• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন |

উলিপুরের গোড়াই রঘুরায় স্কুলের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অভিযোগ

অনিরুদ্ধ রেজা, কুড়িগ্রাম: কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের গোড়াই রঘুরায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মহান বিজয় দিবস পালন না করাসহ নানা অনিয়মের অভিযোগে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর লিখিত অভিযোগ করেছেন ঐ বিদ্যালয়ের সহসভাপতি মোঃ সামছুল হকসহ স্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতারা। অভিযোগ সুত্রে জানা গেছে, গত ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবস প্রতিটি বিদ্যালয়ে অনাড়ম্বর ও ভাবগাম্ভির্জের সহিত পালনের নির্দেশ থাকলেও গোড়াই রঘুরায় সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নেয়ামুল হক কোন কার্যক্রম গ্রহন করেন নাই। বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটি, স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তি ও বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদেরকে দিবসটি উৎযাপনের কথা বলেন নাই। যা মহান বিজয় দিবসকে অবমাননার সামিল। এ বিষয়ে স্থানীয়রা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরীর সাথে তৎক্ষনাত মোবাইল ফোনে যোগাযোগা করলে তিনি প্রধান শিক্ষকের সাথে কথা বলতে চান। কিন্তু প্রধান শিক্ষক জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলতে অস্বীকৃতি জানান। এছাড়াও উক্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যথাসময়ে বিদ্যালয়ে না আসা, উপবৃত্তি প্রদানে অনিয়ম, স্লিপের টাকা আত্মসাৎ, অতিরিক্ত পরীক্ষার ফি আদায়, মা সমাবেশ ও অবিভাবক সমাবেশ না করাসহ নানা অভিযোগ এনে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস বরাবর অভিযোগপত্র দায়ের করেন। উক্ত শিক্ষকের প্রতি ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে স্বাধীনতার স্বপক্ষের শক্তি আওয়ামীলীগ রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় এ ঘটনা কোনভাবেই মেনে নেয়া যায় না জানিয়ে ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহনের দাবীতে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেন দুর্গাপুর ইউনিয়ন শাখার আওয়ামীলীগের সভাপতি মোঃ দবির উদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ ওমর ফারুক মঙ্গা। এমনকি অভিযোগের বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করতে গেলে ৩ সাংবাদিককে রুমের ভিতর রেখে তালাবন্ধ করে দেড় ঘন্টা আটকিয়ে রাখেন ঐ প্রধান শিক্ষক মোঃ নেয়ামুল হক। বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা জানান, বিদ্যালয়ে মহান বিজয় দিবস পালনের কোন কথা শিক্ষকরা তাদের বলেন নাই। বিদ্যালয়ের এসএমসি কমিটির সহসভাপতি মোঃ সামছুল হক জানান, আমি যা করেছি সরকারী বিধি মোতাবেকই করেছি। ভুল আমার হতে পারে। বিদ্যালয়ে পতাকা উত্তোলন করা হয়েছে। উলিপুরে ২শ ৬৮টি বিদ্যালয় আছে। সবাইতো আর ঠিক মতো কাজ করে না। বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নেয়ামুল হক জানান, আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ সঢ়যন্ত্র মুলক। এব্যাপারে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার স্বপন কুমার রায় চৌধুরী বলেন, অভিযোগকারী বিষয়টি সঙ্গে সঙ্গেই আমাকে মোবাইল ফোনে অবহিত করেছে। লিখিত অভিযোগও পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত কমিটি করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ