• বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩৪ অপরাহ্ন |
শিরোনাম :
ড্রাম ট্রাকের পেছনে যাত্রীবাহি বাসের ধাক্কা, নিহত ৩ সৈয়দপুরে চিপস কারখানার ৫০ হাজার টাকা জরিমানা নীলফামারীতে ছাই ছড়িয়ে পরিবেশ দূষণের দায়ে অটো রাইস মিলের জরিমানা রাশিয়ার যুদ্ধে বাংলাদেশিসহ ২৯ দেশের নাগরিকদের পাচার সৈয়দপুর আর্মি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূঁজি বাজারে বিনিয়োগ বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ড: ১০ দিন পর স্কুল শিক্ষিকার মরদেহ উদ্ধার জয়পুরহাটে জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত কারাগারে নেওয়ার সময় ‘জয় বাংলা’ স্লোগান: পুলিশ আহত মাদকের টাকার জন্য বাবাকে পিটিয়ে হত্যা, ছেলে পলাতক আইজিপির ‘ক্রসফায়ার’ নিয়ে বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিল পুলিশ সদর দপ্তর

দীর্ঘ দিনেও ব্রীজ না হওয়ায়…

জয়পুরহাট প্রতিনিধি, ১৬ জানুয়ারী।। যোগাযোগ ব্যবস্থার দিক থেকে জয়পুরহাট দেশের অন্যান্য অঞ্চলের চেয়ে বেশ এগিয়ে থাকলেও সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদী কুলে হওয়ায় এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীসহ সাধারন মানুষ চরম ভোগান্তিতে রয়েছেন পঞ্চাশ বছর ধরে

এক তীরে স্কুল আর অপর তীরবর্তী গ্রামগুলো থেকে আসে শতশত শিক্ষার্থী, মাঝ খানে নদী বয়ে গেলেও সেখানে ৫০ বছর যাবত কোন সাঁকো বা ব্রীজ না থাকায় পায়ের নিচে এক বাঁশে ভর করে ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যাতায়াত করতে হয় কোমলমতি শিশুদের। একই কারনে উপস্থিতি কম বলে লেখাপড়ায় ব্যাঘাত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সরেজমিনে জানা গেছে, ১৯৭০ সালে স্থাপিত হয় জয়পুরহাট সদর উপজেলার মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। তুলশী গঙ্গা নদীর কোল ঘেঁষে পূর্ব তীরে রয়েছে স্কুলটি আর পশ্চিম দিকের ৪/৫টি গ্রাম থেকে আসে বিভিন্ন শ্রেনিতে অধ্যয়নরত প্রায় ২ শতাধিক শিক্ষার্থী।

এই গ্রামটির সাথে শহরাঞ্চল কিংবা অন্য গ্রামগুলোর যোগাযোগ ব্যবস্থা এমনিতেই বেশ নাজুক। সরু মেঠো পথ ছাড়া কোমলমতি শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য নেই কোন বিকল্প রাস্তা।

এ সব ধকল সহ্য করে পায়ে হেঁটে স্কুলের কাছে এসে নদী পাড় হতে হয় এক বাঁশে ভর করে। এ ব্যাপারে অনেক বিভিন্ন মহলে যোগাযোগ, তদবির আর অনুরোধ করেও কোন ফল হয়নি বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

মুরারীপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় স্কুল পরিচালনা কমিটির সভাপতি মেহেদী হাসান জানান, ‘আমার স্কুলের ক্যাচমেট এড়িয়া মুরারীপুর, পাইকপাড়া, গোবিন্দপুর ও গঙ্গা দাশপুর, এই ৪টি গ্রামের ১টি গ্রামে স্কুল আর নদীর ও পাড়ে ৩টি গ্রাম। এখানে নদী পাড়াপাড়ের কোন ব্যবস্থা নেই, এ ব্যাপারে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিস, এলজিইডিসহ বিভিন্ন দপ্তরে যোগাযোগ করে কোন ফল পাইনি। বিশেষ করে বর্ষা মৌসূমে স্কুলে আসতে খুবই অসুবিধা হয়, তখন ৪র্থ ও ৫ম শ্রেনির বাচ্চারা সাঁতরিয়ে নদী পাড় হলেও শিশু শ্রেনি থেকে ৩য় শ্রেনির বাচ্চারা তো তা পারে না, তাই স্কুলের উপস্থিতি কমে যায়, আমরা বড় জোর একটা বাঁশের ব্যবস্থা করে দিতে পারি।’

বর্ষাকালে নানা বয়সী এলাকাবাসীদের সাথে শিশু শিক্ষার্থীদের ভরসা খেয়া ঘাটের একটি মাত্র ডিঙ্গি নৌকা, আর শুকনো মৌসূমে নদীতে কোথাও হাঁটু জল আবার কোথাও বা গলা পর্যন্ত, ফলে পারাপার হতে হয় একটি বাঁশে চড়ে আর হাত দিয়ে শরীরের ভর সামলাতে হয় আরেকটি বাঁশে।

এ ভাবে যুগ যুগ ধরে স্কুলে আসা-যাওয়া করতে গিয়ে কত জন যে বই-খাতাসহ পানিতে পরে ভিজেছে তার হিসাব রাখা ভার। এমন বিরম্বনার কথা জানিয়ে অচিরে একটি সাঁকো বা ব্রীজের দাবী জানিয়েছে ভুক্তভোগী শিশু শিক্ষার্থীরা।

মুরারীপুর সরকারি প্রথমিক বিদ্যালয় দ্বিতীয় শ্রেনির শিক্ষার্থী সুমাইয়া আখতার, তৃতীয় শ্রেনির শিক্ষার্থী আনিকা আখতার, পঞ্চম শ্রেনির শিক্ষার্থী আভা মুনিসহ অন্যান্য শিক্ষার্থীরা জানায়, নদীর উপর কোন সাঁকো নাই বলে তারা ঠিক মত স্কুলে আসতে পারি না, নদীতে বাঁশের সাঁকো দিয়ে পাড় হওয়ার সময় অনেকে পা পিছলে পড়ে গিয়ে বই খাতাসহ আমরা ভিজে যায়। বর্ষার সময় তাদের অনেকেই স্কুলে আসতে পারে না। এ জন্য ব্রীজের খুবই প্রয়োজন বলেও শিক্ষার্থীরা দাবী করেছে।

ব্রীজ বিহীন নদী পারাপারের এমন দূর্ভোগ নিয়ে পঞ্চাশ বছর ধরে ভুগছে এই বিদ্যালয়টির কচি-কাচারা ছাড়াও পাশর্^বর্তী ৫/৭টি গ্রামের সর্ব সাধারনরা যাতায়াত বিরম্বনায় ভূগছেন বংশ পরম্পরায় । তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে বিনয়ের সাথে ব্রীজ নির্মানের আবেদন জানান শিক্ষকরা।
মুরারীপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক প্রনব চন্দ্র মন্ডলসহ স্থানীয়রা জানান, শুধু এই স্কুলের শিক্ষার্থীরাই নয়, আশ পাশের গ্রামগুলোর শত শত শিক্ষার্থী কলেজ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করছে, এ ছাড়া এখানকার সাধারন মানুষরা জয়পুরহাটসহ বিভিন্ন শহর-বন্দরে একই পথ ধরে যাতায়াত করছেন ওই একটি বাঁশেই ভর করে। তাই সরকার যদি ব্রীজটি সির্মান করে দেয় তাহলে স্কুলের শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি বাড়বে, সর্বোপরি এতদ অঞ্চলের মানুষের চলাফেরার সুবিধা হবে।

এ ব্যাপারে জয়পুরহাট জেলা সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আশরাফুল কবীর ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে এ সমস্যা সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যাবস্থা নেওয়ার আশ^াস দেন।

এ ব্যাপারে সরকারি নির্মান কাজের বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় এলজিইডি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে দীর্ঘ প্রক্রিয়ার পর ব্রীজটির নির্মান সম্ভব হবে বলে জানান জয়পুরহাট এলজিইডি’র নির্বাহী প্রকৌশলী এফ এম খায়রুল ইসলাম।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আর্কাইভ