• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:১৪ পূর্বাহ্ন |
শিরোনাম :
সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর দাঁড়িপাল্লার ছবি সরানোর উদ্যোগ, থাকছে নৌকা

রোহিঙ্গা যুবকেরা কোথায়?

সিসি ডেস্ক: মিয়ানমারের রোহিঙ্গাদের উপর ক্রমাগত অমানবিক হামলা চালাচ্ছে সেদেশের সেনাবাহিনির সদস্যরা। এর ফলশ্রুতিতে নির্যাতিত এসব মানুষের গন্তব্য এখন শুধুই বাংলাদেশ। ইতোমধ্যে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৪ লাখ রোহিঙ্গা। যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। অন্যবারের তুলনায় এবার রোহিঙ্গা পুরুষদের আশ্রয় নেয়ার সংখ্যা কম। যুবকদের অনুপ্রবেশের হার একেবারে নেই বললেই চলে। এর ফলে স্বাভাবিকভাবেই সকলের মনে প্রশ্ন জাগছে- রোহিঙ্গা যুবকেরা গেল কোথায়? তাহলে কি তাদের সবাইকে মেরে ফেলা হয়েছে?

এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেল ভিন্ন তথ্য। তাদের ভাষ্যমতে, রোহিঙ্গা যুবকেরা মিয়ানমারের সেনাদের হামলার পাল্টা জবাব দিতেই থেকে গেছে নিজ দেশে।

গত ২৫ আগস্ট রাখাইনে পুলিশ চেকপোস্ট ও সেনা ঘাঁটিতে হামলা চালায় নির্যাতিত রোহিঙ্গারা। এসব ক্ষুব্ধ রোহিঙ্গাদের বেশির ভাগই যুবক। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা আর নির্যাতনের বিরুদ্ধে স্বোচ্চার হয়েছে তারা।

বাংলাদেশে অনুপ্রবেশকারী রোহিঙ্গারা জানিয়েছেন, রাখাইনে সেনাদের পরিচালিত ক্লিয়ারিং অপারেশনের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে রোহিঙ্গা যুবকরা তাদের স্ত্রী, সন্তান ও পরিবার-পরিজনকে বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিয়ে সশস্ত্র বিদ্রোহে যোগ দিচ্ছে।

উখিয়ার কুতুপালংয়ে আশ্রয় নেয়া রহিমা আক্তারি ও রাশিদা বেগমসহ অন্তত ১০ জন নারীর সাথে কথা বলে জানা গেছে, কারও স্বামী, কারও সন্তান, কারও ভাই যুদ্ধে গেছে। তারা এখন আর জীবন হারানোর ভয় করছে না। মিয়ানমারের সেনাবাহিনির নির্যাতন থেকে নিজেদের বাঁচাতে ও আরাকানকে স্বাধীন করতে তারা প্রশিক্ষণ নিচ্ছে। সময় হলেই সংগ্রাম করবে।

দুইদিন আগে বুচিদং থেকে এসে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করেছেন রহিমা আক্তারি। তিনি ৩ সন্তানের মা। সাথে তার শাশুড়িকেও নিয়ে এসেছেন। তবে স্বামী আব্দুর রহমান আসেননি।

রহিমা জানান, তার স্বামী তাদের অন্যান্য গ্রামবাসীর সাথে অর্ধেক পথ এগিয়ে দিয়েছেন। বিদায় দেয়ার সময় বলেছেন, তিনি যুদ্ধে যাচ্ছেন। যদি বেঁচে থাকেন তাহলে দেখা হবে। আর মরে গেলে যেন তাকে মাফ করে দেয়।

রহিমার মতো এ রকম বেশ কিছু নারীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তাদের স্বামীরা স্বাধীনতার জন্য যুদ্ধের ডাক দেয়া ‘আরসা’, বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন ‘আলেকিন’ এ যোগ দিয়েছেন। তাদের যেহেতু মৃত্যু নিশ্চিত, সেহেতু তারা যুদ্ধ করে, প্রতিরোধ করে মরতে চান।

তবে অনুপ্রবেশকারীদের কেউ কেউ বলছেন, প্রতিরোধ যুদ্ধ করতে চাইলেও তাদের পক্ষে তা সম্ভব হচ্ছে না। কারণ, সেনাবাহিনি অনেক শক্তিশালী। বিপরীতে আরসা কিংবা আলেকিনের কাছে অস্ত্র কম। ফলে তাদের পালিয়ে বেড়াতে হচ্ছে। তাদের ওপর সেনাবাহিনি অভিযান না চালানো পর্যন্ত তারা যুদ্ধে লিপ্ত হচ্ছেন না।

এদিকে সেখানকার সশস্ত্র বিদ্রোহী সংগঠন আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) সাময়িক অস্ত্র বিরতির ঘোষণা দিয়েছে।

ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে আরসা’র বিবৃতি উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, রাখাইনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ত্রাণ ও মানবিক সহায়তা কার্যক্রম স্বাভাবিক করতে অস্ত্র বিরতির সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। যদিও এখন পর্যন্ত এই ব্যাপারে মিয়ানমার সেনাবাহিনী কোনও প্রতিক্রিয়া জানায়নি।

গত ২৫ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া সংঘাতের কারণে জাতিসংঘসহ অন্তত ২০টি মানবিক সহায়তা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান সেখানে জরুরি মানবিক সহায়তা পৌঁছে দিতে পারছে না।

গত মাসের শেষ দিকে আরসার মুখপাত্র আয়াতুল্লাহ জানিয়েছিলেন, তাদের সশস্ত্র বিদ্রোহ জিহাদ নয়। তারা জাতিগত মুক্তিকামী। মিয়ানমারের মধ্যেই রেহিঙ্গাদের নাগরিকত্ব ও মৌলিক অধিকারগুলো নিশ্চিত করাই তাদের উদ্দেশ্য। গত ২৫ আগস্টের হামলা ছিল আত্মরক্ষামূলক এবং রোহিঙ্গাদের অধিকার ফিরে পাওয়া পর্যন্ত এ হামলা চলবে।

যদিও ইতোমধ্যে সংগঠনটি একতরফা অস্ত্রবিরতি ঘোষণা করেছে। তবে এই সংগঠনটির বাইরে আলেকিন ও এএসওসহ বেশ কয়েকটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন সেখানে আগে থেকে জঙ্গি কার্যক্রম চালাচ্ছে বলে দাবি করে আসছে মিয়ানমার সরকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ