• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৫৪ অপরাহ্ন |

বর্তমান সংসদ সর্বকালের সবচেয়ে কার্যকর: সংসদে এমপিরা

ঢাকা, ৩০ জানুয়ারি : চরম রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে গঠিত দশম সংসদের চার বছর পূর্তিতে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যরা বর্তমান সংসদকে দেশের সবচেয়ে কার্যকর ও সফল হিসেবে দাবি করেছেন।  একইসঙ্গে এই সংসদ সংবিধান ও গণতন্ত্র রক্ষার ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করে মাইলফলক অর্জন করেছে।
তাদের মতে, এ সংসদের দিকে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে। বিশ্বজুড়ে এ সংসদ যতটা প্রশংসা কুড়িয়েছে অতীতে তেমনটা দেখা যায়নি।
ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়াও সাংসদদের সঙ্গে সুর মিলিয়ে বলেছেন, তার দীর্ঘ সংসদীয় গণতন্ত্রের অভিজ্ঞতায় এত সফল সংসদ আর দেখেননি। তবে সংসদের বৈঠকে এমপিদের অনুপস্থিতি ও কোরাম সংকটের পক্ষে সাফাই গাইতে গিয়ে সংসদের চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ দাবি করেছেন, ‘অধিবেশন কক্ষে না থাকলেও এমপিরা লবিতে এবং মন্ত্রীরা তাদের রুমে থাকেন। তার মানে এই নয় যে, তারা সংসদে নেই।’
সংসদের কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী কোরাম পূরণের জন্য অন্তত ৬০ জন সদস্যকে অধিবেশন কক্ষে উপস্থিত থাকতে হবে।
সোমবার মাগরিবের বিরতির পরে সংসদের বৈঠকে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে অনির্ধারিত এ আলোচনার সূত্রপাত ঘটান চিফ হুইপ আ স ম ফিরোজ। তিনি বলেন, ‘অনেকে পত্রিকায় লেখেন সংসদে কোরাম হয় না। সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকেন না। আমি এ কথা বলতে চাই, সংসদের কোরাম সবসময় থাকে। লবি ইজ দ্য পার্ট অব দ্য হাউজ (লবিও সংসদেরই অংশ)। মন্ত্রীরা অনেক সময় এ সংসদের ভেতর তাদের অফিসে কাজ করেন। সংসদে হয়ত এমপি সাহেবরা কম, তারা লবিতে থাকেন। তারা মন্ত্রীর রুমে গিয়ে তাদের এলাকার কাজ করেন। মন্ত্রী সাহেবরা তাদের রুমে থাকেন। তার অর্থ এই নয়, এই সংসদে তারা থাকেন না।’
আলোচনায় অংশ নিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী তোফায়েল আহমেদ বর্তমান সংসদকে সফল দাবি করে বলেন, গালিগালাজ বা অসাংবিধানিক বক্তব্য দেওয়া সংসদের কাজ নয়। এই পার্লামেন্ট নিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছিল। বিএনপিসহ কয়েকটি দল অংশ না নেওয়ায় অনেকে বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছিল। প্রখ্যাত আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তিনিও বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। পরে দু’একটি নির্বাচন করলেও আর জয়লাভ করতে পারেননি। তিনি যখন বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তখন অবাক এবং বিস্মিত হতে হয়। তিনি বলেন, আইপিইউ ও সিপিএ’র সভাপতি পদে জয়ী হওয়ার মধ্য দিয়ে এই সংসদকে আন্তর্জাতিক বিশ্ব স্বীকৃতি দিয়েছে।
আওয়ামী লীগের সিনিয়র সদস্য শেখ ফজলুল করিম সেলিম বলেন, গণতন্ত্রের পূর্বশর্ত নির্বাচন। খালেদা জিয়া নির্বাচন বর্জনের ডাক দিলেও জনগণ তাতে সাড়া দেয়নি। এরচেয়ে কার্যকর সংসদ আর হতে পারে না বলেও দাবি করেন তিনি। তিনি বলেন, দেশের কল্যাণে, মানুষের কল্যাণে ও গণতন্ত্রের কল্যাণে এই সংসদ কাজ করছে।
সাবেক আইনমন্ত্রী আবদুল মতিন খসরু বলেন, বিএনপি নির্বাচনে না এসে পস্তাচ্ছে। আশাকরি এবার আসবে। নির্বাচন ছাড়া ক্ষমতায় আসার কোনো পথ নেই। ‘নো খালেদা জিয়া নো ইলেকশন’- এই ভয় দেখিয়ে লাভ হবে না। তারা ৮ ফেব্রুয়ারি নিয়ে ভয় দেখাচ্ছেন। তারা না এলে নির্বাচন হবে না- এটা কোনো কথা হতে পারে না।
জাতীয় পার্টির জিয়াউদ্দিন আহমেদ বাবলু বলেন, ১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগ, ১৯৯৬ সালে বিএনপি এবং ২০০১ সালে আবার আওয়ামী লীগ এবং ২০০৯ সালে বিএনপি বিরোধী দলে যারাই যখন ছিলেন তারা সংসদ বর্জন করেছিল। ওই সময়ের সব সংসদকে অকার্যকর হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, সত্যিকার অর্থে এই সংসদই কার্যকরভাবে চলছে। জাতীয় পার্টি নির্বাচনে অংশ না নিলে দেশে গৃহযুদ্ধ হতো বলেও দাবি করেন তিনি।
জাতীয় পার্টির আরেক সদস্য কাজী ফিরোজ রশীদও অতীতের সব সংসদের তুলনায় বর্তমান সংসদকে কার্যকর হিসেবে দাবি করে বলেন, অতীতে যারাই বিরোধী দলে থেকেছে নানা অজুহাতে সংসদ বর্জন করেছে। সরকারের অনেক সমালোচনা এই সংসদে হলেও কোনো শব্দ এপপাঞ্জ করতে হয়নি। বিরোধী দল হিসেবে জাপা ওয়াকআউট করলেও বর্জন করেনি। এই সংসদের আমলে যত উন্নয়ন ঘটেছে অতীতে কখনই হয়নি।
তরীকত ফেডারেশনের নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী খালেদা জিয়ার মামলা নিয়ে কথা বলতে চাইলে ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া তাকে থামিয়ে দেন এবং বিচারাধীন বিষয়ে কথা না বলার আহ্বান জানান। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ তাজুল ইসলাম ও বিএনএফের এস এম আবুল কালাম আজাদ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ