• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩৪ অপরাহ্ন |

‘লাব্বাইক’ ধ্বনিতে মুখরিত হবে আরাফাত ময়দান

সিসি ডেস্ক : আজ পবিত্র হজ। লাখ লাখ হজ পালনকারী আল্লাহর মেহমানদের কণ্ঠে ধ্বনিত হবে ‘লাব্বাইক আল্লাহুম্মা লাব্বাই, লাব্বাইকা লা শারিকা লাকা লাব্বাইক, ইন্নাল হামদা ওয়ান নি’মাতা লাকা ওয়াল মুলক, লা শারিকা লাক।’ মিনা থেকে দলে দলে আরাফাতের ময়দানে যাচ্ছেন হাজিরা।
সৌদি আরবের সংবাদ মাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী, বিশ্বের ১৭১টি দেশের প্রায় ২৫ লাখের বেশি ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ করছেন, যাদের মধ্যে বাংলাদেশির সংখ্যা ১ লাখ ২৭ হাজারের বেশি।
বুধবার হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর পর মক্কার কাবা শরিফ থেকে রওনা হয়ে ৫ কিলোমিটার দূরে মিনায় জড়ো হন হজ করতে আসা মুসলমানরা। ইবাদত-বন্দেগিতে মিনায় রাত কাটানোর পর আল্লাহর নৈকট্য লাভের আশায় তারা জিকির করেন, জামায়াতের সঙ্গে নামাজ পড়েন।
হজের মূল আনুষ্ঠানিকতার জন্য বুধবার এশার নামাজের পর থেকেই তারা মিনা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে আরাফাতের ময়দানের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেন। সেলাইবিহীন শুভ্র এক কাপড়ে বৃহস্পতিবার সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সেখানে থাকবেন তারা।
মুসলমানদের কাছে পবিত্র এই ভূমিতে তারা যার যার মতো সুবিধাজনক জায়গা বেছে নিয়ে পাপ থেকে মুক্তির আশায় ইবাদত করবেন; হজের খুতবা শুনবেন এবং নামাজ পড়বেন।
সৌদি আরবের গ্র্যান্ড মুফতি আবদুল আজিজ আল শাইখ আরাফাতের মসজিদে নামিরাহ থেকে হজের খুতবা দেবেন। রেডিও ও টেলিভিশনে তা সম্প্রচার করা হবে বিশ্বময়।
প্রায় ৪ বর্গমাইল আয়তনের সমতল এই ময়দানের দক্ষিণে মক্কা হাদা তায়েফ রিং রোড, উত্তরে সাদ পাহাড়। সেখান থেকে আরাফাত সীমান্ত পশ্চিমে আরও প্রায় পৌনে ১ মাইল বিস্তৃত।
এই আরাফাতেই ১৪শ’ বছরের বেশি সময় আগে ইসলামের শেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (স.) তার বিদায় হজের ভাষণ দিয়েছিলেন।
ইসলামের রীতি অনুযায়ী, জিলহজ মাসের নবম দিন আরাফাতের ময়দানে অবস্থান করে ইবাদতে কাটানোই হলো হজ।
আরাফাতে উপস্থিত না হলে হজের আনুষ্ঠানিকতা পূর্ণাঙ্গ হয় না। তাই হজে এসে যারা অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তাদেরও অ্যাম্বুলেন্সে করে আরাফাতের ময়দানে নিয়ে আসা হবে।
আরাফাতের ময়দানে খুতবার পর জোহর ও আসরের নামাজ পড়বেন মুসলমানরা। মিনায় ফেরার পথে সন্ধ্যায় মুজদালিফায় পড়বেন মাগরিব ও এশার নামাজ। রাতে মুজদালিফায় খোলা মাঠে অবস্থান করার সময় তারা পাথর সংগ্রহ করবেন। ওই পাথর মিনার জামারায় শয়তানকে উদ্দেশ করে ছোড়া হবে।
শুক্রবার সকালে ফজরের নামাজ শেষে মিনায় ফিরে জোহরের নামাজ পড়বেন সবাই। পরে শয়তানকে (প্রতীকী) পাথর ছুড়বেন।
এরপর কোরবানি দিয়ে হাজিরা ইহরাম ত্যাগ করবেন এবং সবশেষে কাবা শরিফকে বিদায়ী তাওয়াফের মধ্যে দিয়ে শেষ হবে হজের আনুষ্ঠানিকতা।
কাবা শরিফে নতুন গিলাফ পরানো হবে
আজ কাবা শরিফের গায়ে পরানো হবে নতুন গিলাফ। নতুন গিলাফ পরানোর সময় পুরোনো গিলাফ সরিয়ে ফেলা হয়। কাবা শরিফের দরজার ও বাইরের গিলাফ দুটিই মজবুত রেশমি কাপড় দিয়ে তৈরি করা হয়। গিলাফের মোট ৫টি টুকরা বানানো হয়। ৪টি টুকরা চারদিকে এবং পঞ্চম টুকরাটি দরজায় লাগানো হয়। টুকরাগুলো পরস্পর সেলাইযুক্ত।
হাজিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সৌদি কর্তৃপক্ষ পুলিশ, আধা সামরিক ও সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে। হাজিদের বিনা মূল্যে চিকিৎসাসেবা দিতে মিনায় কিছুদূর পর পর রয়েছে হাসপাতাল। রয়েছে মোয়াচ্ছাসা, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশের সদস্য। হাজিরা পথ হারিয়ে ফেললে স্বেচ্ছাসেবক, স্কাউট ও কর্মীরা তাদের নির্দিষ্ট (তাঁবু) গন্তব্যে পৌঁছে দেন।
ইসলাম ধর্মের ৫ স্তম্ভের মধ্যে একটি হচ্ছে হজ পালন। সামর্থবান মুসলমানদের জীবনে অন্তত একবার হজ পালন করতে হয়। এবার বিশ্বের প্রায় ১৭১ দেশের ২০-২৫ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসলমান এবার হজ পালনে সৌদি আরব পৌঁছেছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ