সিসি ডেস্ক: নড়াইলে বিশ্ববরেণ্য চিত্রশিল্পী এসএম সুলতানের ৯৩তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে জেলা প্রশাসন ও সুলতান ফাউন্ডেশনের আয়োজনে শিল্পীর মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, মাজার জিয়ারত, মিলাদ মাহফিল, চিত্রাংকন প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত হয়।
সুলতান কপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো. এমদাদুল হক চৌধুরী। এ সময় বক্তব্য দেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. কামরুল আরিফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) কাজী মাহাবুবুর রশীদ, জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুর রহমান হিলু, সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) শিমুল কুমার সাহা, জেলা কালচারাল অফিসার হায়দার আলী, এস এম সুলতান বেঙ্গল আর্ট কলেজের অধ্যক্ষ অশোক কুমার শীল, এস এম সুলতান শিশু ও চারুকলা ফাউন্ডেশনের সভাপতি শেখ হানিফ প্রমুখ।
প্রসঙ্গত, ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট এই দিনে তৎকালীন মহকুমা শহর নড়াইলের চিত্রা নদীর পাশে সবুজ শ্যামল ছায়া ঘেরা, পাখির কলকাকলীতে ভরা মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন শিল্পী এস এম সুলতান। তার পিতা মো. মেছের আলি মাতার নাম মোছা. মাজু বিবি।
চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ৭০ বছরের বোহেমিয়ান জীবনে তিনি তুলির আঁচড়ে দেশ, মাটি, মাটির গন্ধ আর ঘামে ভেজা মেহনতী মানুষের সাথে নিজেকে একাকার করে সৃষ্টি করেছেন ‘পাট কাটা, ধানকাটা, ধান ঝাড়া, জলকে চলা, চর দখল, গ্রামের খাল, মৎস শিকার, গ্রামের দুপুর, নদী পারা পার, ধান মাড়াই, জমি কর্ষনে যাত্রা, মাছ ধরা, নদীর ঘাটে, ধান ভানা, গুন টানা, ফসল কাটার ক্ষনে, শরতের গ্রামীন জীবন, শাপলা তোলা’ মত বিখ্যাত সব ছবি।
এস এম সুলতান ১৯৮২ সালে একুশে পদক, ১৯৮৪ সালে বাংলাদেশ সরকারের রেসিডেন্স আর্টিস্ট হিসেবে স্বীকৃতি, ১৯৮৬ সালে চারুশিল্পী সংসদ সম্মাননা এবং ১৯৯৩ সালে রাষ্ট্রীয় ভাবে স্বাধীনতা পদক প্রদান করা হয়েছিল। ১৯৯৪ সালের ১০ অক্টোবর যশোরের সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে মৃত্যুবরণ করেন বরেণ্য শিল্পী এস এম সুলতান।