• মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১০ অপরাহ্ন |

পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহারের মন্দিরের সিঁড়ি ক্ষতিগ্রস্থ

নওগাঁ প্রতিনিধি।। বিশ্বের ঐতিহ্যের তালিকাভুক্ত পাহাড়পুর বৌদ্ধবিহার বা সোমপুর বিহার। বৌদ্ধবিহারটিকে সংস্কারের মাধ্যমে পুরনো আদলে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। নতুনভাবে সাজানো হচ্ছে বিহার প্রাঙ্গণ। বিহারের গায়ে লাগানো হয়েছে পুরনো ইট আর চুন-সুরকির কংক্রিট এবং পোড়া মাটির ফলক। কিন্তু সংস্কারের তিন বছরের মাথায় পোড়া মাটির ফলক খসে পড়েছে। এছাড়া বিহারে প্রাঙ্গণ প্রবেশের কাঠের ব্রিজ ও কেন্দ্রীয় মন্দিরে উঠার একমাত্র প্রধান কাঠের সিঁড়ি গত দুই মাস আগে ভেঙে গেছে। বিহারে বেড়াতে আসা দর্শনার্থীরা কেন্দ্রীয় মন্দিরে উঠতে পারছে না। আবার বিহার প্রাঙ্গণে প্রবেশের কাঠের ব্রিজের পাটাতন ভেঙে যাওয়ায় দর্শনার্থীদের সাবধানে পারাপার হতে হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে সাউথ এশিয়ান ট্যুরিজম ইনফ্রাস্ট্রাকচার ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্টের আওতায় এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের অর্থায়নে দুই ভাগে মোট ১৩ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে উন্নয়ন কাজ করা হয়। এরমধ্যে কাঠামোগত উন্নয়ন কাজ ৮ কোটি ৮৬ লাখ টাকা এবং মূল বৌদ্ধবিহারের সংস্কারে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকা। কাজটি করেছেন ঢাকার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এম/এস ডেইলি কনস্ট্রাকশন লিমিটেড।
বৌদ্ধবিহার সংস্কারে ৪ কোটি ৫০ লাখ টাকার মধ্যে- বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানিতে জলাবদ্ধতা দূরীকরণ, ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, মূল বিহারের গায়ে জন্মানো ঘাস তুলে ফেলে চুন-সুরকি দিয়ে নতুন করে গাঁথুনি, বন্ধ হয়ে যাওয়া কূপ পুনঃখনন ও কূপের চারদিকে রেলিং দিয়ে ঘিরে দেয়া।
কিন্তু সংস্কারের তিন বছরের মাথায় নষ্ট হয়েছে- পোড়া মাটির ফলক, কাঠের ব্রিজ ও কাঠের সিঁড়ি। মন্দিরের দেয়ালগুলোতে পুরোনো আঙ্গিকের পোড়া মাটির ফলক লাগানো হয়েছিল। সেসব ফলকগুলো এখন বেশির ভাগই নাই। আর যেগুলো আছে সেগুলো আস্তে আস্তে খসে পড়ছে ও ভেঙে যাচ্ছে।

দর্শনার্থীকে টিকিট কেটে প্রবেশের পর মন্দিরে যেতে হলে মন্দিরের পূর্ব দিক থেকে প্রথমে কাঠের ব্রিজ পেরোতে হয়। এই কাঠের ব্রিজের পাটাতনের কয়েকটি কাঠ ভেঙে আছে। এতে করে দর্শনার্থীদের সাবধানে ব্রিজটি পারাপার হতে হচ্ছে। কেন্দ্রীয় মন্দিরের উত্তর পাশে রয়েছে- একমাত্র প্রধান কাঠের সিঁড়ি। মন্দিরের উপরে উঠতে হলে সিঁড়ি বেড়ে উঠতে হবে। কিন্তু সিঁড়িটির কিছু অংশ ভাঙা থাকায় গত দুই মাস আগে বাঁশের বেড়া দিয়ে সিঁড়ির মুখ বন্ধ রাখা হয়েছে। সিঁড়ির এক পাশে একটি সাইনর্বোড লাগানো হয়েছে। যেখানে লিখা আছে ‘কেন্দ্রীয় মন্দিরের প্রধান সিঁড়িপথ ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ায় উপরে উঠা থেকে বিরত থাকার জন্য সকলকে অনুরোধ করা হলো’।
সিঁড়ির খুঁটিতে উইপোকা ও ঘুন লেগে নষ্ট হয়ে গেছে। দর্শনার্থীদের সবচেয়ে বড় সমস্যা সিঁড়ি ব্যবহৃত না হওয়ায় মন্দিরের উপরে উঠতে পারছে না। যারা মন্দিরের উপরে উঠছেন তারা ঝুঁকি নিয়ে কষ্ট করে সিঁড়ির দুই পাশ দিয়ে উঠছেন। আর যারা পারছেন না তারা নিচ থেকে মন্দিরের চারিধার ঘুরে ফিরে যাচ্ছেন। দর্শনার্থীদের অভিযোগ- সংস্কারের সময় নি¤œমানের কাজ হওয়ায় কয়েক বছরের মধ্যে ব্রিজ ও সিঁড়ি ভেঙে গেছে।

বগুড়া জেলার মহাস্থানগড় থেকে আসা বিকাশ চন্দ্র দাস বলেন, সরকারি চাকরি থেকে সদ্য অবসর নিয়েছি। বন্ধুদের সাথে বেড়াতে আসছি। গত ৩০ বছর আগে এখানে একবার বেড়াতে এসেছিলাম। এখন অনেক উন্নয়ন হয়েছে। কষ্ট করে মন্দিরের উপরে উঠতে এবং নামতে হলো। প্রতিটি জিনিসের একটি সময়সীমা রয়েছে। যেহেতু সিঁড়িটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। দর্শনার্থীদের সুবিধার্থে সিঁড়িটি দ্রুত সংস্কার করা প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
পাহাড়পুর জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান আবু সাইদ ইনাম তানভিরুল বলেন, মহাপরিচালক মহোদয়কে চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি অবগত করা হয়েছে। তার নির্দেশনায় সাইনবোর্ড লাগিয়ে সিঁড়ি দিয়ে চলাচল আপাতত বন্ধ রাখা হয়েছে। যাতে দর্শনার্থীরা উপরে উঠা থেকে বিরত থাকে। কিন্তু তারপরও সিঁড়ির পাশ দিয়ে দর্শনার্থীরা উপরে উঠছে। চিঠির প্রেক্ষিতে প্রতœতত্ত্ব বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী গত ১৫ দিন আগে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে গেছেন। সংস্কার প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। গত ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে ৩ লাখ ৯৩ হাজার ২৮৬ জন দর্শনার্থীরা এসেছিলেন বলে জানান তিনি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ