সিসি ডেস্ক: চোরাই পথে কুড়িগ্রামে অবাধে আসছে ভারতীয় গরু। কড়াকড়ি, তল্লাশি চৌকি আর নজরদারির অভাবে ভারত থেকে আসা এসব গরু দখল করছে বাজার। এতে লোকসান গুনতে হচ্ছে স্থানীয় খামারিদের। সরকারও হারাচ্ছে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব।
জেলার ৯টির মধ্যে ৭টি উপজেলা দিয়ে সরাসরি ভারত থেকে প্রবাহিত ছোট-বড় ১৬টি নদ-নদী। এসব নদ-নদী দিয়ে প্রতিদিন সাঁতরিয়ে কিংবা নৌকাযোগে স্রোতের মতো আসছে ভারতীয় গরু!
এসব গরুর ৭০ ভাগই আসছে করিডোর ছাড়া, চলে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে। এক শ্রেণীর অসাধু গরু ব্যবসায়ী এভাবে রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছেন লাখ লাখ টাকা।
করিডোরে ফাঁকি দিয়ে গরু পারাপারের বিষয়টি স্থানীয়রা লিখিতভাবে অভিযোগ করেও কোনো ফল পাননি। এতে সরকার রাজস্ব হারালেও ওইসব গরু ব্যবসায়ীরা হচ্ছেন লাভবান।
জেলার এই বিশাল সীমান্ত এলাকা নিয়ন্ত্রণে কুড়িগ্রাম-৪৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধীনে বিওপি ক্যাম্প রয়েছে ২৪টি। অপরদিকে রৌমারী-রাজিবপুর উপজেলার জন্য জামালপুর-৩৫ ব্যাটালিয়নের অধীনে ১০টি ক্যাম্প রয়েছে।
৭টি উপজেলার নদী ও সড়ক পথে ২০টিরও বেশি পয়েন্ট দিয়ে আসছে ভারতীয়। এসব অবৈধ কাজে জীবন বাজি রেখে জড়িয়ে পড়ছে শত শত সীমান্তবাসী।
অধিকাংশ গরু করিডোর ছাড়াই সড়ক, নৌপথে চলে যায় দেশের বিভিন্ন স্থানে। অবৈধ পথে আসা এসব গবাদিপশুর প্রতিটি ৫০০ টাকার বিনিময়ে কাস্টমস্ বিভাগের মাধ্যমে করিডোর করে দেয়া হয় বলে জানা গেছে।
তবে স্থানীয় গরু ব্যবসায়ীরা জানান, আমাদেরকে দুই দিকেই লোকসান গুনতে হচ্ছে। অনুমোদনহীন গরুগুলোর জন্য স্থানীয় দালাল, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন প্রশাসনের কর্মকর্তা ও স্থানীয় সরকার দলীয় নেতা-কর্মীরা পথে ঘাটে টাকা আদায় করছে।
ভারতীয় গরু পাচারের বিষয়ে কথা হলে কুড়িগ্রাম বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক আউয়াল উদ্দীন আহমেদ জানান, সীমান্তে সার্বক্ষণিক বিজিবি সদস্যরা কাজ করছে। প্রতিনিয়ত আমরা আমাদের সাধ্যমত সীমান্ত পথে অবৈধভাবে আসা ভারতীয় গরু ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী আটক করছি।