সিসি নিউজ, ২৬ অক্টোবর।। নীলফামারীর জলঢাকায় বুড়ি তিস্তায় নদীতে গোসল করতে নেমে দুই স্কুল ছাত্রী মারা গেছে। আজ শনিবার বিকেল সোয়া ৩টার দিকে ওই ঘটনা ঘটে।
নিহত শিশুরা হলো গোপালঝাড় চেয়ারম্যানপাড়া গ্রামের আব্দুল কাইয়ুমের মেয়ে সিতু (৬) ও একই গ্রামের মোাররফ হোসেনের মেয়ে মীম (৭)। তারা দুইজনেরই উক্ত গ্রামের বসরিয়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেনীর ছাত্রী ছিল।
এলাকাবাসী অভিযোগ করে জানায়, মজিদুল নামের এক বালু ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে বুড়ি তিস্তা নদীতে বোমা মেশিনের মাধ্যমে অবৈধ ভাবে বালু উত্তোলন করে আসছে। এতে নদীর ধারে সহ বিভিন্ন স্থানে বড় বড় খাদ বা গর্তের সৃস্টি হয়।
ঘটনার দিন ওই দুই শিশু বালু উত্তোলনের মেশিনের ধারে নদীতে গোসল করতে নামে। এ সময় সিতু মেয়েটি বালু উত্তোলনে গর্তে পড়ে যায়। যা দেখতে পেয়ে মীম মেয়েটি তাকে উদ্ধার করার চেস্টা করলে সেও ওই খাদে পড়ে যায়। এ সময় নদীতে অন্যান্য শিশুরা এটি দেখতে পেয়ে চিৎকার করলে বালু উত্তোলনের শ্রমিকরা ওই গর্ত হতে শিশু দুইজনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এমন ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা সৃস্টি হলে বালু উত্তোলনের মালিক ও শ্রমিকরা পালিয়ে যায়।
শৌলমারী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান প্রাণজিৎ রায় পলাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।
অপরদিকে, পুকুরের পানিতে ডুবে আমিনুর রহমান নামের দুই বছরের এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার পশ্চিম ছাতনাই ইউনিয়নের কালিগঞ্জ গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শিশুটি পঞ্চগড় সদরের জালাসী মহল্লার শাহজাহান আলীর ছেলে।
জানা যায় শিশুটির বাবা ও মা হাসিনা বেগম ঢাকার সাভারে তৈরী পোষাক কারখানায় শ্রমিকের কাজ করে। তাই শিশুটিকে তারা নীলফামারীর ওই গ্রামে নানা হাফিজ উদ্দিনের বাড়িতে রেখে যায়। শিশুটি গত ৬ মাস ধরে নানার বাড়িতে রয়েছে।
ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল হক জানান, সকালে সকলের অগচরে শিশুটি বাড়ির ধারে পুকুরে খেলার ছলে ডুবে যায়। এলাকাবাসী দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে ডিমলা উপজেলা হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশুটিকে মৃত ঘোষনা করেন। খবর পেয়ে শিশুটির মা বাবা ঢাকা থেকে রওনা দিয়েছে। তারা আসার পর শিশুটির দাফন সম্পন্ন করা হবে।