• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:৫২ অপরাহ্ন |

রোহিঙ্গারা তো এখন ফিরতে চায় না: সু চি

সিসি ডেস্ক: পালিয়ে আসা রোহিঙ্গারা যেন মিয়ানমারে ফেরত যায়, সেজন্য তাদের বোঝাতে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন মিয়ানমারের স্টেট কাউন্সেলর অং সান সু চি। মিয়ানমার সফর শেষে ফিরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল আজ বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে একথা জানিয়েছেন।
রোহিঙ্গা সঙ্কট সমাধানে আলোচনা করতে গত সোমবার মিয়ানমার যান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বুধবার সু চির সঙ্গে আলোচনা করেন তিনি।
মিয়ানমারের নেত্রীর সঙ্গে বৈঠকের বিষয়ে সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “অং সান সু চি আমাকে বলেন, ‘আপনারা তাদের (রোহিঙ্গা) ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য উৎসাহিত করুন-তারা তো এখন আসতে চায় না’।”
রোহিঙ্গাদের ভীতির কথা সু চিকে বলে এসেছেন বলে জানিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি বলেছি, তারা কেন আসতে চায় না? সেটা আপনি নিশ্চয়ই জানেন। তাদের আসার পরিবেশ নাই। তাই তারা তারা আসতে চায় না।’
রোহিঙ্গা সঙ্কট অবসানে কফি আনানের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়নের কথা সু চিকে বলেছেন বলে জানিয়ে আসাদুজ্জামান কামাল বলেন, ‘আমি ‍সু চিকে বলেছি, কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী কাজ করুন। আপনাদের দেশে শান্তি আসলে আমরাও বাঁচি। আপনারাও এই অশান্তি থেকে রেহাই পাবেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি সু চি কে বলেছি, আজ  আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে যে জায়গায় নিয়ে গেছে। আপনিও (সু চি) মিয়ানমারকে সে জায়গায় নিতে পারবেন। বাংলাদেশের মানুষ সেটা বিশ্বাস করে।’
প্রসঙ্গত, মিয়ানমারে জাতিগত নিপীড়নের শিকার হয়ে কয়েক দশক ধরে ৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে শরণার্থী জীবন কাটাচ্ছে। তাদের ফেরত নিতে আহ্বান জানিয়ে এলেও মিয়ানমারের সাড়া মিলছিল না। গত ২৫ অগাস্ট রাখাইনে সেনা অভিযান শুরুর পর নতুন করে রোহিঙ্গা ঢল নামে বাংলাদেশ পানে। দুই মাসে এই পর্যন্ত ৬ লাখের বেশি রোহিঙ্গা মুসলিম বাংলাদেশে পালিয়ে এসেছে। রাখাইনে এবারের অভিযানে সেনাবাহিনী কীভাবে নির্বিচারে মানুষ মারছে, ধর্ষণ, লুটপাট করছে, সেই বিবরণ আসছে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের কথায়।
রোহিঙ্গাদের নিজেদের নাগরিক হিসেবে মেনে নিতে নারাজ মিয়ানমার সরকার। তাদের চোখে, এই মুসলিম জনগোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে আসা ‘অবৈধ অভিবাসী’। তবে রোহিঙ্গারা যে মিয়ানমারের নাগরিক, তার ঐতিহাসিক প্রমাণ তুলে ধরে আসছে বাংলাদেশ। জাতিসংঘে বক্তৃতায়ও তা তুলেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ