• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪১ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :

কারমাইকেল কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে ওএসডি

রংপুর, ২৮ মার্চ: রংপুর কারমাইকেল কলেজে অধ্যক্ষ’র অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগে শিক্ষকদের আন্দোলনের দেড় মাসের মাথায় কলেজের অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়া ও উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে ওএসডি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে(মাউশি) তাদের দুজনকেই বদলি করা হয়। অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়ার বদলীর খবরের কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উল্লাস প্রকাশ করেছে। তবে, উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশে তারা হতাশ হয়েছে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারি সচিব ফাতেমা-তুল-জান্নাত স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই আদেশের কথা জানানো হয়। তবে কে হচ্ছেন পরবর্তী কারমাইকেল কলেজের নতুন অধ্যক্ষ তার নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি।

কলেজ সুত্রে জানা গেছে, শিক্ষামন্ত্রীর ভায়রা ও কলেজ অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়ার নানা অনিয়ম, দুর্নীতি এবং শিক্ষকদের সাথে অসৌজন্যমুলক আচরণের ফলে অধ্যক্ষ’র অপসারণ দাবিতে ১০ ফেব্রয়ারি থেকে শিক্ষকরা অবস্থান ধর্মঘট ও কালো ব্যাজ ধারণ কমসুচি পালন করে আসছে। পরবর্তীতে অধ্যক্ষ ও শিক্ষকদের মধ্যে সমস্যা সমাধানের দাবিতে স্বাধীনতার স্বপক্ষের সকল ছাত্র সংগঠন ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা কলেজে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

এরই প্রেক্ষিতে বিষয়টি খতিয়ে দেখতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত কমিটির প্রধান ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর ঢাকার পরিচালক(প্রশিক্ষক) অধ্যাপক ড. আবদুল মালেক। তদন্ত দলের অন্য দুই সদস্য ছিলেন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতর পরিকল্পনা ও উন্নয়ন বিভাগের পরিচালক অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদফতরের মানবসম্পদ বিভাগের উপ-পরিচালক নাসির উদ্দিন। কমিটির সবাই ১৯ ফেব্রয়ারি কারমাইকেল কলেজে আসেন। এরপর দ’ুদিন অধ্যক্ষ, শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মচারি ও কলেজের বিভিন্ন সংগঠনের নেতাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের লিখিত বক্তব্য নেন। তাদের তদন্তের ভিত্তিতেই কলেজ অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়া ও উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাককে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর ঢাকায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে বদলি করা হয়েছে। উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের চাকুরি মেয়াদ আগামী জুন পর্যন্ত এবং অধ্যক্ষ ড. আবদুল লতিফ মিয়ার আগামী আগস্ট পর্যন্ত রয়েছে।

এদিকে অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষকে অন্যত্র বদলি করায় সাধারণ শিক্ষার্থীর মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। এখন আগের মতই ঐতিহ্যবাহী কারমাইকেল কলেজে ক্লাস ও পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে শিক্ষক ও সাধারণ শিক্ষার্থীরা। তবে, উপাধ্যক্ষ আবদুর রাজ্জাকের বদলীর আদেশে তারা মর্মাহত। কারণ অধ্যক্ষের দুর্নীতির দায়ে উপাধ্যক্ষকেও শাস্তি দেয়া উচিৎ হয়নি।

এ ব্যাপারে অধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মিয়া জানান, এখনও বদলির চিঠি পাইনি, তবে শুনেছি। চিঠি পেলেই সে অনুযায়ী যোগদান করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ