রাজশাহী, ৯ মার্চ।। এখনও হাতের মেহেদির রঙই শুকোয়নি। লাল বেনারসি শাড়ি জড়ানো রয়েছে পরনেই। নতুনভাবে জীবনটা শুরুর আগেই পরপারে পাড়ি জমালেন নববধূ সুইটি খাতুন পূর্ণিমা (২০)। নৌকাডুবি কেড়ে নিলো তার জীবনের সব সাজানো স্বপ্ন।
নৌকাডুবির চারদিন পর সোমবার (৯ মার্চ) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহী মহানগরীর শাহাপুর এলাকার পদ্মা নদী থেকে উদ্ধার করা হয়েছে নববধূর মৃতদেহ। এ নৌকাডুবিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো নয়জনে।
রাজশাহী সদর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের সিনিয়র স্টেশন অফিসার আবদুর রব গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দুর্ঘটনার পর শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে রবিবার দুপুর পর্যন্ত নারী ও শিশুসহ সাত জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরা হলেন- পূর্ণিমার চাচা শামীম (৪০), চাচি মনি বেগম (৩৫), তাদের মেয়ে রশ্মি (১০), পূর্ণিমার দুলাভাই রতন আলী (২৮), ভাগনি মরিয়ম (৮), খালাতো ভাই এখলাস (২৮) ও ফুফাতো বোনের মেয়ে রুবাইয়া (১০)।
মর্মান্তিক এ দুর্ঘটনা থেকে ভাগ্যক্রমে বেঁচে ফিরেছেন বর আসাদুজ্জামান রুমনসহ ৩২ যাত্রী। তারা সবাই নববধূ পূর্ণিমার পরিবারের।
বরযাত্রীবাহী নৌকায় স্বামীসহ তিনি বসেছিলেন। এ সময় হঠাৎ নৌকাটি ডুবে যায়। একটি বালুবাহী ট্রলারের সহায়তায় স্বামী উদ্ধার হলেও সুইটি সে সময় স্বামীর কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। এরপর আজ তাঁর মৃতদেহ মিলল পদ্মায়।