• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:১৪ অপরাহ্ন |

বাবা-মাকে হারিয়ে নির্বাক মিথিলা ও মিম

।। এম কে আনোয়ার।। নির্বাক হয়ে বসে আছে দুই বোন। বাবা-মায়ের আদরের মেয়ে মিথিলা আর মিম। স্থানীয় প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেনীতে মিথিলা আর প্রথম শ্রেনীতে পড়ছে মিম। তাদের খাবার আর দাদীর ওষুধ আনতে উপজেলা শহর পার্বতীপুরে গেছে বাবা-মা। এক অনাকাঙ্খিত ঘটনায় সব পন্ড হয়ে গিয়ে মিথিলা আর মিমের জীবনে নেমে এলো ঘোর অন্ধকার।
সৈয়দপুর-পার্বতীপুর রেলপথের রামপুরা নামক স্থানে রেলক্রসিং পারাপারের সময় ট্রেনে কাটা পড়ে মোটরসাইকেল আরোহী ওই দম্পতির মৃত্যু হয়েছে। আজ রোববার দুপুর ১২টার সময় এ দূর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন মিথিলা-মিমের বাবা দিনাজপুরের পার্বতীপুর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের আনসার বাহিনীর সদস্য মোকছেদুল ইসলাম ও মা তহুরা বেগম।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গতকাল শনিবার ঠাকুরগাঁও জেলা আনসার বাহিনীতে কর্মরত মোকছেদুল ইসলাম নিজ বাড়ীতে আসে। মায়ের ওষুধ ও দুই শিশু সন্তান মিথিলা ও মিমের খাবার আনতে স্ত্রী তহুরাকে সাথে নিয়ে মোটরসাইকেল যোগে পার্বতীপুর শহরে যায়। দুপুরে ফেরার পথে রেলক্রসিং পারাপারের সময় রাজশাহী থেকে ছেড়ে আসা চিলাহাটিগামী তিতুমীর এক্সপ্রেসে ট্রেনের সাথে সংঘর্ষ বাঁধে। এতে ঘটনাস্থলে ছিন্নভিন্ন হয়ে যায় ওই দম্পতি। তাদের মোটরসাইকেলটি ট্রেনের সাথে প্রায় ২ কিলোমিটার দূরে বেলাইচন্ডী নামক স্থানে পড়ে যায়।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, রেলক্রসিংয়ের পূর্ব প্রান্তে দেয়া সতর্ক সাইনবোর্ডটি ভেঙ্গে পড়ে যাওয়ায় এবং দু’পাশের গাছপালা ছেঁটে না ফেলায় এ দূর্ঘটনাটি ঘটেছে। ব্যস্ততম এ রেলক্রসিংয়ে গেটম্যান দেয়ার দাবি তাদের। তবে পশ্চিম প্রান্তে দেয়া সাইনবোর্ডটিতে দেয়া সতর্ক বার্তার লেখাগুলো অস্পষ্ট রয়েছে।
সৈয়দপুর রেলওয়ে থানার অফিসার ইনচার্জ এমদাদুল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, এ ঘটনায় একটি ইউডি মামলা দায়ের করা হয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ