ঢাকা: রাজধানীর মিরপুরের দারুস সালাম এলাকায় বাঁধন রোডের যে ৬ তলা বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গতকাল মধ্য রাতের পর থেকে ঘিরে রেখেছে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব)। ওই বাড়ির ভেতরে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক রয়েছে। সেখানে অন্তত ৭ জন অবস্থান করছে বলে ধারণা করছে র্যাব।
আজ মঙ্গলবার বেলা ১১টার পর র্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ ঘটনাস্থলের কাছে সাংবাদিকদের বলেন, ‘জঙ্গি আবদুল্লাহ বাড়িটি ভাড়া নিয়ে আস্তানা তৈরি করে। সেখানে ৭ জঙ্গি অবস্থান করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করে আত্মসমর্পণ করতে বলেছি। সে সময় চেয়েছে। যেহেতেু ভেতরে দুটি বাচ্চা রয়েছে, আমরা তাকে সময় দেব। চূড়ান্ত অভিযানের জন্য আমরা প্রস্তুত। এখন তার সিদ্ধান্তের ওপরই সব কিছু নির্ভর করছে।’
আবদুল্লাহকে ‘দুর্ধর্ষ জঙ্গি’ হিসেবে বর্ণনা করে বেনজীর বলেন, ২০০৫ সাল থেকে সে জঙ্গিবাদে জড়িত। দীর্ঘদিন ধরে সে মিরপুর মাজার রোডে বসবাস করে আসছে। কবুতরের ব্যবসার পাশাপাশি আইপিএস ও ইলেকট্রনিক সামগ্রী মেরামতের কাজেও সে জড়িত ছিল। সে র্যাবকে বলেছে, তার কক্ষে ৫০টির মতো আইইডি আছে। এ ছাড়া আরও বিভিন্ন ধরনের দাহ্য পদার্থ রয়েছে। গত রাতে অভিযান শুরুর পর ওইদিক থেকে গুলি করা হয়েছিল। তার কাছে একটি পিস্তলও থাকতে পারে বলে আমরা ধারণা করছি।’
ইতোমধ্যে ওই বাড়ির বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেয়া হয়েছে। পুরো এলাকা র্যাব ঘিরে রাখায় স্থানীয় বাসিন্দাদের সময় কাটছে এক প্রকার বন্দি অবস্থায় উৎকণ্ঠার মধ্যে।
টাঙ্গাইলের এলেঙ্গায় সোমবার রাতে এক বাড়িতে অভিযান চালিয়ে ‘জেএমবির জঙ্গি’ দুই ভাইকে ড্রোন ও দেশীয় অস্ত্র আটক করার পর তাদের দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মধ্যরাতে ঢাকায় র্যাবের এই অভিযান শুরু হয়।
দারুস সালাম থানা এলাকায় মাজার রোডের পাশে বর্ধনবাড়ি ভাঙা ওয়ালের গলির ২/৩-বি হোল্ডিংয়ে ৬ তলা ওই বাড়ির মালিক হাবিবুল্লাহ বাহার আজাদ নামের এক ব্যক্তি। তিনি নিজেও পরিবার নিয়ে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় থাকেন।
র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক মুফতি মাহমুদ খান জানান, র্যাব ওই বাড়ি ঘিরে ফেলার পর রাত ১টার দিকে সেখান থেকে ৪টি বোমা ছোড়া হয়। ওই বাড়ি থেকে ছোড়া বোমার মধ্যে পেট্রলবোমাও ছিল। ফলে বাইরে পড়ার পর সেখানে আগুন ধরে যায়। তবে কেউ হতাহত হয়নি। ওই বাড়ি থেকে র্যাবের দিকে গুলিও ছোড়া হয়।
রাতে ওই বিস্ফোরণের পর ফায়ার ব্রিগেডের একটি গাড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং ওই বাড়ির সামনের অংশে পানি ছিটানো হয়।
চূড়ান্ত অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে ওই ভবনের ২৪টি ফ্ল্যাটের মধ্যে ২৩টির বাসিন্দাদের সরিয়ে নিতে কাজ শুরু করেন র্যাব সদস্যরা।
মুফতি মাহমুদ খান সকালে জানান, ওই ভবন থেকে ৬৫ জনকে সরিয়ে এনে স্থানীয় একটি স্কুলের রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন শিশু, ২৪ জন নারী ও ২৬ জন পুরুষ।
তিনি বলেন, মোবাইল ফোনে আবদুল্লাহ নামের ওই ‘জঙ্গির’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা আত্মসমর্পণের আহ্বান জানান। জবাবে আবদুল্লাহ ভেবে দেখার জন্য সময় নেন। যাদের সরিয়ে আনা হয়েছে, তাদের মধ্যে আবদুল্লাহর এক বোনও আছে। আবদুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করার সময় সেই বলেছে, যেন অন্যদের সঙ্গে তার বোনকেও সরিয়ে নেয়া হয়।
এর আগে গত ১৫ আগস্ট জাতীয় শোক দিবসের সকালে ঢাকার পান্থপথে হোটেল ওলিও ইন্টারন্যাশনালে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও সোয়াট সদস্যদের অভিযানের মধ্যে নব্য জেএমবির সন্দেহভাজন এক জঙ্গি সুইসাইড ভেস্টে বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আত্মঘাতী হয়।