আন্তর্জাতিক ডেস্ক, ০৮ ডিসেম্বর : ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসকে হোয়াইট হাউসে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
বৃহস্পতিবার ট্রাম্প প্রশাসন থেকে খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রগতিশীল বামপন্থি ঘরানার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
এদিকে মাহমুদ আব্বাসের দল ফাতাহর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, এ মাসের শেষের দিকে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্সের ফিলিস্তিন সফরের কথা রয়েছে। তবে তাকে ফিলিস্তিনের লোকজন সাদরে গ্রহণ করবে না বলে জানিয়েছেন তিনি।
৬ ডিসেম্বর বুধবার জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতির ঘোষণা দেন ট্রাম্প। হোয়াইট হাউসে কূটনীতিকদের অভ্যর্থনা কক্ষে এক ঘোষণায় ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করছি, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতির এটাই সময়।’
ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর বিশ্বজুড়ে নিন্দার ঝড় উঠেছে। ফিলিস্তিনের মুক্তি আন্দোলনের সংগঠন তৃতীয় ইন্তিফাদা বা গণঅভ্যুত্থান ঘোষণা করেছে।
হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ওয়াশিংটনে সাক্ষাৎ করার জন্য ট্রাম্প আব্বাসকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউস। ওই সময়ে চিকিৎসার জন্য আব্বাসের যুক্তরাষ্ট্রে থাকার কথা।
হারেৎজ জানায়, মঙ্গলবার ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় ট্রাম্প এ আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। নিজের প্রশাসনের শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে আব্বাসের সঙ্গে আলোচনার আচ্ছে প্রকাশ করেছেন তিনি। তবে বৈঠকের জন্য কোনো নির্দিষ্ট দিন-তারিখ নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছে হোয়াইট হাউস।
আব্বাসের দল ফাতাহ পার্টির এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন, চলতি মাসের শেষের দিকে মাইক পেন্সের ফিলিস্তিন সফরের কথা থাকলেও তাকে স্বাগত জানানো হবে না।
হারেৎজ জানিয়েছে, আব্বাসের সহযোগীদের সঙ্গে তাৎক্ষণিকভাবে যোগাযোগ করা যায়নি।
এদিকে জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতির ঘোষণার পর বিক্ষোভ-সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা ও অধিকৃত পশ্চিম তীর। ক্ষুব্ধ ফিলিস্তিনিরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করে। ইসরায়েলি বাহিনী তাদের দমনে বলপ্রয়োগ করলে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। এতে অন্তত ৩১ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন।