• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:৪৭ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

পাঁচবিবিতে পানের বরজে পচন রোগে দিশেহারা পানচাষীরা

শাব্বির আহম্মেদ সা’দ, জয়পুরহাট : জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলায় ঘন কুয়াশা আর প্রচন্ড শীতে কারনে পানের গোড়াপচা রোগ দেখা দিয়েছে, পানের পাতায় কালো দাগ হয়ে ঝড়ে পড়ছে পান। এই ঝরে পড়া পান নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছে স্থানীয় কৃষকরা।

পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি বিভাগ সুত্রে জানা যায়, উপজেলায় এবার ২৯ হেক্টর জমিতে পান চাষ হচ্ছে যা গত বারের চেয়ে ৯ হেক্টর বেশী। এর মধ্যে গত কয়েক দিনের প্রচন্ড ঠান্ডা হাওয়া আর ঘন কুয়াসার কারনে পান বরজগুলোতে দেখা গেছে এক ধরনের ছত্রাক রোগের আক্রমন। এ অবস্থায় পান পাতায় কালো দাগ পরা ছাড়াও গাছে পচন ধরায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন না হওয়ার পাশাপাশি লোকসানের আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

কৃষকরা বলছেন, উপজেলার পানের বরজ গুলোতে কোন কীটনাশক প্রয়োগ করেও ঠেকানো যাচ্ছে না পানের এই মহামারী রোগ প্রত্যেকটি পানের বরজেই এই রোগ দেখা দেওয়ায় বিশাল অংকের আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে পানচাষীদের। এই কারেণে অনেকেই পান চাষ ছেড়ে দিয়ে অন্য ফসল চাষাবাদ করছেন।

উপজেলার সালুয়া গ্রামের পানচাষী রবিন্দ্র চন্দ্র ও মকুল মন্ডল বলেন, প্রতিবিঘা পানের বরজ প্রস্তুত করতে ৭০ থেকে ৮০ হাজার টাকা খরচ হয়। বর্তমান বাজারে প্রতি পোয়া পান (১৬ বিরা) ২ হাজার ৫শ টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। রোগ বালাই দেখা না দিলে এবার প্রায় দেড় লক্ষ টাকা পান বিক্রি করতেন বলে জানান তারা।

একই গ্রামের প্রবীন পানচাষী কৃষ্টপদ বলেন, ‘৩০ বছর থেকে পান চাষ করছি এমন ক্ষতির সস্মুখিন এর আগে হইনি। চলতি মৌসুমে পর পর দু দফা বন্যা আর ঘন কুয়াশা পচন্ড শীতে কারনে পানের বরজের অবস্থা খারাপ হয়েছে।’ বরজে আশানুরুপ পান উৎপাদন না হওয়ায় তিনি ৫০ শতক জমির পানের পানের বরজ ভেঙ্গে ফেলেছেন বলেও তিনি জানান।

একই কথা বলেন সালুয়া গ্রামের সুশিল চন্দ্র, নিতাই চন্দ্র, আঃ সামাদ, পুনিল চন্দ্র, মিঠু ও মন্টু চন্দ্র। তারা প্রত্যেকেই পানের বরজ ভেঙ্গে ফেলেছেন বলে জানান।

ধরঞ্জী গ্রামের পানচাষী আতাউর রহমান বলেন, পানের পাতায় কালো দাগ ও পচন থাকায় বাজারে পান নিচ্ছে না পাইকাররা।

পাঁচবিবি বাজারের আব্দুর রহমান, কড়িয়া বাজারের আলম হোসেনসহ পান ব্যবসায়ীরা জানান, এখনার মাটি ভালো হওয়ায় পানের গুনগত মান ভালো, কিন্তু ঘন কুয়াশা আর প্রচন্ড শীতে পানের পাতায় কালো দাগ হওয়ায় ক্রেতারা এখানকার পান নিতে চাচ্ছেন না।

এ বিষয়ে পাঁচবিবি উপজেলা কৃষি অফিসার মাহাবুবার রহমান বলেন, প্রচন্ড ঠান্ডা বাতাস ও শীত জনিত কারনে পানের এই অবস্থা।

পানের বরজের বেড়াগুলো ভালভাবে বেধে দিতে হবে যাতে বাতাস প্রবেশ করতে না পারে। পাশাপাশি ডাইকেল-৫০ নামক ছত্রাক নাশক ঔষধ স্প্রে করলে পানের এ অবস্থা কেটে উঠবে বলেও আশাবাদী তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ