জবি সংবাদদাতা: জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০১৭-২০১৮ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষ “এ” ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা কেন্দ্র পরিদর্শনে তালিকাভুক্ত যেসব শিক্ষক অনুপস্থিত ছিলেন তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা হিসেবে পরীক্ষার সম্মানী ভাতা ও মূল বেতনের একদিনের টাকা কাটার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
শনিবার সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিশ্ববিদ্যালয় রেজিস্ট্রার দপ্তর ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স ডিন অফিস। শুক্রবার বিকেল ৩টা থেকে ৪টা পর্যন্ত জবির ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।
পরীক্ষায় জবির বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ইনভিজিলেটর হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়। তবে যাদের দায়িত্ব দেয়া হয় কিংবা যাদের ওই ইনভিজিলেটর তালিকায় নাম না থাকে তবে উভয় ক্ষেত্র নাম কর্তন ও নাম সংযোজন করার বিধান রয়েছে। তা অবশ্য পরীক্ষার দুদিন আগে লিখিত আবেদন পরীক্ষা কমিটির কাছে দিতে হয়। এছাড়া গুরুতর অসুস্থ কিংবা পুলিশ হেফাজতে থাকলে তাদের ইনভিজিলেটর অনুপস্থিতি বিধিসম্মত বলে কর্তৃপক্ষ।
যারা ইনভিজিলিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন তাদেরও দুদিন আগে জানিয়ে দেয় ডিন অফিস। কিন্তু ‘এ’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষার সময় অনেক শিক্ষক ভর্তি পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে পরীক্ষা কেন্দ্রে উপস্থিত হননি। তাদের অনুপস্থিতির কারণে স্বয়ং ডিনরা ইনভিজিলেটরের দায়িত্ব পালন করেন। অথচ এসময় তাদের পুরো পরীক্ষার খোঁজ খবর রাখার কথা ছিল। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনভিজিলেটরের দায়িত্বপ্রাপ্ত অনুপস্থিত সকল শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার ইনস্ট্যান্ড উপাচার্যের কাছে অভিযোগ তুলেছেন ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধাক সমন্বয়ক ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সাইন্সের ডিন অধ্যাপক ড. জাকারিয়া মিয়া।
মৌখিক অভিযোগ আমলে নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান যেসকল লিস্টেড ইনভিজিলেটর পরীক্ষা কেন্দ্রে অনুপস্থিতি ছিলেন শাস্তি স্বরুপ তাদের পরীক্ষা কেন্দ্রে ডিউটির সম্মানী ভাতার সাথে তাদের মূল বেতনের একদিনের টাকা কর্তনের সিদ্ধান্ত দেন।
জানতে চাইলে বিজ্ঞান অনুষদ ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদ অন্তর্ভুক্ত ‘এ’ ইউনিট ভর্তি পরীক্ষার প্রধান সমন্বায়ক ও লাইফ অ্যান্ড আর্থ সায়েন্স অনুষদের ডিন অধ্যাপক জাকারিয়া মিয়া অনুপস্থিতি ইনভিজিলেটরদের উপর তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, ভর্তি পরীক্ষার সাথে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি সদস্যের মান সম্মান জড়িত, শিক্ষকদের আরো বেশি। অথচ অনেক দায়িত্বপ্রাপ্ত শিক্ষক পরীক্ষার দিন অনুপস্থিতি ছিলেন। তারা ভর্তি পরীক্ষার মত গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে চরম অবহেলা করেছেন। অনেক হল রুমে ইনভিজিলেটররা অনুপস্থিতি থাকায় আমাকেও পরীক্ষা কেন্দ্রে থাকতে হয়েছে। অন্যরুম থেকে ইনভিজিলেটব এনে আমি মূল কাজে ফিরি। আমি উপাচার্য স্যারকে বিষয়টি জানালে তিনি শাস্তিস্বরুপ অনুপস্থিতি ইনভিজিলেটরের সম্মানী ভাতার সঙ্গে মূল বেতনের একদিনের টাকা কর্তনের সিদ্ধান্ত দেন।
কতজন ইনভিজিলেটর অনুপস্থিত ছিলেন তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, সবার তালিকা শনিবার বিকেলে দিতে পারব। শুধু নতুন একাডেমিক ভবনে সহকারী অধ্যাপক আসাদুজ্জামান রিপন সম্মানী ভাতা দিতে গিয়ে ১৫ জনের অনুপস্থিতি দেখতে পান।