সিসি নিউজ, ২৫ জানুয়ারী।। নিহত ছেলে প্রশান্ত রায়ের বই-খাতা আর টিনের বেড়ায় স্বহস্তে লেখা দেখে চোখের পানি ফেলে মা গীতা রায়। ভাইয়ের আদরের স্মৃতি মনে পড়তে ডুকরে কেঁদে ওঠে ছোট বোন পল্লবী রায়। খাতা-কলম কিনতে ৫০ টাকা পাঠানোর জন্য রাতেই কথা হয় বাবার সাথে মেয়েটার। তারপর! ভোর রাতেই ঘাতক ট্রাক কেড়ে নিল তার বাবাসহ ১৩টি প্রান।
গত বছর ২৫ জানুয়ারী কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে ভাটায় কয়লা বোঝাই ট্রাক উল্টে গিয়ে ঘুমন্ত ১৩ শ্রমিক নিহত হয়। নিহত শ্রমিকদের মধ্যে ছিল ১০ স্কুল ছাত্র। এদের সকলের বাড়ি নীলফামারী জেলার জলঢাকা উপজেলার নিজবাড়ি ও আরাজি শিমুলবাড়ি নামে দুটি গ্রামে। এক বছর অতিবাহিত হলেও আজও নিহতের স্বজনদের চোখে-মুখে শুন্যতার ছাপ।
এক বছর পরে গত শুক্রবার সরেজমিনে গ্রাম দুটিতে গিয়ে দেখা যায় সর্বত্রই যেন শুন্যতা আর শুন্যতা। অভাব-অনটনের সংসারে পড়াশুনার খরচ আর এক শ্রনীর ভাটা সর্দারের প্রলোভনে পরে বাবা-মায়ের অজান্তে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের একটি ভাটায় কাজ করতে গিয়েছিল ১১ স্কুলছাত্র। এদের মধ্যে ছিল মীরগঞ্জহাট উচ্চ বিদ্যালয়ের ১০ম শ্রেনীর ৭ সহপাঠি। প্রকৃতির ডাকে সাড়া দিতে বের হয় কৃষ্ণ রায়। ভাগ্যক্রমে সে বেঁচে গেলেও সহপাঠিদের জন্য মন কেঁদে ওঠে তার।
এবারো এ দুটি গ্রাম এবং পাশের গ্রাম থেকে অর্ধশতাধিক শ্রমিক কুমিল্লার ওই ভাটাসহ দেশের বিভিন্ন ভাটায় কাজ করছে। রয়েছে স্কুলছাত্র ও কম বয়সী বালকেরা। অভাবের সময় ভাটা সর্দারের দেয়া আগাম শ্রমবিক্রির টাকা পরিশোধ করতে বাধ্য হয়ে ভাটা শ্রমিকের কাজ করতে হয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, এতো বড় দূর্ঘটনার পরেও ওই ভাটা চালু রয়েছে কিভাবে? অপরদিকে স্কুল শিক্ষকদের দাবি, তাদের তৎপরতায় এবারে গরীব ছাত্ররা ঝুঁকিপূর্ণ এসব কাজে কমসংখ্যক গিয়েছে।
নীলফামারী জেলা প্রশাসক মো. হাফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, স্কুলছাত্র বা শিশুদের দিয়ে কাজ করানো হলে সেসব ভাটা মালিকদের লাইসেন্স নবায়ন করা হবে না।
উল্লেখ্য যে, নীলফামারীতে মোট ইটভাটা রয়েছে ৫৫টি। এর মধ্যে সৈয়দপুর উপজেলায় রয়েছে ৩২টি ইটভাটা। ফসলি জমিতে গড়ে ওঠা এসব ইটভাটায় মাটি পরিবহনে ট্রাক্টর ব্যবহার করায় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে রাস্তা-ঘাট।