সিসি নিউজ, ৭ সেপ্টেম্বর: দিনাজপুরের বড়পুকুরিয়া কয়লাখনি থেকে পরীক্ষামূলক কয়লা উত্তোলন শুরু হচ্ছে শনিবার থেকে। আর আগামী সোমবার থেকে পুরোদমে শুরু হবে কয়লা উত্তোলন। প্রায় তিন মাস বন্ধ থাকার পর ১৩১৪ নম্বর নতুন কোল ফেইস থেকে এবার কয়লা উত্তোলন শুরু হচ্ছে।
আজ শুক্রবার বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ফজলুর রহমান বিষয়টি সাংবাদিকদের কাছে নিশ্চিত করেছেন।
খনির ভূগর্ভের ১২১০ নম্বরের কোল ফেইসের কয়লার মজুদ শেষ হওয়ায় গত ১৬ জুন খনি কর্তৃপক্ষ ওই কোল ফেইসের কার্যক্রম বন্ধ করে দেন। একই সময়ে খনির কোল ইয়ার্ড ও কয়লাভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়ার্টের বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রেরও কয়লার মজুদ শেষ হয়ে যায়। এ কারণে গত ২২ জুলাই থেকে বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক একমাত্র তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। এতে বিদ্যুতের সংকটে পড়ে দিনাজপুর-রংপুর অঞ্চলের মানুষ।
কয়লার অভাবে তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র বন্ধ হলেও ওই সময় কয়লাখনির কাগজপত্রে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন কয়লা মজুদ দেখানো হলেও খনির কোল ইয়ার্ডে মজুদ পাওয়া যায় মাত্র ৪ থেকে ৬ হাজার মেট্রিক টন। এতে খনির কয়লা মজুদের হিসাব গড়মিলসহ এক লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৪ মেট্রিকটন কয়লা ঘাটতির সংবাদের দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ওই ঘটনায় সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালকসহ চার কর্মকর্তাকে খনি থেকে প্রত্যাহারসহ ১৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই মামলা এখন তদন্ত করছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতির মধ্যেই খনির চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান, খনি কর্তৃপক্ষসহ খনি শ্রমিকদের নিরলস পরিশ্রমে শনিবার থেকে ১৩১৪ নম্বরের কোল ফেইস থেকে পরীক্ষামূলকভাবে কয়লা উত্তোলন শুরু করা হবে। তবে সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সোমবার থেকে ওই কোল ফেইসের কয়লা পুরোদমে উত্তোলন শুরু হবে।
খনির মহাব্যবস্থাপক (মাইনিং) সাইফুল ইসলাম সরকার জানান, বড়পুকুরিয়া কয়লাভিত্তিক তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু করতেই ১৩১৪ কোল ফেইসের সার্বিক কাজ পরিচালনা করা হচ্ছে। গত ২৬ আগস্ট খনির প্রশাসন ভবনে বড়পুকুরিয়া কোল মাইনিং কোম্পানি লিমিটেড (বিসিএমসিএল), বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) ও খনির চীনা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান সিএমসি-এক্সএমসি কনসোর্টিয়াম কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় বৈঠক হয়েছে। ওই বৈঠকেই আগামী সোমবার থেকে ১৩১৪ নম্বরের কোল ফেইস থেকে কয়লা উত্তোলনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি সরকারের জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়সহ পেট্রোবাংলা কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।