• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৪৬ অপরাহ্ন |

অস্ট্রেলিয়ার ভিসার আবেদন করেছেন প্রধান বিচারপতি

সিসি নিউজ: এক মাসের ছুটিতে থাকা প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা অস্ট্রেলিয়া দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে স্ত্রী সুষমা সিনহাকে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় তার বড় মেয়ে সূচনা সিনহার কাছে যাবেন তিনি।

সূত্র জানায়, আজ বৃহস্পতিবার দিনটি বেশ কর্মব্যস্ত কেটেছে প্রধান বিচারপতির। দুপুরের দিকে ভিসা আবেদনের কাজটি সারেন। এরপর আইনমন্ত্রী আনিসুল হক তার বাসায় গেলে তার সঙ্গে তিনি কিছুক্ষণ সময় কাটান। এরপর তিনি পূজা দিতে যান ঢাকেশ্বরী মন্দিরে।

গত ২ অক্টোবর প্রধান বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা এক মাসের ছুটির আবেদন করেন বলে জানান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। ওই দিন রাতেই আইন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয় আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আবদুল ওয়াহ্‌হাব মিঞাকে। তিনি বর্তমানে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করছেন।

গত কদিন প্রধান বিচারপতি জনসমক্ষে আসেননি। এ নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে আজ বিকাল ৪টা ১৫ মিনিটে হেয়ার রোডে প্রধান বিচারপতির বাসভবনে যান আইনমন্ত্রী আনিসুল হক। সেখানে তিনি বেশ কিছুক্ষণ অবস্থান করে বিকাল ৪টা ৩৯ মিনিটে বেরিয়ে আসেন। আইনমন্ত্রীকে এগিয়ে দেন প্রধান বিচারপতি।

আইনমন্ত্রী বেরিয়ে যাওয়ার সময় তেমন কোনো কথা বলেননি অপেক্ষমাণ সাংবাদিকদের সঙ্গে। তবে প্রধান বিচারপতির অস্ট্রেলিয়া যাওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমি জিজ্ঞেস করিনি। উনিও (প্রধান বিচারপতি) এ বিষয়ে কোনো কথা বলেননি।’

এর আগে অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘তিনি তো এর আগে বহুবার অস্ট্রেলিয়া, কানাডায় গেছেন। আমার জানামতে, তার এক মেয়ে অস্ট্রেলিয়ায় থাকেন এবং এক মেয়ে কানাডায় থাকেন। এসব দেশে এর আগেও উনি গেছেন।  এ নিয়ে অহেতুক বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করাই ভালো।’

এদিকে ঢাকেশ্বরী মন্দিরের ব্যবস্থাপক তপন ভট্টাচার্য্য বলেন, ‘লক্ষ্মীপূজায় অংশ নিতে সন্ধ্যার দিকে প্রধান বিচারপতি সস্ত্রীক এখানে এসেছিলেন। মিনিট বিশেকের মতো তিনি এখানে ছিলেন।’

২০১৫ সালের ১৭ জানুয়ারি দেশের ২১তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন বিচারপতি সুরেন্দ্র কুমার সিনহা। তিনি মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার তিলকপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার জন্ম ১৯৫১ সালের ১ ফেব্রুয়ারি। এই হিসাবে ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তিনি প্রধান বিচারপতির পদে থাকতে পারবেন।

১৯৭৪ সালে সিলেট বারে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হওয়ার মধ্য দিয়ে তার আইন পেশায় যাত্রা। ১৯৭৮ সালে হাইকোর্টে এবং ১৯৯০ সালে আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি। হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান ১৯৯৯ সালের ২৪ অক্টোবর এবং আপিল বিভাগের বিচারপতি হন ২০০৯ সালের ১৬ জুলাই।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ