বিশেষ প্রতিনিধি: দিনাজপুর চিরিরবন্দরের একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব অবহেলার কারণে মানবিক শাখায় ফরম পুরণ করে চলতি এসএসসি পরীক্ষার মাঝখানে বাণিজ্য শাখায় পরীক্ষা দিতে বাধ্য হলো পরীক্ষার্থী আজমিন আরা। ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে। পরীক্ষার্থী আজমিন আরা উপজেলার ফতেজংপুর ইউনিয়নের উত্তর ভবানীপুর গ্রামের দরিদ্র আজাহার আলীর কন্যা। তার রেজিস্ট্রেশন নম্বর ১৫১৭৭৫৩১৫৬, রোল নম্বর ২৯০৫২২ এবং ২০১৬-১৭ শিক্ষা বর্ষ।
জানা গেছে, চলতি বছর এসএসসি পরীক্ষায় ওই বিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থী আজমিন আরা মানবিক শাখায় অধ্যয়ন করে ফরম পুরণের টাকা প্রদান করে। পরীক্ষার এক বছর আগে নবম শ্রেণিতে অধ্যয়নকালে রেজিস্ট্রেশন হওয়ার নিয়ম থাকলেও তার রেজিস্ট্রেশন হয়েছে পরীক্ষার মাত্র তিন সপ্তাহ আগে। এ অবস্থায় সে ১ ফেব্রুয়ারি থেকে মানবিক শাখার পরীক্ষার্থী হিসেবে পরীক্ষা দিয়ে আসে। কিন্তু গত ১৩ ফেব্রুয়ারি মানবিক শাখার ইতিহাস পরীক্ষা দিতে গিয়ে ফিনেন্স এন্ড ব্যাংকিং পরীক্ষার প্রশ্নপত্র পেয়ে চমকে ওঠে। কেননা আজমিন যে বিদ্যালয় থেকে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে সে বিদ্যালয়ে বাণিজ্য শাখা বলে কোন শাখা নেই। পরে চিরিরবন্দর-বি (আলোকডিহি জেবি উচ্চ বিদ্যালয়) কেন্দ্রের ২১০ নম্বর রুমের দায়িত্বরত শিক্ষকরা অন্য পরীক্ষার্থীর সহযোগিতা নিয়ে তাকে পরীক্ষা দিতে বলেন। এ ঘটনা জানাজানি হলে এলাকায় চড়ম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
আজমিন আরা জানায়, আমি মানবিক শাখায় লেখাপড়া করেছি। আমার বাবা অনেক কষ্টে টাকা জোগার করে আমার ফরম পুরণ করেছে। আমি পরীক্ষার পড়াশোনায় ব্যস্ত ছিলাম। ভালো করে দেখিনি। তাছাড়া আমার স্কুলে তো বাণিজ্য শাখা নাই। ওইসব বই সম্পর্কে ধারণা নাই। কিভাবে বাকি পরীক্ষা দেব বুঝতে পারছি না।
অপরদিকে বিদ্যালয়ের ওই পরীক্ষার্থীর বিষয়টি তোয়াক্কা না করে ১৪ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ বনভোজনের উদ্দেশ্যে ভিন্নজগতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে থাকে। খবর পেয়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী বিদ্যালয় মাঠে উপস্থিত হয়ে তা ভন্ডুল করে দেয়।
এ ব্যাপারে চিরিরবন্দর-বি পরীক্ষা কেন্দ্রের সচিব নন্দন কুমার দাস বলেন, বিষয়টি আমি পরে জেনেছি। তবে ওই পরীক্ষার্থীকে প্রবেশপত্র দেয়ার আগে ভালো করে দেখতে হত।
ডাঙ্গারহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহ্ মোহাম্মদ খালেকুজ্জামান বুলুর সাথে কথা হলে তিনি বলেন, আমিও একজন সাংবাদিক বিষয়টি নিয়ে লেখালেখি করা যাবে না। এটা শিক্ষা বোর্ডের ভুলের কারণে হয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে আমরা বসব।
পরে দিনাজপুর শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক তোফাজ্জুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, যে বিদ্যালয়ে যে শাখ নেই সে শাখায় ফরম পুরণ হবে না। তাছাড়া ভুল হলে ১০০ টাকা ফি প্রদান করে ২৫ জানুয়ারি ২০১৮ তারিখ পর্যন্ত সময় ছিল।