ঢাকা: মিয়ানমারে রোহিঙ্গাদের ওপর চলমান গণহত্যা বন্ধে জাতিসংঘের সক্রিয় হস্তক্ষেপের দাবিতে প্রতিনিয়তই সোচ্চার হচ্ছে মানুষ। এই গণহত্যা বন্ধের দাবি জানিয়ে কবি নির্মলেন্দু গুণ বলেছেন ‘মিয়ানমারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে চাই’।
বুধবার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের ওয়ালে এ বিষয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছেন তিনি।
কবি নির্মলেন্দু গুণ তার স্ট্যাটাসে লিখেছেন— ‘নিরস্ত্র নিরপরাধ রোহিঙ্গা নারী, পুরুষ ও শিশুদের ওপর বার্মার সৈনিকদের বর্বর অত্যাচারের যে ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখলাম, তাতে প্রশ্ন জাগলো মনে, ১৯৭১ সালের পাক-সেনারা কি তুলনামূলকভাবে কম নিষ্ঠুর ছিলো?
১৯৭১ সালে পাকসেনাদের অত্যাচারের ভিডিওচিত্র ধারণ করা আজকের মতো সহজ ছিলো না বলে,
আমার এমনটি মনে হতে পারে।
আমি বিভিন্ন সূত্রে ফেইসবুকে আপলোডকৃত মায়ানমারে ঘটতে থাকা নির্মমতার ভিডিওচিত্রগুলি আড়চোখে দেখেছি। ঐ রকমের মানব-পীড়নের দৃশ্য সোজা চোখে দেখার সাহস আমি সঞ্চয় করতে পারিনি।
স্ট্যাটাসে তিনি আরো লিখেছেন- আমার পক্ষে মিয়ানমারের রাজনৈতিক নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য এবং তার বর্বর সেনাদের এই অবিশ্বাস্য অমানবিক আচরণ মেনে নেয়া অসম্ভব হয়ে পড়েছে। আমি ঘুমাতে পারছি না।
গুণ লিখেছেন, আমি মনে করি, বাংলাদেশের পক্ষে বার্মা সরকারের যথেচ্ছাচারের নীরব দর্শক হয়ে সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকার সুযোগ নেই। শয়তানদের সমুচিত জবাব দেবার জন্য এখন আমাদের সীমান্ত অতিক্রম করার সময় এসেছে। মিয়ানমারের সামরিক জান্তা ও শান্তির জন্য নোবেলজয়ী অশান্তি বেগমের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার কথা এখনই গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা হোক। অনেক হয়েছে, আর নয়।
আমি ভগ্নবক্ষ নিয়েও সেই ন্যায়যুদ্ধে অংশগ্রহণ করতে রাজী আছি। আমি বিশ্বাস করি, যুদ্ধ শুরু হলে বিশ্ববিবেক আমাদের পাশে থাকবে এবং ১৯৭১ এর মতো বার্মার বর্গীদের বর্ববতার বিরুদ্ধে আমরাই জয়ী হবো।
জয় বাংলা।’