• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন |

রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় বর্ণাঢ্য আয়োজনে দশক পূর্তি উৎসব

রংপুর: ‘উন্নয়নে উচ্চশিক্ষা’ শ্লোগানকে সামনে রেখে বর্ণাঢ্য আয়োজনে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর এর দশক পূর্তি উৎসব উদ্যাপন করা হয়েছে। শুক্রবার (১২ অক্টোবর ২০১৮) সকাল সাড়ে ৯টায় জাতীয় সংগীতের সঙ্গে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে কর্মসূচির সূচনা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। একই সঙ্গে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা উত্তোলন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ডিন কলা অনুষদ প্রফেসর ড. পরিমল চন্দ্র বর্মণ। এসময় বিশ্ববিদ্যালয় পতাকা, অনুষদ ও বিভাগের পতাকাও উত্তোলন করা হয়। এরপর জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং মহীয়সী নারী বেগম রোকেয়ার প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধার্ঘ্য নিবেদন করে শুভেচ্ছাবাণী পাঠ করার মাধ্যমে দিনের কর্মসূচির উদ্বোধন করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। এসময় সকল অনুষদের ডিন, বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। ভাইস-চ্যান্সেলর তাঁর শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সবাইকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর-এর গৌরবময় দশক পূর্তি উৎসব-২০১৮ এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আপনাদের সকলকে স্বাগত ও আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। উত্তরবঙ্গের মানুষের স্বপ্নের এই বিদ্যাপীঠের প্রথম দশক পূর্তিতে ভাইস-চ্যান্সেলর হিসেবে উপস্থিত হতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে করছি। বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় ইতোমধ্যে শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির মিলন কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার সাথে সহশিক্ষা কার্যক্রম সমুন্বত হচ্ছে। ক্রমে জ্ঞানার্জন, সংস্কৃতি চর্চা, ক্রীড়ানৈপুণ্য শিক্ষার পীঠস্থানে পরিণত হচ্ছে। এই প্রতিষ্ঠানকে অঞ্চল ও দেশের গন্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া আমাদের লক্ষ্য।’ শুভেচ্ছা বক্তব্যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ দেশের সকল শহীদকে স্মরণ করেন তিনি। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ও মহামান্য রাষ্ট্রপতি এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করেন প্রফেসর কলিমউল্লাহ।
অনুষ্ঠান উদ্বোধনে শান্তির প্রতীক পায়রা অবমুক্ত করে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিএনসিসি এবং রোভার স্কাউটের অভিবাদন গ্রহণ করার পর বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আনন্দ শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দেন ভাইস-চ্যান্সেলর। এসময় ভাইস-চ্যান্সেলর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ভবনের উত্তর পার্শ্বে একটি বৃক্ষরোপণ করেন।

দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাফেটেরিয়ায় প্রথমবারের মত শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য গঠিত ‘বিশ্ববিদ্যালয় ক্লাব’ এর উদ্বোধন করেন মাননীয় ভাইস-চ্যান্সেলর। উদ্বোধন উপলক্ষে ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতির সঞ্চালনায় একটি সংক্ষিপ্ত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন ক্লাবের সভাপতি ও ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর ডক্টর নাজমুল আহসান কলিমউল্লাহ। এসময় বক্তব্য দেন প্রক্টর এবং প্রকৌশল ও প্রযুক্তি অনুষদের ডিন প্রফেসর ড. আবু কালাম মোঃ ফরিদ উল ইসলাম, গণিত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান এবং পরিকল্পনা, উন্নয়ন ও ওয়াকর্স এর পরিচালক প্রফেসর ড. আর এম হাফিজুর রহমান, শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হল প্রভোস্ট তাবিউর রহমান প্রধান এবং অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এ.টি. জি. এম. গোলাম ফিরোজ।
এরপর বিভিন্ন বিভাগের অংশগ্রহণে আয়োজিত দিনব্যাপী একাডেমিক ফেয়ার ও রক্তের গ্রুপ নির্ণয় কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। এছাড়াও কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ জুম্মা দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। দিবসের শেষ অংশে বিকালে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সন্ধায় কনসার্ট পরিবেশন করবেন সংগীত শিল্পী কনা ।
এদিকে দিবসটি উপলক্ষে আজ দুটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় ক্রোড়পত্র প্রকাশিত হয়েছে। ক্রোড়পত্রে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, শিক্ষামন্ত্রী, শিক্ষা সচিব, ইউজিসি’র চেয়ারম্যান এবং ভাইস-চ্যান্সেলরের বাণী প্রকাশ করা হয়েছে। এতে বাংলা বিভাগের প্রফেসর ড. সরিফা সালোয়া ডিনা’র একটি প্রবদ্ধও প্রকাশ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, ২০০৮ সালের এই দিনে এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০০৮-০৯ শিক্ষাবর্ষে তিনটি অনুষদের অধীনে ৬টি বিভাগ নিয়ে যাত্রা শুরু হলেও পরবর্তীতে ২০০৯-১০ শিক্ষাবর্ষে তিনটি, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে চারটি, ২০১১-১২ শিক্ষাবর্ষে পাঁচটি এবং ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষে আরো একটি মোট ১৫টি নতুন বিভাগ খোলা হয়। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ে ৬টি অনুষদের অধীনে ২১টি বিভাগে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ