সিসি নিউজ: নীলফামারীর সৈয়দপুর কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীন কর্তৃক ছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। ১১ সেপ্টেম্বর সকালে এ প্রতিবাদে বিক্ষুদ্ধ এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা বিদ্যালয় অবরোধ করে। পরে উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়।
অভিযোগে জানা যায়, কামারপুকুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়নাল আবেদীনের সাথে সম্পর্ক তৈরি হয় ওই বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও দলুয়া চৌধুরীপাড়া গ্রামের আবু ছালেকের কন্যা (১৭)। এক পর্যায়ে ওই প্রধান শিক্ষক ওই ছাত্রীর বাড়ী যাতায়াত করে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারী মাসে ওই ছাত্রীকে প্রধান শিক্ষক বিয়ের আশ্বাস দেয় এবং তার লেখাপড়ার যাবতীয় খরচ বহন করে। সে অনুযায়ী ওই শিক্ষক তিন মাস থেকে তার যাবতীয় খরচ বহন করে এবং কম্পিউটার ট্রেনিং সেন্টারে ভর্তি করে। ছাত্রীর পিতা হত দরিদ্র রিক্সা চালক হওয়ায় ছাত্রীটি প্রধান শিক্ষকের কথায় বিশ্বাস করেন। এক পর্যায়ে ছাত্রীটি তার বাড়িতেই প্রধান শিক্ষক কর্তৃক যৌন হয়রানীর শিকার হন। এছাড়া ওই প্রধান শিক্ষকের বাসায় মাঝে মধ্যে ওই ছাত্রীকে ডেকে স্বামী স্ত্রীর মতো মেলামেশা করত। কয়েকদিন আগে ওই ছাত্রী বিয়ের চাপ দিলে ওই শিক্ষক তালবাহানা শুরু করেন। এমনকি তার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। এদিকে ঘটনা ধামাচাপা দিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষকের স্ত্রী আসমা বেগম, তার বোন ও তার গ্রুপের লোকজন দিয়ে ওই ছাত্রীর বাড়ীতে গিয়ে হুমকি প্রদান করেন। এ ঘটনা প্রকাশ না করার জন্য। প্রকাশ করলে এর পরিণতি ভয়াবহ হবে। তার স্ত্রী হুমকি দেওয়ার পর ঘটনাটি প্রকাশ হয়ে গেলে ১১ সেপ্টেম্বর এলাকাবাসী ও অভিভাবকরা উত্তেজিত হয়ে বিদ্যালয় অবরোধ করে। এসময় তারা ধর্ষণকারী প্রধান শিক্ষকের বিচার দাবী করেন। ঘটনার সময় বিদ্যালয় উপস্থিত হন উপজেলা চেয়ারম্যান মোকছেদুল মোমিন, ভাইস চেয়ারম্যান আজমল হোসেন সরকার, উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজলুল রশীদ, সৈয়দপুর থানা অফিসার্স ইনচার্জ আমিরুল ইসলাম, মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, উপজেলা শিক্ষা অফিসারসহ সৈয়দপুর থানার পুলিশ সদস্যরা। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি শান্ত হয়। এদিকে কতিপয় শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের গ্রুপের লোকজন ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করছে এবং ওই ছাত্রীসহ তার পরিবারকে চাপ সৃষ্টি করছে। এ নিয়ে এলাকায় চাপা উত্তেজনা সৃষ্টি করছে। যে কোন মূহুত্বে সংঘর্ষের আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষকের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলে মোবাইল বন্ধ থাকায় তার মতামত নেওয়া সম্ভব হয়নি। তবে সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বলেন, এখনও লিখিত অভিযোগ পায়নি। একই কথা বললেন সৈয়দপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার বজুলুর রশীদ। তিনি জানান, অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।