• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:২২ অপরাহ্ন |

ডাক্তার বিহীন পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতাল

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) প্রতিনিধি : দিনাজপুরের পার্বতীপুর রেলওয়ে হাসপাতালটি বাংলাদেশ রেলওয়ে উত্তরাঞ্চলের
একটি গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা কেন্দ্র দীর্ঘদিন থেকে এখানে কোনো ডাক্তার নাই। প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত রুগী।
জানা যায়, এখানে পার্বতীপুর ডিজেল লোকোমটিভ কারকানা, লোকো রানিং সেড, কেলোকা, ক্যারেজ সপ,এইএন,আই ডাব্লিউ,পি ডাব্লিউ, সুইচ কেবিন, রেল বিদ্যুৎ, রেল স্টেশন সমুহ, রেল পুলিশ, রেল নিরাপত্তা বাহিনী ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা,কর্মচারীসহ প্রায় ২০ হাজার রেল পরিবার সদস্যের চিকিৎসার স্থল এই হাসপাতালটি।অথচ দীর্ঘদিন থেকে এখানে কোনো ডাক্তার নাই।
প্রতিনিয়ত চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে শত শত রুগী। অন্যত্র চিকিৎসা নিতে গিয়ে আর্থিক ভাবে তিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা।
মাঝে মধ্যে একজন খন্ডকালীন ডাক্তার অসলেও সপ্তাহে ১ দিন ১-২ ঘন্টা অবস্থান করেন। এভাবে ২-১ মাস পর আবার বদলী হয়ে অন্যত্র চলে যান। অতি: বিভাগীয় চিকিৎসা কর্মকর্তা সহ ৩ জন ডাক্তারের পদ থাকলেও বর্তমানে তার ১ জনও নাই
এখানে। রুগীদের ভরসা একমাত্র ফার্মাসিস্ট রমজান আলী। ১৬ বেডের এ হাসপাতালের সব বেড ফাকা।ইনডোরের অবস্থা করুন। রুগী ভর্তি হওয়ার তো কোন প্রশ্নই আসেনা। নার্স সহ অন্যান্য স্টাফ প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। এমনকি
২ জন চৌকিদারের স্থলে এখানে বর্তমানে কোনো চৌকিদার নাই।
বৃটিশ আমলে নির্মিত এ হাসপাতাল ভবনটি সংস্কারের অভাবে নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়েছে। জরাজীর্ণ ভবনটি যে কোন সময় ভেঙ্গে পড়ে জীবন নাশের সম্ভাবনা রয়েছে এখানে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা মেলে ফার্মাসিস্ট রমজান আলীর। তিনি ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, কোনো চিকিৎসক না থাকায় কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমি বহিরাগত রুগীদের ৩ দিনের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে আসছি। ২ জন ফার্মাসিস্টের পদ থাকলেও আমি একা। এখানে কোন পাহারাদার নাই। যে কোনো সময় ঔষধ ও আসবাবপত্র চুরি হতে পারে।বৃষ্টিতে জরাজীর্ণ ভবনের ফাটল দিয়ে পানি প্রবাহে গুদামের বেশকিছু ঔষধ নষ্ট হয়েছে। এইসব সমস্যা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে বারবার অবগত করেও কোন ফল হয়নি বলে জানান তিনি।
অসুস্থ পিতার চিকিৎসা নিতে আসা রেল পরিবারের সদস্য সাংবাদিক জাকির হোসেন জানান, আমার পিতা গুরুতর অসুস্থ। হাসপাতালে এসে শুনি ডাক্তার নাই। রেল পরিবারের সকল সদস্যরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত। হয় প্রয়োজনীয় সংখ্যক
ডাক্তার নিয়োগ দিয়ে পুর্নাঙ্গ হাসপাতাল চালু করা হউক। অন্যথায় নামকাওয়াস্তে হাসপাতালটি তুলে নেওয়ার দাবী জানিয়ে এ বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।
রেল শ্রমিকনেতা জলিল তালুকদার, ওয়াজুল হক, রওশন আলী, আ,রহিম শিকদার, আবুল কালাম আজাদ,আ,মোত্তালেব শুভ্রকান্তি রায় বিজয় সহ সকলে ওই দাবীর প্রতি সমর্থন জ্ঞাপন করে অতিসত্বর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনে সংশ্লিষ্ট
কর্তৃপরে হস্তপে কামনা করেন।
এ বিষয়ে পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় লোকোমটিভ কারখানার প্রধান নির্বাহী প্রকৌ: বোরহান উদ্দিন বলেন, রেল কর্মকর্তা / কর্মচারীদের স্বার্থে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালটি চিকিৎসকের প্রয়োজন রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ