• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৫ অপরাহ্ন |

আজ সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস

সিসি নিউজ: আজ ১২ এপ্রিল। সৈয়দপুরে স্থানীয় শহীদ দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে রংপুরের নিসবেতগঞ্জে চালানো হয়েছিল নৃশংসতম হত্যাযজ্ঞ। এ দিন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী সৈয়দপুর শহরের ১৫০ জন মুক্তি সংগ্রামী, রাজনীতিক ও পেশাজীবী বন্দিকে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করে। সৈয়দপুরবাসী হত্যাযজ্ঞের এ দিনটিকে স্মরণ করতে প্রতি বছর ১২ এপ্রিল স্থানীয় শহীদ দিবস হিসেবে পালন করে থাকেন। আজ শহীদ সন্তানদের সংগঠন প্রজন্ম ’৭১ ও স্মরণিকা পরিষদের দিনব্যাপী কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কালো ব্যাজ ধারণ ও কালো পতাকা উত্তোলন, স্মৃতি অম্লানে শ্রদ্ধা নিবেদন, শোক র‌্যালি, শহীদদের ছবি প্রদর্শনী ও আলোচনা সভা।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ঢাকায় ‘অপারেশন সার্চলাইট’ নামে গণহত্যায় মেতে ওঠে। ঠিক তার একদিন আগে ২৪ মার্চ রাতে শহরের ১৫০ জন মুক্তি সংগ্রামীকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে বন্দি করা হয় সৈয়দপুর সেনানিবাসে। স্বাধিকার আন্দোলনের উত্তাল মার্চে সারা দেশে যখন প্রতিরোধ যুদ্ধের প্রস্তুতি চলছিল, তখন সহিংসতা শুরু হয় পাকিস্তানের দোসর অবাঙালি অধ্যুষিত সৈয়দপুরে। ১৯৭১ সালের ২৩ মার্চ ছিল পাকিস্তানের প্রজাতন্ত্র দিবস। সে দিন বাঙালিরা পাকিস্তানের পতাকার বদলে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা ও কালো পতাকা উত্তোলন করে। আর অবাঙালিরা পাকিস্তানের পতাকা উড়িয়ে পালন করে প্রজাতন্ত্র দিবস। সে দিন বাঙালিদের ঘরে ঘরে স্বাধীন বাংলার পতাকা দেখে সহিংস হয়ে ওঠে পাকিস্তানিদের দোসর অবাঙালিরা। সন্ধ্যার পর থেকে তারা স্বাধীনতাকামী বাঙালিদের বাসাবাড়িতে আগুন দিয়ে নিধনযজ্ঞ চালায়। আক্রমণের মুখে অনেক বাঙালি প্রাণ বাঁচাতে সর্বস্ব ফেলে আশ্রয় নেন পার্শ্ববর্তী গ্রামে। তবে অবাঙালিদের সন্ত্রাসের মুখে অধিকাংশ বাঙালি অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন শহরে। অবরুদ্ধ বাঙালিদের মুক্ত করতে সে দিন রাতেই শহর ঘেরাও করে অগণিত গ্রামবাসী। তারা দেশী অস্ত্র নিয়ে ২৪ মার্চ ভোর থেকে সশস্ত্র প্রতিরোধ যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। এ যুদ্ধে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ও তাদের দোসর অবাঙালিদের বিরুদ্ধে অসম এই প্রতিরোধ লড়াইয়ে তিন যোদ্ধা শহীদ হন এবং আহত হন অজ্ঞাত অনেকে। এ দিন বীর জনতার প্রতিরোধ যুদ্ধে ভীত হয়ে পাকিস্তান বাহিনী শহরের কর্তৃত্ব নিয়ে কারফিউ জারি করে। ২৪ মার্চ রাতে প্রতিরোধ সংগ্রামে নেতৃত্বদানকারী রাজনীতিক, বিশিষ্টজন, পেশাজীবী ও যুব নেতাসহ ১৫০ জন স্বাধীনতা সংগ্রামীকে আটক করে সৈয়দপুর সেনানিবাসে বন্দি করা হয়। সেনা নিবাসে ১৯ দিন ধরে বন্দিদের ওপর চালালো হয় নিষ্ঠুর নির্যাতন। ১২ এপ্রিল রাতে বন্দিদের কারাগারে নেয়ার কথা বলে রংপুর সেনানিবাসের দক্ষিণে নিসবেতগঞ্জ এলাকায় সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করানো হয়। এরপর মেশিনগানের ব্রাশ ফায়ারে এক সঙ্গে হত্যা করা হয় বন্দিদের। ওই রাতেই বন্দিদের লাশ গণকবর দিয়ে মাটিচাপা দেয়া হয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ