সিসি নিউজ, ১৬ অক্টোবর।। নীলফামারীর সৈয়দপুর শহরে সোনালী সঞ্চয় ও ঋণদান সমবায় সমিতি লিমিটেডের কার্যালয়ে ডাকাতির ঘটনায় লিটন হোসেন (২৬) নামে আরো এক ডাকাতকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাতে ঠাকুরগাঁও জেলার হরিপুরের কাঁঠালডাঙ্গী বাজার থেকে গ্রেফতার করা হয়। বাজারের পাশের গ্রামে তার বাড়ি।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সৈয়দপুর থানার ওসি (অপারেশন) আতাউর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। এ নিয়ে ডাকাত দলের তিন সদস্যকে গ্রেফতার করা হলো।
উল্লেখ্য যে, গত ২৮ এপ্রিল রোববার সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে ডাকাত সদস্যরা পর্যায়ক্রমে অফিসে প্রবেশ করে এবং আগ্নেয় অস্ত্র দিয়ে অফিসের ম্যানেজার মোঃ জাকারিয়া সরকার এবং দুই সহকারী ফিল্ড সুপারভাইজার মোঃ আলমগীর হোসেন ও মোঃ ইলিয়াছ হোসেনকে জিম্মি করে সমিতির ১৭ লাখ ৪৪ হাজার ৮০৯ টাকা নিয়ে যায়।
এ ঘটনায় সোমবার (২৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় মামলা হয়েছে। সমিতির ম্যানেজার মোঃ জাকারিয়া সরকার নিজে বাদী হয়ে অজ্ঞাত ৫ জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করেন।
মামলার বাদীর ভাষ্যমতে,, ৫ ডাকাত সদস্যদের মধ্যে দুই জনের ফুল প্যান্ট ও টি-শার্ট, দুই জনের ফুল প্যান্ট ও ফুল হাতা শার্ট এবং একজনের ফুল প্যান্ট ও হাফ হাতা শার্ট পরিহিত ছিল। এদের বয়স ২৫ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে এবং ডাকাত সদস্যরা ডাকাতির সময় দিনাজপুর ও ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের ভাষায় একে অপরের এবং জিম্মি কর্মকর্তা-কর্মচারীর সাথে কথা বলেছে।
এর আগে ডাকাতির ঘটনার মূল হোতা মাসুদ রানাকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অশোক কুমার পালের নেতৃত্বে বগুড়া শহরের শহীদ চান্দু স্টেডিয়াম সংলগ্ন তাঁর খালার বাসা থেকে গ্রেফতার করা হয়। সে ঠাকুরগাঁও জেলা সদরের ভূল্লীর বাজারের কুমারপুর গ্রামের আনিছুর রহমান রহমানের পুত্র এবং ওই মামলার পূর্বে গ্রেফতার হওয়া অফিসের ফিল্ড সুপারভাইজার আলমগীর হোসেনের শ্যালক। পরে রাতেই তাঁর দেয়া স্বীকারোক্তিতে দিনাজপুরের বিরল উপজেলার ধুকুরঝাড়ির গোবিন্দপুরে ফুফু আইমন বিবির বাড়িতে বিশেষ কায়দায় কাঁসার হাঁড়িতে রাখা ৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়।
সৈয়দপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহজাহান পাশা এ বিষয়ে বলেন, ডাকাতির সাথে জড়িত বাকী আসামীদের গ্রেফতারে জোর চেষ্টা চলছে।