• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩৫ অপরাহ্ন |

সৈয়দপুরে বন্যায় ৩ হাজার ৪৫ লাখ টাকার ফসলের ক্ষতি

এম আর মহসিন, সিসি নিউজ: সৈয়দপুরে বন্যায় ফসলের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। প্রায় ১৯ হাজার কৃষকের কবলে পড়ে বিপর্যয়ের আশংকায় পড়েছে উৎপাদনের লক্ষ্য মাত্রা। তবে স্থানিয় কৃষি অফিস ও কৃষকদের তৎপরতায় আবারো সফলতার স্বপ্নে ঘুরে দাড়ানোর চেষ্টা চলছে এ জনপদের কৃষিতে।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিস জানায়, চলতি মৌসুমে এ উপজেলার কামার পুকুর, কাশিরাম বেলপুকুর, বাঙ্গালীপুর, কামারপুকুর, বোতলাগাড়ী, খাতামধুপুর ও পৌরসভা সহ কৃষকরা আমন রোপা ৭ হাজার ৯ শত ৭৯ হেক্টর, বিভিন্ন শাকসব্জি ১০৫ হেক্টর, আদা ১৯ হেক্টর, হলুদ ৩০ হেক্টর, মরিচ ২৫ হেক্টর, কলা ৪০ হেক্টর, পেপে ৩০ হেক্টর মিলে মোট ৮ হাজার ২ শত ২৮ হেক্টর জমি চাষাবাদ করেছিলেন। অতিবৃষ্টি, উজানের ঢল, শহর রক্ষা বাধ ও চওড়া এলাকা মিলে তিনটি স্থানে বাধ ভাঙ্গার কারনে উচু ও নি¤াœঞ্চল প্লাবিত হয়ে প্রায় দশ দিন জলাবদ্ধ থাকে। এতে এসকল ফসলের ক্ষেত ক্ষতির সম্মুখিন হয়।
এর মধ্যে দুর্যোগে আক্রান্ত হয় ৫ হাজার ৭শত ৪ হেক্টর জমি। এতে সামান্য রক্ষা পেলেও প্রায় সব ফসলি জমি পানিতে নিমজ্জিত থেকেছে। এরমধ্যে ২ হাজার ৭ শত ৪৭ হেক্টরের চাষাবাদ সম্পুর্ন নষ্ট হয়। আর আংশিক ও সম্পুর্ন আংশিক নষ্ট হয়েছে ৩ হাজার ৩ শত ৯ হেক্টর। এসব জমি হতে প্রায় ৯ হাজার ৬ শত ৫৭ মেঃ টন বিভিন্ন শস্য উৎপাদিত হত। যার বাজার মুল্য ৩ হাজার ৪৫ লাখ টাকা।
গত মঙ্গলবার এ উপজেলার ৫টি ইউপি ও পৌর এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অনেক রোপা ক্ষেত এখনো এক থেকে ২ ফুট পানির নিচে নিমজ্জিত আছে। অনেক এলাকায় আবার জেগেছে ফসলের ক্ষেত। তবে বেশির ভাগ আমন ক্ষেতই পচেঁ গেছে।
কৃষকরা জানায়, রোপা লাগানোর পর যারা রাসয়নিক সার প্রয়োগ করেছেন তাদের ফসলগুলো পঁচে গেছে। আর যে গুলো নষ্ট হয়নি সেগুলো গত দুই দিনের হালকা বৃষ্টিতে কাদা ধুয়ে যাওয়ায় কিছুটা আশা জেগেছে।
পৌর ১১ নং ওয়াডের শহররক্ষা বাধ সংলগ্ন এলাকার কৃষক মিলন জানান, প্রায় ৩ একরে আমন চারা রোপন করেছিলাম। দশ দিনের জলাবদ্ধতায় উচু আমনক্ষেতগুলো রক্ষার সম্ভাবনা আছে। তবে নিচুগুলো কাদায় মিশে গেছে। কাশিরাম ইউপির কুমার পাড়া এলাকার কৃষক দিলীপ জানান, প্রায় ২ একর জমির নিমজ্জিত আমনের ক্ষেত জেগেছে। এতে স্থানিয় কৃষি অফিসের পরামর্শে পরিচর্যায় কিছুটা লাভবান হয়েছি। তবে ফসল পচে যাওয়া কৃষকরা আবার বীজতলা তৈরী করেছে। অনেকে পুরোনো ক্ষেতের কুঁশি ছিড়ে আমন লাগাচ্ছে। তাই অনেক কৃষক আমনসহ অন্যন্য ফলন নিয়ে আশায় বুক বাধছেন। এ অবস্থা প্রায় ১৯ হাজার কৃষকের।
সৈয়দপুর উপজেলার উদ্ভিদ সংরক্ষন উপ-সহকারি কর্মকর্তা সুনীল কুমার দাস বলেন, যে সকল ধানের চারা জেগেছে তাতে ৩৩ শতকে ৫ হতে ৭ কেজি ইউরিয়া দিলে আবারো পুর্বের মতো হয়ে উঠবে। তারপরেও সহায়তায় হাত বাড়িয়েছে স্থানিয় কৃষি অফিসসহ উপজেলা প্রশাসন। সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ বজলুর রশিদ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোঃ মোকছেদুল মোমিনের সার্বিক সহযোগিতায় স্থানিয় কৃষি অফিসের মাধ্যমে গত ২৩ আগষ্ট ক্ষতিগ্রস্থ ১শত কৃষককে ৪ কেজি করে ব্রী-৩৪ ধানের বীজ ও ২ শতাধিক কৃষককে আমনের চারা দেয়া হয়েছে। কৃষি অফিস ও কৃষকদের প্রচেষ্টায় বিধ্বস্ত এ জনপদে তাই চাষাবাদে কর্মব্যস্ততা বেড়েছে বহুগুনে।
বাংলাদেশ ধান গবেষনা ইন্সটিটিউট বলছে, বন্যায় রোপা নষ্ট হলেও এখোনো পর্যাপ্ত সময় আছে, আগামি ৩০ আগষ্ট পর্যন্ত বীজতলা করা যাবে। আর এ বীজের চারায় আবারো রোপন করা যাবে আমন ক্ষেত।
সৈয়দপুর উপজেলা কৃষি অফিসার হোমায়রা মন্ডল বলেন, বন্যা বিধ্বস্ত এ জনপদে কৃষিতে সার্বিক সহায়তা দেয়া হচ্ছে। চারা থেকে বীজ পর্যন্ত। তবে তা সামান্য। আমাদের কৃষকরা রিয়েল হিরো তাদের কর্ম প্রচেষ্টায় আবারো ঘুরে দ্বারাবে এ জনপদের কৃষি। তাই আর যদি অতি বৃষ্টি,বন্যা কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হয় তাহলে আমাদের উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্র অর্জিত হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ