সিসি নিউজ, ০৪ মে: আইনি জটিলতায় চার বছরের বেশি সময় ধরে মর্গে থাকা ধর্মান্তরিত নীলফামারীর ডোমার উপজেলার হোসনে আরা ইসলামের লাশ আজ (শুক্রবার) ইসলাম ধর্মের রীতি অনুযায়ী দাফন করা হবে। গত ১২ এপ্রিল হাইকোর্টের বিচারপতি মো. মিফতাহ উদ্দিন চৌধুরীর একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এ আদেশ দেন। নীলফামারী জেলা প্রশাসককে এই নির্দেশ বাস্তবায়ন করতে বলেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার আদালতের আদেশের কপি জেলা প্রশাসকের হাতে পৌছে। আদালতের আদেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসক আজ দুপুরে হোসনে আরার লাশ দাফনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন।
ডোমার উপজেলার খামার বমুনিয়া গ্রামের স্কুল শিক্ষক অক্ষয় কুমার রায়ের মেয়ে কলেজছাত্রী নিপা রানী রায়ের সঙ্গে একই উপজেলার বোড়াগাড়ি ইউনিয়ন পূর্ব বোড়াগাড়ী গ্রামের ইউপি সদস্য জহুরুল ইসলামের ছেলে হুমায়ুন ফরিদ ওরফে লাইজু ইসলামের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। নিপা ২০১৩ সালের ২৫ অক্টোবর ইসলাম ধর্ম গ্রহণপূর্বক মোছা. হোসনে আরা ইসলাম নাম ধারণ এবং নীলফামারী নোটারি পাবলিক ক্লাবের এভিডেভিটের মাধ্যমে দুই লাখ ১ হাজার ৫০১ টাকা দেনমোহরে হুমায়ুন ফরিদ লাইজু ইসলামকে বিয়ে করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রী হিসাবে বসবাস করে আসছিল।
এ অবস্থায় মেয়েটির বাবা অক্ষয় কুমার রায় ২০১৩ সালের ২৮ অক্টোবর বাদী হয়ে নীলফামারী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতে একটি অপহরণ মামলা দায়ের করেন। আদালত মামলার সার্বিক বিবেচনা করে অপহরণ মামলা খারিজ করে দেন।
এরপর অক্ষয় কুমার রায় মামলার খারিজ আপিলে তার মেয়েকে অপ্রাপ্ত বয়স্ক ও পাগল দাবি করে আদালতে কাগজ পত্র দাখিল করেন। আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে শারীরিক পরীক্ষার জন্য মেয়েটিকে রাজশাহী সেফহোমে পাঠিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। এ অবস্থায় ২০১৪ সালের ১৫ জানুয়ারি মেয়েটির স্বামী হুমায়ূন ফরিদ লাইজু ইসলাম বিষপান করে আত্মহত্যা করে। এরপর লাইজুর আত্মহত্যার বিষয়টি আদালতে উপস্থাপন করে অক্ষয় কুমার মেয়েকে তার জিম্মায় নিতে আদালতে আবেদন করেন। আদালত তা মঞ্জুর করলে ২০১৪ সালের ১৬ জানুয়ারি মেয়েকে নিয়ে বাড়িতে নিয়ে নিজ জিম্মায় রাখেন বাবা।
তবে মামলা চলমান থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালের ১০ মার্চ দুপুরে বাবার বাড়িতে কীটনাশক পান করে মেয়েটি। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার দিন রাত ৮টার দিকে মারা যায়। পুলিশ হাসপাতাল হতে মেয়েটির লাশ রাতেই উদ্ধার করে।
ওইদিন মেয়েটির শ্বশুর জহুরুল ইসলামী শরিয়ত মোতাবেক দাফনে ও বাবা অক্ষয় কুমার রায় হিন্দু শাস্ত্রে সৎকারের জন্য তাৎক্ষণিকভাব জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে আবেদন করেন। আদালতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিষয়টি পুলিশকে একটি প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আদেশ দেন।
ডোমার থানা পুলিশ আদালতে ১২ মার্চ/২০১৪ একটি প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত মেয়েটির মরদেহ রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সংরক্ষণের আদেশ দেন। সেই থেকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষণ রয়েছে।