।। আফজাল হোসেন ।। দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লা খনিটির কয়লা উৎপাদনের লক্ষ্য নিয়ে সরকার পার্শবর্তী এলাকায় কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মান করেন। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভ থেকে উত্তোলনকৃত কয়লা খনি তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে সরবরাহের মজুদ না রেখে উত্তোলনকৃত কয়লা বিক্রি করে দেন। এ কারনে তাপবিদ্যুত কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে।
১৫ জুন থেকে ভূগর্ভের ২০১০নং খনির মুখে (কোল ফেস) কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় আপাতত কয়লা উত্তোলন বন্ধ রেখেছে খনি কতৃপক্ষ। বর্তমানে বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভের ১৩১৪নং ফেস থেকে নতুন করে কয়লা উৎপাদন শুরুর প্রস্তুতি চলছে।
প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায় বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ভূগর্ভে বন্ধ হয়ে যাওয়া ১২১০নং ফেসে ব্যবহৃত উৎপাদন যন্ত্রপাতি সেখান থেকে সরিয়ে নিয়ে ১৩১৪নং ফেসে স্থাপন করে পূনরায় কয়লা উৎপাদন শুরু করতে প্রায় ২ মাস লাগতে পারে। ১২১০নং কোল ফেস থেকে কয়লা উত্তোলন শুরু হয় ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে। বন্ধ হয়ে যাওয়া ঐ ফেস থেকে প্রায় ৫ লক্ষ ৮৫ হাজার টন কয়লা উত্তোলন করা হয়।
এদিকে গত রবিবার ৮ জুলাই বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী আলহাজ্ব হাবিব উদ্দিন আহম্মেদ এর সাথে কথা বললে সাংবাদিককে জানান ভূগর্ভ থেকে ফেস চেঞ্জ করে অন্য ফেসে যন্ত্রপাতি স্থাপন করে কয়লা তুলতে সময় লাগে। ভূগর্ভের ১৩১৪নং ফেসে যন্ত্রপাতি স্থাপন করা শেষ হলে, সকল প্রস্তুতি শেষ করেই আগের মতই কয়লা উত্তোলন শুরু হবে। বড়পুকুরিয়া কয়লা খনির মজুদ থেকে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহের বিষয়ে কথা বললে, তিনি জানান তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহ করা হচ্ছে। কয়লার কোন ঘাড়তি নাই। বিদেশ থেকে কয়লা আমদানী করার কথা বললে তিনি জানান এ বিষয়ে আমি কিছু জানিনা।
অপরদিকে বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের সহকারী প্রধান প্রকৌশলী মো: মহসিন ফিরোজ এর সাথে গত ৮ জুলাই রবিবার কয়লা সংকটের বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান ৩য় ইউনিট চালু রয়েছে ২শত ৭৫ মেগাওয়াট উৎপাদিত বিদ্যুত জাতীয় গ্রেডে সরবরাহ করা হচ্ছে। অপর দিকে বন্ধ হওয়া দুটি ইউনিট এর ওভার হোলিং এর কাজ চলছে। চীনা সিএমসি ২টি ইউনিট মেরামত করছে। মেরামত কাজ শেষ হলে তারা জানাবে। তার পর ইউনিট ২টি চালুকরা হবে। তবে বর্তমান কয়লা সংকটের বিষয়টি আপাত্যত মনে করা হলেও এ বিষয়টি আমাদের উদ্ধর্তন কতৃপক্ষকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে প্রতিদিন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিটে ৪ হাজার ৫শত থেকে ৫ হাজার মেট্রিকটন কয়লা জ্বালানীতে প্রয়োজন। গত রবিবার কয়লা খনি এলাকায় গিয়ে দেখা যায় উত্তোলন কৃত কয়লার মজুত শেষ হয়ে গেছে। শুধু ধু ধু মাঠ দেখা যাচ্ছে। খনি কতৃপক্ষ তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে কয়লা সরবরাহে মজুত না রেখে ইয়াডে কয়লা শুণ্য । এদিকে এই এলাকায় ঘন ঘন বিদ্যুৎ এর লোড সেডিং দেখা দিয়েছে। জানা যায় বাহির থেকে কয়লা আমদানী করে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি চালু রাখার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।