সিসি নিউজ, ১৮ এপ্রিল: ৩০ লাখ টাকার জন্য প্রায় সাড়ে ৪ মাস আগে নীলফামারীর সৈয়দপুরে বিএনপি নেতা ও তেল ব্যবসায়ী মামনুর রশিদ ওরফে মামুন ও তার কথিত স্ত্রী মীমতারিম সাথীকে খুন করা হয়েছিল। খুনের সাথে জড়িত পুলিশের হাতে আটক তারই দুই কর্মচারী এ স্বীকারোক্তি দিয়েছে। আজ বুধবার নীলফামারী জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে এক সংবাদ সম্মেলনে এসপি মূহাম্মদ আশরাফ হোসেন এ তথ্য দিয়েছেন।
নীলফামারী পুলিশ সুপার মুহাম্মদ আশরাফ হোসেন জানান, ঘটনার পর থেকে আত্মগোপনে থাকা মামুনের কর্মচারী শিবলী সাদিক ওরফে প্রদীপ ও সাগর মিয়াকে পুলিশ গত ১৬ এপ্রিল ঢাকার ডেমড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে আটক করে। তারা পুলিশের কাছে খুনের ঘটনা স্বীকার করে। ৩০ লাখ টাকা আদায়ের জন্য সৈয়দপুরের ওই ভাড়া বাসার মধ্যে প্রথমে তারা মীমতারিমকে জিম্মী করে প্রদীপ, সাগর ও লাবু। মীমতারিম ঘটনাটি তার কথিত স্বামী মামুনকে জানিয়ে দেয়ার হুমকি দিলে তারা তাকে গলা কেটে হত্যা করে। এ সময় বাজার থেকে মামুন ওই বাসায় ফিরলে তাকেও টাকার জন্য জিম্মি করে। নতুবা মীমতারিমের পরিনতি হবে বলে তাকে জানানো হয়। এ সময় মামুন তাদের হাত থেকে বাঁচানোর জন্য পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে আসামীরা তাকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে মৃত্যু নিশ্চিত করে।
গত বছর ২৯ নভেম্বর দিবালোকে নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরের জসিম বাজার এলাকার একটি বাসা থেকে মামনুর রশিদ মামুন ও মীমতারিম সাথীর গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে। নিহত মামুন পার্বতীপুর উপজেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারন সম্পাদক ও দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক। অপরদিকে মীমতারিম সাথী ঢাকা ড্যাফোডিল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং মামুনের কথিত ২য় স্ত্রী। ঘটনার দিনেই নিহত মামনুর রশিদের বড় ভাই আব্দুর রশিদ নিজে বাদী হয়ে থানায় একটি মামলা দায়ের করে।
ঘটনার সূত্রমতে, সৈয়দপুর শহরের কার্ডিকেয়ার ডায়াগনস্টিক সেন্টারের স্বত্ত্বাধিকারী ডা: তৌফিক ইমামের ওই বাসায় প্রায় দুই বছর আগে স্বামী-স্ত্রীর পরিচয়ে ভাড়া নেয় জনৈক অটোচালক শিবলী সাদিক ওরফে প্রদীপ। আর ওই বাসাতে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করে পালিয়ে যায় দুবৃত্তরা।
এ ঘটনার ১৫ দিন পর পুলিশ ১৩ ডিসেম্বর খুনের সাথে জড়িত সুমন আহমেদ ওরফে লাবু নামে এক খুনীকে আটক করে জেল হাজতে প্রেরন করে। কিন্তু ঘটনার মূল নায়ক ভাড়াটিয়া শিবলী সাদিক ও তার ভাই সাগর মিয়া পলাতক ছিল।