হারুন উর রশিদ সোহেল, রংপুর : রংপুর সিটি করপোরেশন এলাকার প্রধান প্রধান সড়কগুলো এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সড়কের মধ্যে বড় বড় গর্তে পরিণত হওয়ায় প্রতিনিয়তই দুর্ঘটনা ঘটে চলছে। গর্তগুলো দেখে মনে হয়, সড়কে কেউ পুকুর খননের জন্য খুঁড়ে রেখেছে। দুর্ঘটনা এড়াতে সড়ক সংস্কারের দাবিতে স্থানীয়রা বহুবার আন্দোলন করলেও কানে উঠছে না কর্তৃপক্ষের। ফলে নিদারুণ কষ্টে পথচলতে হচ্ছে সাধারণ মানুষের।
সরেজমিনে দেখা গেছে, মহানগরীর শাপলা চত্ত্বর থেকে গণেশপুর মোড় হয়ে কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনাল পর্যন্ত পৌঁছতে বহু জায়গায় বড় বড় গর্ত ছাড়াও ছোট ছোট খানাখন্দ তৈরি হয়েছে। মাঝে মধ্যে ওই গর্তগুলো ভাঙা ইট দিয়ে কোন রকমে সংস্কার করা হলেও তা কয়েকদিনের মধ্যে আগের অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
একই অবস্থা শাপলা চত্ত্বর থেকে স্টেশন রোডের দিকে। শাপলা চত্ত্বর তেল পাম্পের সামনে ছোট বড় গর্তের হিড়িক গিয়ে শেষ হয়েছে ষ্টেশন এলাকায়। এইসব গর্ত স্থানীয়দের দাবির মুখে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কতবার যে পূরণ করেছে তার কোন হদিস নেই। ঘুরে ফিলে আবার সেই অবস্থা। এই শুধু নগরীর ব্যস্ততম এই সড়কজুড়েই নয়। একই চিত্র যেন জিএল রায় রোডের জাহাজ কোম্পানি শপিং কমপ্লেক্সের কাছ থেকে কামাল কাছনা বাজার এলাকা পর্যন্ত। এই সড়কও ছোট বড় গর্তের কারণে চলাচল অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কখনো কখনো সামান্য বৃষ্টিতেই জমে থাকছে হাটুপানি।
স্থানীয়রা বলছেন, একদিকে সড়কে ছোট বড় গর্ত, অন্যদিকে ড্রেন নির্মাণ। এই দুই-এ নাকাল নগরবাসী। ড্রেন নির্মাণে কালক্ষেপনে যেন দুর্ভোগ আরো চরমে উঠেছে।
নগরীর টার্মিনাল সড়ক সংস্কারের দাবিতে গত মাসে দীর্ঘ মানববন্ধন করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
তাদের অভিযোগ, মানববন্ধন করার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তড়িঘড়ি করে ইটেরগুঁড়ি দিয়ে গর্তগুলো কোন রকমে ঠিক করে গেলেও পরে আবার বৃষ্টি হতে না হতেই সেই পূর্বের বেহাল দশায় পরিণত হয় সড়কটি।
সরেজমিনে দেখা গেছে, প্রতিদিনই এই সড়কে শত শত ঢাকাগামী কোচ নাইট কোচ চলাচল করছে। এছাড়া লোকাল বাস ও ট্রাক তো আছেই। আছে অন্যান্য যানবাহনেরও চলাচল। সড়কটিতে বড় বড় গর্ত হওয়ায় প্রতিদিনই দুর্ঘটনা ঘটছে। গর্তে আটকে যাচ্ছে গাড়ি। প্রতিদিন গাড়ি টেনে হিঁচড়ে দিতে স্থানীয় ব্যবসায়ী এবং পথচারীদের নাভিশ্বাস উঠে গেছে।
রংপুর সিটি করপোরেশন মেয়র সরফুদ্দিন আহমেদ ঝন্টু জানান, সংস্কার কাজ হচ্ছে। একবারে তো সব কাজ করা সম্ভব হয়। ধীরে ধীরে সব সমস্যার সমাধান হবে।