• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৮ অপরাহ্ন |

বঙ্গবন্ধুর নাম ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে- অ্যাটর্নি জেনারেল

ঢাকা: প্রচলিত একটি প্রবাদ উল্লেখ করে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলম অভিযোগ করেছেন, সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে বঙ্গবন্ধুর নাম ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, “গ্রামে-গঞ্জে একটি গালি আছে- তা হলো ‘বাপের নাম ভুলিয়ে দিব’। এ রায়ের মাধ্যমে সে অপচেষ্টাটাই হয়েছে।”

শনিবার সুপ্রিম কোর্টে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে অ্যাটর্নি জেনারেল এ কথা বলেন। বঙ্গবন্ধুকে অবমাননা করা অত্যন্ত গর্হিত কাজ হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘একদিন না একদিন এটা রায় থেকে বাদ যাবে।’

সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী অবৈধ ঘোষণার রায়ে অন্যান্য অনেক প্রসঙ্গের পাশাপাশি প্রধান বিচারপতি তার পর্যবেক্ষণে লেখেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতা কোনো একক ব্যক্তির কারণে হয়নি।’ এই বিষয়টি ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ করে তুলেছে আওয়ামী লীগকে।

প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাও এই মন্তব্যের পরোক্ষ সমালোচনা করেছেন। বলেছেন, বাংলাদেশের জন্মে বঙ্গবন্ধুর অবদান অস্বীকারকারীদের দেশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস রয়েছে কি না, তা নিয়ে তার সন্দেহ রয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেছেন, ইতিহাস বিকৃতির সঙ্গে জড়িতদের বিচার হবে সময় মত।

এই রায়ে অপ্রাসঙ্গিক এবং অবমাননাকর বিভিন্ন মন্তব্য এক্সপাঞ্জ করতে সরকার উদ্যোগ নেবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। এরই মধ্যে আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীরা প্রধান বিচারপতির অপ্রাসঙ্গিক বক্তব্য, পর্যবেক্ষণের প্রতিবাদে কর্মসূচিও দিয়েছে।

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘আদালত বলেছেন যে স্বাধীনতা যুদ্ধ একজনের প্রচেষ্টায় হয়নি- এটা অহেতুক কথা, বঙ্গবন্ধুকে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে।’

মাহবুবে আলম বলেন, ‘সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনী বাতিল করে আপিল বিভাগের রায়ে স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে যে অভিমত দেওয়া হয়েছে তা সারা দেশের মানুষের বিবেক তাড়িয়ে নিয়ে বেড়াচ্ছে।’

অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, ‘(এটা) প্রতিষ্ঠিত যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু, তার একক পরিকল্পনায় স্বাধীনতা যুদ্ধ হয়েছে। তিনিই স্বপ্নদ্রষ্টা; বাংলাদেশের নামকরণ করেছেন তিনি। দেশে সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হয়েছে তার নামে। অথচ বলা হলো, স্বাধীনতা যুদ্ধ একজনের প্রচেষ্টায় হয়নি। এটা বলে সকলের বিবেককে আঘাত করা হয়েছে। শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি করা হয়েছে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ