার দাবি জানাচ্ছি।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ