• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৪৬ অপরাহ্ন |

রাজারহাটে গো-খাদ্যের তীব্র সংকট

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: কুড়িগ্রামের রাজারহাটে এবার স্মরণকালের ভয়াবহ বন্যায় গো-খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে । খামারীরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে মহা বিপদে পড়েছে। এখনও আমন ধান ঘরে উঠতে দুই মাস বাকি রয়েছে। ঘন ঘন বৃষ্টি ও বন্যার কারণে অত্র উপজেলায় নষ্ট হয়ে গেছে সবুজ ঘাস ও মজুদকৃত খড়। অনেকে গবাদিপশুর খাদ্য কিনতে প্রতিনিয়ত হিমশিম খাচ্ছে। এ যেন মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। গো-খাদ্যের তীব্র সংকট ও দাম চড়া হওয়ায় অনেক খামারিরা বাধ্য হয়ে গরু বিক্রি করার খবর পাওয়া গেছে। একাধিক খামারির সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত এক একটি ষাঁড় জাতীয় গরু পালনে তাদের খরচ পড়েছে ৫০-৬০ হাজার টাকা, পাশাপাশি শ্রমতো রয়েছে বর্তমান বাজারে ওই গরুর দাম বলছে ৪৫-৫০ হাজার টাকা। একদিকে পারছি না গরু বিক্রি করতে, না পারছি লালন-পালন করতে। গবাদি পশু অত্র এলাকার খামারিদের বর্তমানে বিষফোঁড়া হয়ে দাঁড়িয়েছে। এদিকে রাজারহাট উপজেলা সদর বাজারের রেল লাইনের পার্শ্বে প্রতিদিন খড়ের হাট বসে। খড় ব্যবসায়ী মোস্তাক আহমেদ, শাহানত উল্লা বলেন, দিনাজপুর জেলার বিরল উপজেলাসহ বিভিন্ন স্থান থেকে চড়া দামে খড় কিনে আনতে হচ্ছে। তাই বাজারে খড়ের মূল্য বেশী। প্রতি শত আঁটি পাইকারি কিনতে হয় ৬৬০ টাকা, খুচরা তা বিক্রি হচ্ছে ৭০০ টাকায়। সবমিলিয়ে বর্তমান অত্র উপজেলার খামারিরা গবাদি পশু নিয়ে চরম দুঃশ্চিন্তায় পড়েছে।

রাজারহাটে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। ভ্যাপসা গরম ও বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া-আসা করায় চলতি ডিগ্রী পরীক্ষার্থীসহ স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসার কয়েক হাজার শিক্ষার্থীদের পাঠদান প্রতিনিয়ত ব্যাহত হচ্ছে। ঘন ঘন বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ে ফলে ব্যবসায়ীদের মাঝে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে। দিনে-রাতে ২৪ ঘন্টায় গড়ে মাত্র ৬/৭ ঘন্টা বিদ্যুত পাওয়া যাচ্ছে, তাও আবার ৪৫-৫৫ মিনিটের বেশী স্থায়ীত্ব হয় না। বিদ্যুতের এ লুকোচুরি খেলায় বিদ্যুত চালিত কম্পিউটার-ল্যাপটপ, টিভি-ফ্রিজ, বাল্বসহ বিদ্যুত চালিত সামগ্রীগুলো নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। উপজেলা সদর বাজারের ব্যবসায়ীরা ও পার্শ্ববর্তী বাসা-বাড়িতে বিদ্যুতের পাশাপাশি জেনারেটর-এর সংযোগ নিতে মরিয়া হয়ে ওঠেছে। ব্যবসায়ী রনজিৎ কুমার রায় (৩৫) ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, একদিকে বিদ্যুতের লাগামহীন মূল্য বৃদ্ধি, অন্যদিকে আবার বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং। সব মিলিয়ে এ যেন আমাদের মরার উপর খাড়ার ঘাঁ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিদ্যুত গ্রাহকদের অভিযোগ পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ কেন্দ্রে একাধিকবার ফোন করলে তা রিসিভ করতে চাননা, তা রিসিভ হলেও বলে মেইন লাইন কেটে গেছে বলে ফোন রেখে দেন। এ বিষয়ে রাজারহাট পল্লী বিদ্যুতের সাব স্টেশনের ইনচার্জ মাধব চক্রবর্তী বলেন, প্রতিদিন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ৪ মেঘাওয়ার্ট, সেখানে বরাদ্দ পাচ্ছি মাত্র ১.৫ মেঘাওয়ার্ট। অফ পিক আওয়ারে চাহিদা ২ মেঘাওয়ার্ট, সেখানে বরাদ্দ পাচ্ছি সর্বোচ্চ ১.৩ মেঘাওয়ার্ট। আমার সাব স্টেশনে ৫টি ফিডার রয়েছে। ভাগ করে করে যতটুকু সম্ভব সামাল দেয়ার চেষ্টা করা ছাড়া আর কোন উপায় নেই। সব মিলিয়ে রাজারহাট উপজেলায় বর্তমান বিদ্যুতের ভয়াবহ লোডশেডিং বিগত ৫ বছরের রেকর্ডকে হার মানিয়েছে বলে গ্রাহকরা এ প্রতিনিধিকে জানিয়েছে। #

রাজারহাটে মংলা এখন কোটিপতি!
মাত্র ১৬০ টাকা মূল্যের একটি গাভী কিনে যাত্রা শুরু করেছিল রতœ দুগ্ধ খামারের মালিক শ্রী ভবেন্দ্র নাথ মন্ডল ওরফে মংলা (৫৮)। খামারটি শুরু করেন ১৯৭৫ সনের মাঝামাঝি সময়ে। তারিখটা সঠিক মনে নেই তার। তৎকালীন ওই এলাকার পশু সম্পদ বিভাগের এ আই পদে কর্মরত পশু চিকিৎসক মরহুম ইসমাইল হোসেন ওরফে বাদল ডাক্তার এবং আবুল হোসেন খোমেনির নিরলস্ প্রচেষ্ঠায় রতœ দুগ্ধ খামারটি তিনি গড়ে তোলেন। এরপর তাকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি কখনো। বর্তমানে দুগ্ধ খামারটিতে ছোট-বড় মিলে প্রায় ৫৫টি গাভী রয়েছে। যাহার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দু’কোটি টাকা। হাইব্রিড অষ্ট্রেলিয়ান জাতের বড় সাইজের একেকটি গাভীর মূল্য দেড় লাখ হতে দুই লাখ টাকা এবং ছোট সাইজের হাইব্রিড জাতের (বাছুর) শ্রেণী বিশেষে একেকটি সর্বনিম্ন ৪০ হতে ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের। রতœ দুগ্ধ খামারটি গড়ে ওঠেছে কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলাধীন চাকিরপশার ইউনিয়নের পূর্ব পাঠকপাড়া এলাকার প্রত্যন্ত পল্লীতে। ওই খামারটিতে প্রতিদিন কমপক্ষে ৩০০-৩৫০ লিটার পর্যন্ত দুধ উৎপাদিত হয়ে থাকে। রতœ দুগ্ধ খামারটিতে প্রতিদিন ৪/৫ জন শ্রমিকসহ খামারের মালিক ভবেন্দ্র নাথ মন্ডল ওরফে মংলা এবং তার বড় ছেলে রতন মন্ডল ও ছোট ভাই ভজেন্দ্র নাথ মন্ডল ওই খামারটির পরিচর্যা করে থাকেন। গো-খাদ্যের জন্য সারা বছরই বর্গা ও নিজস্ব মিলে প্রায় সাড়ে ৩ একর জমিতে নেপিয়ার জার্মান জাতের ঘাসের চাষ করেন। ভবেন্দ্র নাথ মন্ডল এ প্রতিনিধিকে বলেন, এ পর্যন্ত তিনি বিনামূল্যে প্রায় ৬০০ খামারীকে গো-খাদ্যের জন্য তার লাগানো ঘাস চাষ করার জন্য নিজ জেলাসহ পার্শ্ববর্তী লালমনিরহাট ও রংপুর জেলার বিভিন্ন দুগ্ধ খামারীদের মাঝে সরবরাহ করেছেন। তিনি আরও জানান, অত্র উপজেলায় প্রায় দেড় শতাধিক দুগ্ধ খামার রয়েছে এবং প্রতিদিন রাজারহাট উপজেলায় ওইসব খামার থেকে প্রায় ৪০০০ হাজার লিটার দুধ উৎপাদন হয়ে থাকে। বর্তমান উৎপাদিত দুধগুলো ৩০-৫০ টাকা লিটার মূল্যে ব্র্যাক চিলিং সেন্টার আড়ং, আরডি ডেইরী মিল্ক এবং স্থানীয়ভাবে সিংগারডাবড়ীহাট বহুমুখী সমবায় সমিতি দুধগুলো ক্রয় করে আসছেন। তিনটি সেন্টার মাঝে মধ্যে যদি দু’একদিন দুধ ক্রয় করা বন্ধ রাখেন। সেইদিন খামারীরা পড়েন চরম বিপাকে। সেই সঙ্গে বিদ্যুতের লোডশেডিং, হরতাল ও অবরোধ হলে দুগ্ধ খামারীকে চরম বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তাছাড়া বন্যার পর বর্তমান দেখা দিয়েছে গো-খাদ্যের (খড়) চরম সংকট। পাশাপাশি গো-খাদ্যের (ভূষি, খৈল, ফিট) মূল্য খুব চড়া হওয়ায় খাদ্য যোগান দিতে হিমশিম খেতে হয়। অত্র উপজেলার দেড় শতাধিক দুগ্ধ খামারীদের একটি সংগঠন রয়েছে। সেই সংগঠনের দীর্ঘদিন ধরে টানা সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করে আসছে রতœ দুগ্ধ খামারটির প্রো. ভবেন্দ্র নাথ মন্ডল ওরফে মংলা। তার দাবী সরকারিভাবে খামারীদের কাছ থেকে প্রতিদিন নির্ধারিত মূল্যে দুধ ক্রয় করলে খামারিরা আরও বেশী উৎসাহ পেত। পাশাপাশি অত্র এলাকায় দুধের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশে রপ্তানী করে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখা সম্ভব মনে করেন তিনি । রতœ দুগ্ধ খামারটি ১৯৯৪ এবং ২০০১ সনে সরকারিভাবে কিছু অনুদান পেয়েছিল। মাঝে-মধ্যে বিভিন্ন এনজিও থেকে প্রশিক্ষণার্থীরা আসেন এখানে প্রশিক্ষণ নিতে। এ বিষয়ে রাজারহাট উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. সাইদুর রহমান বলেন, অত্র উপজেলায় দিন দিন খামারীর সংখ্যা বেড়েই চলছে এবং প্রাণি সম্পদ বিভাগের তালিকা মতে বর্তমানে ২১৭টি খামার রয়েছে। খামারীদের উৎপাদিত দুধ সংরক্ষণের জন্য মিল্ক ভিটাকে তা সরবরাহের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। সবমিলিয়ে খামারিরা তাদের দুর্দশা-লাঘবসহ দুগ্ধ শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার জোর দাবী জানিয়ে আসছে দীর্ঘদিন ধরে।

রাজারহাটে জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা মৎস্য অধিদপ্তরের আয়োজনে মুক্ত জলাশয়ে মাছের পোনা অবমুক্ত করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার নাজিমখান ইউপির যুগীদহ বিল এবং ছিনাই ইউপির মজুমদারের দীঘিতে রুই, কাতলা, মৃগেল প্রজাতির ১ হাজার ৬৬ কেজি মাছের পোনা অবমুক্তকরণের উদ্বোধন করেন কুড়িগ্রাম জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. জিল্লুর রহমান। এ সময় উপস্থিত ছিলেন-রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. রফিকুল ইসলাম, উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. মাহমুদুলনবী (মিঠু), উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি চাষী আলহাজ্ব আব্দুস ছালাম মাষ্টার প্রমূখ। ২০১৭-২০১৮ অর্থ বছরের জন্য অত্র উপজেলায় রুই, কাতলা, মৃগেল জাতীয় ৩০০০ কেজি পোনা মাছ মুক্ত জলাশয়ে ছাড়ার জন্য বরাদ্দ আসে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ