দিনাজপুর, ১৩ নভেম্বর: “ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি..—” বয়সের ভারে নুয়ে পরা ভাষা সৈনিক এ্যাডভোকেট দলিল উদ্দিন আহমেদ এর হৃদয় ও কন্ঠে আর বেজে উঠবেনা ভাষার এই গান।
তিনি আজ সোমবার বিকেল সোয়া ৪টায় দিনাজপুর শহরের কসবাস্থ বাস ভবনে বাধ্যর্ক জনিত কারণে ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না—রাজেউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিলো ৮৩ বছর। তিনি ৩ কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয়-স্বজন ও গুনগ্রাহী রেখে গেছেন।
আগামীকাল মঙ্গলবার বাদ জহর কসবা জামে মসজিদে নামাজে জানাযা শেষে কসবা কবরস্থানে তার দাফন কার্য সম্পন্ন করা হবে।
১৯৫২ থেকে ২০১৭। ভাষা আন্দোলনের ৬৫ বছর। কি পেলো জাতি। সর্বত্র কি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলা ভাষা ? কেমন আছেন ভাষা সৈনিকরা। গেল ফেব্রুয়ারী মাসে এই প্রশ্নত্তোরে দেশের উত্তর জনপথ দিনাজপুরের ভাষা সৈনিকের মুখো-মুখি ছিলো এ্যাডভোকেট দালিল উদ্দিন আহমেদ। বয়সের ভারে নুয়ে পরা ভাষা সৈনিক এ্যাডভোকেট দলিল উদ্দিন আহমেদ এর হৃদয় ও কন্ঠে তখনও বেজে ওঠে ভাষার গান। স্মরণ শক্তি ছিলোনা তার। মনে করতে পারছিলো না আগের স্মৃতি। ঠিক মতো কথাও বলতে পারছিলেন না তিনি। তবুও হাতড়ে ফিরে স্মৃতি। তবে তার দুঃখ ছিলো এবার তিনি ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানাতে যেতে পারেননি শহীদ মিনারে। তিনি প্রায়ই সময় “ আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারী, আমি কি ভুলিতে পারি..—” এই গানটি গাইতেন ভাঙ্গা ভাঙ্গা কন্ঠে।
ভাষা সৈনিক দালিল উদ্দিন আহমেদ এর জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী। তিনি এখন এক বোন ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন দিনাজপুর শহরের দক্ষিণ উপকন্ঠ কসবা এলাকায়। বাঙালির মাথা উচুঁ করে দাঁড়ানো, অধিকার আর স্বাধিকারের জন্যই মাতৃভাষা বাংলাকে প্রতিষ্ঠিক করতে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন ভাষা আন্দোলনে। ছাত্র রাজনীতির সুবাদে তিনি ঝাঁপিয়ে পড়েন মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠায়।
৩ মেয়ের জনক তিনি। ছেলে নেই তার। মেয়ের সংসারে কাটছিলো তার জীবন। রোগ আর শোকে তিনি তখন প্রায় অচল। হেঁটে বেড়াতে পারছিলেন না তিনি। ব্যাংকার, শিক্ষকতা ও শেষে আইন ব্যবসার সাথে জড়িত ছিলেন তিনি।
ভাষার লড়াইয়ে তিনি নির্যাতন-জুলুমের শিকার হয়েছেন। এ জন্য কারাবরণও করতে হয়েছে তাকে। ছেলের শোকে তার মা মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছে। এ স্মৃতি জীবদ্দশায় তাড়িয়ে বেড়িয়েছে ভাষা সৈনিক দলিল উদ্দিন আহমদকে।